যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কি প্রধানমন্ত্রী স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন, জানা যেতে পারে আজ
দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে চাপের মুখে থাকা কিয়ার স্টারমার তাঁর মন্ত্রী ও এমপিদের সতর্ক করে বলেছেন, লেবার পার্টির নেতৃত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হলে ‘বিশৃঙ্খলা’ তৈরি হতে পারে। জল্পনা চলছে, তাঁর স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং শিগগিরই স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চলেছেন।
এদিকে নতুন কয়েকটি আইনের একটি প্যাকেজ ঘোষণা করে স্টারমার বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি এবং অসন্তোষ প্রকাশ করা এমপিদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। গতকাল বুধবার তিনি এ নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছেন।
মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে বৈঠকের আগে হাউস অব কমনসে দেওয়া বক্তৃতায় স্টারমার স্বাস্থ্য, আবাসন, অভিবাসনসহ বিভিন্ন খাতে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন।
গত সপ্তাহে ইংল্যান্ডজুড়ে স্থানীয় নির্বাচনের পাশাপাশি স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির পর দল থেকে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়েছে। এ ছাড়া অর্থনীতিসহ দেশটির নানাবিধ সমস্যার সমাধান নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দলীয় লোকজন তাঁর ওপর সন্তুষ্ট নন।
এরই মধ্যে তাঁর চারজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। নির্বাচনে ভরাডুরির পর এক ডজনের বেশি এমপি তাঁকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন।
স্ট্রিটিংয়ের সমর্থকেরা বিবিসিকে বলেন, লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য স্ট্রিটিং আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যেই স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ জানাবেন বলে তাঁরা আশা করছেন।
লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্বের জন্য প্রতিযোগিতায় নামতে হলে স্ট্রিটিংকে অন্তত ৮১ জন এমপির সমর্থন পেতে হবে।
স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার সকালে স্ট্রিটিং ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ২০ মিনিটের কম সময়ের জন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ জানাতে স্ট্রিটিং প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এমন তীব্র জল্পনা কয়েক দিন ধরে চলছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেছেন, স্ট্রিটিংয়ের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ‘পূর্ণ আস্থা’ আছে, তবে তাঁদের বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী স্টারমার পার্লামেন্টে লেবার এমপি ও মন্ত্রীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন এবং সহকর্মীদের বলেছেন, ‘আমরা কোনোভাবেই নেতৃত্বের প্রতিযোগিতাকে এমন একটি বিশৃঙ্খল পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারি না। একটি চ্যালেঞ্জ শতভাগ সেটাই করবে।’
বিবিসিকে জানানো হয়েছে, বুধবার প্রধানমন্ত্রী দুটি বৈঠক করেছেন—একটি প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে এবং অন্যটি জুনিয়র মন্ত্রীদের সঙ্গে। প্রতিটি বৈঠক প্রায় ১৫ মিনিট স্থায়ী হয়।