ব্যতিক্রমী এক ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন অস্ট্রিয়ার একদল গবেষক। তাঁরা দেখিয়েছেন, গরু নিজের প্রয়োজনে হাতিয়ারের ব্যবহার করতে পারে।
শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঘটনা সত্যি। ভিয়েনার ভেটেরিনারি মেডিসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখিয়েছেন, কীভাবে একটি গাভি লম্বা লাঠি, বাঁশের টুকরা বা লম্বা হাতলের ব্রাশ ব্যবহার করে নিজের পিঠ বা শরীরের অন্যান্য অংশ চুলকায়।
অস্ট্রিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্য ক্যারিনথিয়ার বাসিন্দা উইটগার উইগেলের পালিত গাভি ভেরোনিকা বছরের পর বছর মুখে লাঠি বা কাঠি কামড়ে ধরে নিজের শরীর চুলকায়। ভেরোনিকা একটি সুইস ব্রাউন জাতের গাভি।
উইগেলে বলেন, প্রায় এক দশক আগে ভেরোনিকা প্রথমবার পিঠ চুলকাতে কাঠের একটি টুকরা মুখে তুলে নিয়েছিল। পরে প্রাণীটি একটি লম্বা ব্রাশ ব্যবহার করতে শুরু করে।
উইগেলে বলেন, এমনকি ভেরোনিকার চামড়া যেখানে বেশি পুরু, সেখানে ব্রাশের দিকটি এবং যে অংশ একটু সংবেদনশীল, সেখানে হাতলের অংশ ব্যবহার করতে পছন্দ করে।
গবেষকেরা কারেন্ট বায়োলজি জার্নালে তাঁদের এই গবেষণা প্রকাশ করেছেন। গবেষকদের একজন ভিয়েনার ভেটেরিনারি মেডিসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কগনিটিভ বায়োলজিস্ট অ্যালিস আউয়ারস্পার্গ বলেন, ভেরোনিকার এই আচরণ গৃহপালিত প্রাণীর বুদ্ধিমত্তার পুনর্মূল্যায়নে সাহায্য করতে পারে।
নিজের চোখে ভেরোনিকার আচরণ পরীক্ষা করতে ক্যারিনথিয়ারে যান আউয়ারস্পার্গ, সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহকর্মী অ্যান্তনিও ওসুনা-মাস্কারো।
ওসুনা-মাস্কারো বলেন, ভেরোনিকা শুধু নিজের শরীর চুলকাতে একটি বস্তু ব্যবহার করে না। সে একই হাতিয়ারের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে। গবেষকেরা স্বীকার করেছেন যে ভেরোনিকার আচরণ গ্যারি লারসনের আঁকা ‘দ্য ফার সাইড’ কমিকের কথা মনে করিয়ে দেয়।