গবাদিপশুতে ছড়ানো ‘শামোন্ডা ভাইরাস’ মানুষের শরীরে শনাক্ত, রোগীর মৃত্যু

ফ্রান্সের লিঁও শহরের কাছে একটি তৃণভূমিতে খাবার খাচ্ছে কয়েকটি গরুফাইল ছবি: এএফপি

ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে শামোন্ডা ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

গুরুতর অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, এমন এক ব্যক্তির শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। লিঁও শহরে অবস্থানরত এ রোগীর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা মারাত্মকভাবে দুর্বল ছিল। অক্টোবরের শুরুর দিকে তিনি মারা যান। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, ওই সংক্রমণের কারণেই তিনি মারা গেছেন কি না কিংবা তাঁর মৃত্যুর পেছনে ভাইরাসটির কোনো ভূমিকা আছে কি না।

ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভাইরাসটি সম্পর্কে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, সাধারণ মানুষের জন্য এখনো এ নিয়ে কোনো জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি শনাক্ত হয়নি। এত দিন শামোন্ডা ভাইরাসকে এমন একটি ভাইরাস হিসেবে বিবেচনা করা হতো, যা মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে না।

ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্ব ফ্রান্সে রক্তচোষা মাছির মতো কিছু ক্ষুদ্র পতঙ্গের কামড়ে ওই ব্যক্তি সম্ভবত সংক্রমিত হয়েছিলেন।

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, ‘এটি অত্যন্ত ব্যতিক্রমী একটি ঘটনা। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা মারাত্মকভাবে দুর্বল এমন একজন রোগীর ক্ষেত্রে এমনটা ঘটেছে।’

শামোন্ডা ভাইরাস সাধারণত কামড়ানো মাছি বা ডাঁশজাতীয় ক্ষুদ্র পতঙ্গের মাধ্যমে প্রাণীদের মধ্যে ছড়ায়। ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি নাইজেরিয়ায় প্রথম ভাইরাসটি শনাক্ত হয়। এরপর পশ্চিম, পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি জাপানেও বিভিন্ন সময় গবাদিপশুর মধ্যে এর সংক্রমণ দেখা গেছে। চলতি বছরের গ্রীষ্মে ইউরোপের গবাদিপশুর খামারেও প্রথমবারের মতো ভাইরাসটি শনাক্ত হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্ব ফ্রান্সে রক্তচোষা মাছির মতো কিছু ক্ষুদ্র পতঙ্গের কামড়ে ওই ব্যক্তি সম্ভবত সংক্রমিত হয়েছিলেন। বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে ওই অঞ্চলের প্রাণীদের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়াচ্ছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি নাইজেরিয়ায় প্রথম ভাইরাসটি শনাক্ত হয়। এরপর পশ্চিম, পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি জাপানেও বিভিন্ন সময় গবাদিপশুর মধ্যে এর সংক্রমণ দেখা গেছে। চলতি বছরের গ্রীষ্মে ইউরোপের গবাদিপশুর খামারেও প্রথমবারের মতো ভাইরাসটি শনাক্ত হয়।

ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোলকে এ বিষয়ে অবহিত করেছে।