ফারাজের উত্থানই কি স্টারমারকে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে দিল

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ২২ জুন ২০২৬ছবি: রয়টার্স

কয়েক বছরের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার পর যুক্তরাজ্যে বাস্তবমুখী চিন্তাভাবনা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারেন, এমন নেতা হিসেবে একসময় সমাদৃত হয়েছিলেন কিয়ার স্টারমার। গতকাল সোমবার যখন তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়লেন, তখন দেখা গেল, যে নির্দিষ্ট আদর্শের অভাব তাঁকে ক্ষমতায় এনেছিল, সেটাই তাঁর পতনের কারণ হয়ে দাঁড়াল।

যুক্তরাজ্যের আধুনিক ইতিহাসে সংসদে সবচেয়ে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ২০২৪ সালে স্টারমারের নেতৃত্বে লেবার পার্টি ক্ষমতায় এসেছিল। এরপর তিনি যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা দেননি। এর বদলে তিনি শুধু ততটুকুই করার দিকে মনোযোগ দিয়েছিলেন, যতটুকু অর্জন করা সম্ভব বলে তিনি মনে করতেন।

দলের ভেতরের ২০ জনের বেশি সূত্র জানিয়েছে, অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক ভোটার ও দলের সদস্যদের কাছে মনে হতে থাকে, তাঁর মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও সুস্পষ্ট নির্দেশনার অভাব রয়েছে। দেশের জন্য তাঁর কাছে বড় কোনো পরিকল্পনা ছিল না।

লেবার পার্টির একজন জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতার মতে, স্টারমারের কোনো ‘সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য’ ছিল না। এ কারণে সাবেক এই আইনজীবী লেবার পার্টির ভেতরের নানা কোন্দলের শিকার হন এবং স্বার্থান্বেষী মহল তাঁকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। পাশাপাশি সতর্ক ভোটাররা তাঁকে ভুল বুঝতে শুরু করেন। অনেক ভোটার তাঁর সিদ্ধান্তহীনতা এবং যান্ত্রিক আচরণকে ঘৃণা করতে শুরু করেছিলেন।

পরামর্শের জন্য স্ত্রীর দ্বারস্থ হতেন

স্টারমারের নেওয়া নীতিগুলো প্রায়ই ব্যর্থ হচ্ছিল। এর জেরে তাঁর দল থেকে পদত্যাগ ও ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটতে থাকে। ‘যুক্তরাজ্যকে বদলে দিতে’ তাঁর সরকার আসলে কী করতে চায়, দেশবাসীর সামনে তার একটি পরিষ্কার ধারণা তুলে ধরতে তাঁর অবশিষ্ট বিশ্বস্ত সহযোগীরাও হিমশিম খাচ্ছিলেন।

৬৩ বছর বয়সী স্টারমার বিশ্বস্ত পরামর্শের জন্য ধীরে ধীরে তাঁর স্ত্রী ভিক্টোরিয়ার ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। লেবার পার্টির জন্য স্থানীয় নির্বাচনের ফল ছিল ভয়াবহ। এর জেরে তাঁর পদত্যাগের দাবি ওঠে। সেই নির্বাচনের ৫ দিন পর ১২ মে স্ত্রীর সঙ্গে বসে দীর্ঘ সময় ধরে দুপুরের খাবার খান তিনি। এরপর লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে ফিরে আসেন।

কিন্তু চেকারসে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি অবকাশযাপনকেন্দ্রে স্ত্রীর সঙ্গে কাটানো একটি ছুটির দিনই দৃশ্যত তাঁকে মত পাল্টাতে বাধ্য করে। তিনি বুঝতে পারেন, পতন অনিবার্য, তাই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

ডাউনিং স্ট্রিটে তাঁর কার্যালয় ও বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়ে স্টারমার বলেন, পরবর্তী লেবার নেতার কাছে সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য তিনি সবকিছু করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, পরবর্তী নেতা হতে পারেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম।

এক আবেগঘন বক্তৃতায় স্টারমার বলেন, ‘আমার দল এখন যে প্রশ্ন তুলছে, তা হলো আগামী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমিই সেরা ব্যক্তি কি না।’ এ সময় পরিবারকে তাঁদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে তাঁর গলা ধরে আসে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি আমার সংসদীয় দলের কাছ থেকে সেই প্রশ্নের উত্তর পেয়েছি এবং আমি সেই উত্তর হাসিমুখে মেনে নিচ্ছি।’

শেষমেশ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং বারবার নীতি বদলানোর কারণে ভোটারদের কাছে দারুণ অজনপ্রিয় হয়ে পড়েন স্টারমার। তিনি দেখতে পান, তাঁর দিক থেকে সবার সমর্থন সরে যাচ্ছে। এমনকি তাঁর মন্ত্রিসভার সবচেয়ে বিশ্বস্ত মিত্ররাও গোপনে তাঁকে অনুরোধ করেন, দলে কোনো ক্ষতিকর নেতৃত্বের লড়াইয়ে না গিয়ে তিনি যেন শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের সুযোগ করে দেন।

দলের বেশির ভাগ নেতা সিদ্ধান্ত নেন, স্টারমারকে নেতৃত্বে রেখে তাঁরা ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এ কথা শোনার পর প্রধানমন্ত্রীর পদ বাঁচাতে লড়াই করার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তা দ্রুতই হাওয়ায় মিলিয়ে যায়।

উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের একটি সংসদীয় আসনে বড় জয় পাওয়ার পর বার্নহামকে এখন ‘রিফর্ম স্লেয়ার’ বা রিফর্ম পার্টির ঘাতক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি এমন একজন রাজনীতিবিদ, যাঁর মধ্যে প্রবীণ ব্রেক্সিট প্রচারক নাইজেল ফারাজের জনতাবাদী দলটিকে ঠেকিয়ে রাখার সক্ষমতা রয়েছে।

স্টারমারকে সরানার পেছনে ‘ফারাজ-ভীতি’

আইনপ্রণেতা ক্যাথরিন ওয়েস্ট বলেন, ‘আমি ফারাজকে থামাতে যেকোনো কিছু করতে রাজি।’ তিনি ৯-১০ মের সাপ্তাহিক ছুটির দিনে প্রকাশ্যে আসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে অন্যদের বাধ্য করার চেষ্টা করেন।

পরিস্থিতি কখনো এমন হওয়ার কথা ছিল না।

২০১৫ সালে ৫২ বছর বয়সে লেবার পার্টির আইনপ্রণেতা হন স্টারমার। ঠিক পাঁচ বছর পরই তিনি দলের নেতা নির্বাচিত হন। তাঁর পূর্বসূরি প্রবীণ বামপন্থী নেতা জেরেমি করবিনের অধীনে ১৯৩৫ সালের পর সবচেয়ে খারাপ নির্বাচনী ফল করেছিল লেবার পার্টি। তখন দলটির বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষ ও ব্রেক্সিট নীতি নিয়ে তালগোলের অভিযোগ ছিল। এমন এক কঠিন সময়ে দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন স্টারমার।

স্টারমার আগে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) চালানোর দায়িত্বে ছিলেন। এটি একটি স্বাধীন সংস্থা, যা পুলিশকে পরামর্শ দেয় এবং আদালতে ফৌজদারি মামলা পরিচালনা করে। সেখানকার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি লেবার পার্টিকে আধুনিক করার চেষ্টা করেন। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল দলটিকে নির্বাচনে জেতার উপযুক্ত করে তোলা।

ডিরেক্টর অব পাবলিক প্রসিকিউশনস (ডিপিপি) বা যুক্তরাজ্যের শীর্ষ সরকারি কৌঁসুলি থাকার সময় তিনি যেভাবে কৌশলগতভাবে সমস্যার সমাধান করতেন, দলেও তা-ই করেছিলেন। প্রথমে তিনি দলের ভেতরের কথিত ইহুদিবিদ্বেষ ও দলাদলি দূর করেন। এরপর দলটিকে আর্থিকভাবে নিজের পায়ে দাঁড় করান। লেবার পার্টির সেরা আইনপ্রণেতাদের নিয়ে নিজের শীর্ষ দল গঠন করেন এবং সবশেষে যুক্তরাজ্যের চাহিদা মেটাতে প্রয়োজনীয় নীতি গ্রহণ করেন।

সে সময় স্টারমারের এক মুখপাত্র বলেছিলেন, ‘আমরা যা কিছুই দেব, তার ভিত্তি হবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির পরিকল্পনা।’

শুরুতে এটি কাজেও দিয়েছিল। তাঁর নতুনরূপে সাজানো লেবার পার্টি যুক্তরাজ্যের ৬৫০ আসনের সংসদে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয়লাভ করে। তবে বিশ্লেষকেরা তখনই সতর্ক করেছিলেন, দলের এই জয় খুবই নড়বড়ে। কারণ, লেবার পার্টি আসলে তাদের ইতিহাসের অন্যতম কম ভোট পেয়েছিল এবং তাদের জয় মূলত কৌশলগত ভোটের ওপর নির্ভরশীল ছিল।

১৪ বছরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ব্রেক্সিট নিয়ে লড়াই এবং ৮ বছরে পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী বদলের পর কনজারভেটিভ পার্টি একটি দল হিসেবে প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিল।

যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে সুপরিচিত জরিপকারী জন কার্টিস বলেন, ‘সব মিলিয়ে এটি এমন এক নির্বাচন মনে হচ্ছে, যেখানে লেবার পার্টির জেতার চেয়ে বরং কনজারভেটিভদের হারটাই বড় হয়ে ধরা পড়েছে।’

অর্জন নিয়ে হতাশা

নড়বড়ে এক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রা শুরু করেছিল স্টারমার সরকার। নির্বাচনী প্রচারের সময় তাদের অত্যন্ত সতর্ক নীতি পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে। পাশাপাশি আগে থেকেই একটি কথা চালু ছিল—আবাসন–সংকট থেকে শুরু করে দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মতো যুক্তরাজ্যের বড় বড় সমস্যা ঠিক হতে সময় লাগবে।

ক্ষমতায় আসার পর স্টারমারের সরকার প্রথমে তাদের কাজের পরিকল্পনা ঠিক করতে এবং পরে তা বাস্তবায়ন করতে হিমশিম খায়। তারা এমন এক প্রবৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দিয়েছিল, যা কখনোই আসেনি। তারা অবৈধ অভিবাসীদের আসা কমানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তারা আসতেই থাকে। আর স্বাস্থ্যব্যবস্থা ঠিক করতে গিয়ে একের পর এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে তারা।

বিরোধী দলে থাকার সময় স্টারমারের শীর্ষ দলের এক সদস্য বলেছিলেন, লেবার পার্টি সরকার চালানোর জন্য একদমই প্রস্তুত ছিল না। তিনি পুরোনো এক স্মৃতির কথা মনে করে বলেন, তাঁরা যখন নীতি তৈরির চেষ্টা করছিলেন, তখন তাঁদের ‘থামতে’ বলা হয়েছিল। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, সাধারণ নির্বাচনের আগে মানুষ যেন ভয় না পেয়ে যায়।

ওই ব্যক্তি স্মরণ করে বলেন, ‘যদি আমরা ক্ষমতায় যাই, তবে ক্ষমতায় গিয়ে কী করব, তার কোনো পরিকল্পনা আমাদের ছিল না। কারণ, আমরা ভয় পাচ্ছিলাম, এতে হয়তো দুর্ভাগ্য ডেকে আনতে পারে।’

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার
ছবি: রয়টার্স

কয়েক মাস পার হওয়ার পর, স্টারমার তাঁর সরকারের নানা অর্জন তুলে ধরার চেষ্টা করেন। যেমন কাজের পরিবেশ উন্নত করা, স্বাস্থ্যসেবার জন্য অপেক্ষার সময় কমানো এবং সুদহার কমানো যায় এমন একটি অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা।

কিন্তু কাজের ধরনে বেশ কয়েকবার পরিবর্তন আনার পরও যুক্তরাজ্যের এই নেতা সতর্ক জনগণকে আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হন। তাঁর এক সাবেক সহযোগী বলেন, স্টারমার এমন কোনো ‘গন্তব্য’ বা রূপরেখা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা দেখে ভোটাররা তাঁর সিদ্ধান্তগুলো বুঝতে বা মেলাতে পারতেন।

এর বদলে ভোটারদের চোখে শুধু দলের ভুলত্রুটিগুলোই ধরা পড়েছে। যেমন তহবিল সংগ্রহ নিয়ে কেলেঙ্কারি, বারবার নীতি বদল এবং লেবার পার্টির প্রবীণ নেতা পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত ও সাজাপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা সবার জানা থাকার পরও তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে এপস্টিনের কতটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, তা তাঁকে জানানো হয়নি বলে সাফাই গান স্টারমার। তাঁর এমন যুক্তিতে অনেকেই মনে করেন, তিনি হয়তো পরিস্থিতি সম্পর্কে একদমই খোঁজখবর রাখেন না অথবা নিজের প্রশাসনের ওপর তাঁর কোনো নিয়ন্ত্রণই নেই।

একজন সাবেক সহযোগী বলেন, ‘এটি একটি বাজে নিয়োগ ছিল।’ তিনি ইঙ্গিত দেন, অন্য দুজন সাবেক উপদেষ্টার চাপেই এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

দোষারোপের খেলায় কলঙ্কিত স্টারমার প্রশাসন

ডাউনিং স্ট্রিটের কার্যালয়ের ভেতরে হতাশা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

কিছু সহযোগী ডানপন্থী গণমাধ্যমের বৈরী আচরণকে দায়ী করেন। কিন্তু একের পর এক রদবদলের পরও একজন উপদেষ্টার ভাষায়, দেশের ভেতরের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে ‘নিজের আবেগ ও আন্তরিকতা’ দেখাতে ব্যর্থ হন স্টারমার।

ম্যান্ডেলসন কেলেঙ্কারির জেরে স্টারমার তাঁর সাবেক চিফ অব স্টাফস মরগান ম্যাকসুইনিসহ বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাকে হারান। আর পররাষ্ট্র দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার পর যুক্তরাজ্যের সরকারি কর্মকর্তাদের (সিভিল সার্ভিস) সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়।

তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্টারমার তুলনামূলক ভালো করেছিলেন।

ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের বিষয়ে স্টারমার অন্য ইউরোপীয় নেতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। শান্তিচুক্তির ক্ষেত্রে সাহায্য করতে ইচ্ছুক দেশগুলোকে নিয়ে একটি জোট গঠনে তিনি বড় ভূমিকা রাখেন। এ ছাড়া ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে মিলে হরমুজ প্রণালি আবার চালুর আলোচনাতেও তিনি নেতৃত্ব দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন জয় করার ক্ষেত্রেও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিছুটা সফল হয়েছিলেন। তিনি প্রায়ই ট্রাম্পের অহংকারকে প্রশ্রয় দিতেন। তাঁকে দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি ইউক্রেনে শান্তি ফেরানো এবং অন্যান্য সংঘাত অবসানে ট্রাম্পের প্রচেষ্টার প্রশংসাও করেছিলেন তিনি।

কিন্তু ইরানে যুদ্ধে জড়াতে যুক্তরাজ্য অস্বীকৃতি জানানোর পর মার্কিন নেতার সেই প্রশংসার জায়গা দখল করে নেয় তীব্র উপহাস। স্টারমারকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, তিনি কোনো উইনস্টন চার্চিল নন।

গত রোববার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প পোস্ট করেন, ‘যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন কিয়ার স্টারমার। তিনি দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন—অভিবাসন এবং জ্বালানি (উত্তর সাগরের তেল উন্মুক্ত করা)। আমি তাঁর মঙ্গল কামনা করি।’

সম্ভবত স্টারমারের সবচেয়ে বড় নেতিবাচক কীর্তি হয়ে থাকবে যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী দ্বিদলীয় ব্যবস্থায় ফাটল ধরানো।

ইংল্যান্ডের স্থানীয় নির্বাচন এবং স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের সংসদীয় নির্বাচন প্রমাণ করেছে, যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী দ্বিদলীয় ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। এর বিপরীতে পুরো দেশেই শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে রিফর্ম পার্টি।

লেবার পার্টির সদস্যসংখ্যা কমলেও রিফর্ম পার্টির সদস্যসংখ্যা বেড়েছে, যেখানে নতুন করে ২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ যোগ দিয়েছেন। স্টারমার ভেবেছিলেন, এই হুমকির কারণেই দলের সবাই তাঁকে সমর্থন করবে। ফেব্রুয়ারিতে তিনি তাঁর লেবার পার্টিকে বলেছিলেন, রিফর্মের সঙ্গে এই লড়াই হলো ‘আমাদের জীবনের লড়াই’।

শেষ পর্যন্ত এই লড়াইয়ে স্টারমার হেরেই গেলেন।