এপস্টিনের নতুন নথি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন প্রিন্স উইলিয়াম ও ক্যাথরিন

প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্সেস ক্যাথরিনফাইল ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন-সংক্রান্ত নতুন নথি প্রকাশের ঘটনায় যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারে অস্বস্তি আরও বেড়েছে। এ নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানালেন প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্সেস ক্যাথরিন।

কেনসিংটন প্যালেস জানিয়েছে, এপস্টিন-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক নথি-ছবি ও ভিডিওর প্রকাশ তাঁদের ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’ করেছে। ‘ভুক্তভোগীদের’ বিষয়টি তাঁদের গভীরভাবে ভাবাচ্ছে।

আজ সোমবার কেনসিংটন প্যালেসের দেওয়া বিবৃতিতে উইলিয়াম ও ক্যাথরিন নিজেদের উদ্বেগের কথা জানান। কিন্তু বিবৃতিতে এপস্টিন নথিতে নাম আসা চাচা ও সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুর নাম উল্লেখ করা হয়নি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এসব নথি প্রকাশের পর নতুন করে চাপে পড়েছেন অ্যান্ড্রু।

কেনসিংটন প্রাসাদের এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করতে পারি, প্রিন্স ও প্রিন্সেস চলমান এই তথ্য প্রকাশের ঘটনা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ভুক্তভোগীদের নিয়েই তাঁরা বেশি উদ্বিগ্ন।’

এমন এক সময়ে এই বিবৃতি এল, যখন প্রিন্স উইলিয়াম সৌদি আরব সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সফরটি কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন প্রকাশিত নথিতে এমন কিছু ছবি ও ই-মেইল রয়েছে, যেগুলো অ্যান্ড্রুর অতীত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এর মধ্যে একটি ছবিতে তাঁকে এক নারীর ওপর দুই হাত ও হাঁটুতে ভর দিয়ে ঝুঁকে থাকতে দেখা যায়। ছবিটির সময় ও পটভূমি স্পষ্ট নয়।

আরেকটি বহুল আলোচিত ছবির সত্যতাও প্রায় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই ছবিতে অ্যান্ড্রুর পাশে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ভার্জিনিয়া জিউফ্রে ও এপস্টিনের সাবেক প্রেমিকা গিলেন ম্যাক্সওয়েলকে দেখা গেছে। এর আগে অ্যান্ড্রু দাবি করেছিলেন, ছবিটি ভুয়া এবং তিনি জিউফ্রের সঙ্গে কখনো দেখা করেননি।

নথিতে থাকা একটি ই-মেইলে ম্যাক্সওয়েল লিখেছেন, ২০০১ সালে লন্ডনে জিউফ্রের সঙ্গে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর দেখা হয়েছিল এবং তখনই ছবিটি তোলা হয়। যদিও অ্যান্ড্রু এসব অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে আসছিলেন। ২০২২ সালে জিউফ্রের সঙ্গে তাঁর মামলা নিষ্পত্তি হয়। নিষ্পত্তিতে দায় স্বীকার বা ক্ষমা প্রার্থনার কোনো বিষয় ছিল না।

বিবিসির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের পর টেমস ভ্যালি পুলিশ জানিয়েছে, তারা অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে আরেক নারীর অভিযোগ যাচাই করছেন। ওই নারী দাবি করেছেন, ২০১০ সালে এপস্টিনের মাধ্যমে তাঁকে যুক্তরাজ্যে এনে অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা হয়েছিল।

নথিতে আরও দেখা যায়, বাণিজ্যদূত হিসেবে দায়িত্বপালনকালে অ্যান্ড্রু কুখ্যাত এপস্টিনের সঙ্গে গোপন তথ্য ভাগাভাগি করেছিলেন। এসব তথ্যে বিদেশ সফরের প্রতিবেদন ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সংবেদনশীল বিষয় ছিল। এসব প্রকাশনা রাজপরিবারের জন্য নতুন করে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।