৬৭৩টি হীরায় খচিত মিসরের রানির হার চুরি

হীরাখচিত সেই হার গলায় মিসরের রানি নাজলি (ডানে)। ১৯৩৯ সালে কায়রোতে রাজকুমারী ফাওজিয়ার বিয়েতে তিনি হারটি পরেছিলেন। ছবিতে আরও রয়েছেন (বাঁ থেকে) রানি ফারিদা, রাজা ফারুক ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদছবি: বেটম্যান আর্কাইভ

দুঃসাহসিক এক চুরির ঘটনা ঘটেছে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার একটি জাদুঘরে। ওই জাদুঘরে কাচের বাক্সে রাখা ছিল মিসরের রানি নাজলির ব্যবহৃত একটি হীরার হার। প্রায় ২০০ ক্যারেট ওজনের হারটি ৬৭৩টি হীরায় খচিত। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে দর্শনার্থীদের চোখের সামনে থেকে হারটি চুরি হয়ে গেছে।

ভিয়েনার মিউজিয়াম অব অ্যাপ্লায়েড আর্টসে চলছিল বিশেষ এক প্রদর্শনী। দর্শনার্থীদের ভিড়ে সাধারণ মানুষের মতোই জাদুঘরে ঢুকেছিল দুই ব্যক্তি। হাতুড়ির আঘাতে কাচ ভেঙে মাত্র কয়েক সেকেন্ডে হারটি নিয়ে চম্পট দেয় তারা। ঘটনা এত দ্রুত ঘটে যে উপস্থিত দর্শনার্থীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই হারটি উধাও।

ভিয়েনা পুলিশ জানিয়েছে, অন্য সাধারণ দর্শনার্থীদের মতোই টিকিট কেটে জাদুঘরে প্রবেশ করে ওই দুই ব্যক্তি। কোনো মুখোশও ছিল না তাদের। জাদুঘরে ঢুকেই তারা সরাসরি মূল প্রদর্শনী কক্ষে চলে যায়। এরপর কাচের বাক্স ভেঙে নিয়ে যায় হারটি।

অপরাধীদের ধরতে ভিয়েনাজুড়ে প্রশিক্ষিত কুকুর ও বিশেষ দল নিয়ে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে সবার সহায়তা চেয়েছে পুলিশ।

মিসরের রানি নাজলির ৬৭৩টি হীরাখচিত হার
ছবি: এএফপি

স্থানীয় গণমাধ্যম দ্য ক্রোনেন জানিয়েছে, কোনো আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের ভাড়াটে সদস্য হিসেবে ওই দুজন হারটি চুরি করেছে বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার আকস্মিকতায় জাদুঘরের প্রদর্শনীটিও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

১৯৩৯ সালে মিসরের তৎকালীন রানি নাজলি তাঁর মেয়ে ফাওজিয়ার বিয়েতে হারটি পরেন। রাজকুমারী ফাওজিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল ইরানের তৎকালীন যুবরাজ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির। বিশ্বখ্যাত ফরাসি অলংকার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভ্যান ক্লিফ অ্যান্ড আর্পেলসের তৈরি এ হার ২০১৫ সালে নিলামে তোলা হয়েছিল। ওই নিলামে হারটি প্রায় ৪৩ লাখ ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫০ কোটি টাকার বেশি) বিক্রি হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের বেশ কিছু দেশে জাদুঘরে এমন চুরির ঘটনা ঘটছে। কিছুদিন আগেই ফ্রান্সের প্যারিসে ল্যুভর মিউজিয়ামে, স্পেনের ব্রোঞ্জ যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহশালা ও ইতালির মেসিনা জাদুঘর থেকেও মূল্যবান শিল্পকর্ম ও প্রাচীন গয়না খোয়া গেছে। ইউরোপের পুলিশ সংস্থা ‘ইউরোপোল’ এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, অপরাধীরা এখন দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তারা বড় হাতুড়ি ও কুড়াল দিয়ে দ্রুত ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে জাদুঘরে চুরি–ডাকাতি করে যাচ্ছে।