ওই বিতর্কের আয়োজন করে বিবিসি। এর প্রায় পুরো অংশে ছিল যুক্তরাজ্যে দিন দিন বাড়তে থাকা মুদ্রাস্ফীতি এবং কর পরিকল্পনার মতো অর্থনৈতিক বিষয়গুলো। ট্রাস যে কর ছাড়ের পরিকল্পনা করেছেন, তার কঠোর সমালোচনা করেন ঋষি সুনাক। বিতর্কে তিনি বলেন, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে যুক্তরাজ্যের লাখো মানুষ দুর্দশায় পড়বেন। এমনকি আগামী সাধারণ নির্বাচনে তাঁদের দল কনজারভেটিভ পার্টিকে এর মূল্য দিতে হবে।অন্যদিকে ট্রাসের অভিমত, সুনাক যে কর বৃদ্ধি করেছেন, তা দেশকে বড় ধরনের মন্দায় ফেলবে।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় বিমার বাড়তি সুবিধা ও বাণিজ্যিক কর বাড়ানোর পরিকল্পনা বাতিল করতে চান লিজ ট্রাস। তবে ঋষি সুনাক বলছেন, যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত কোনো কর ছাড় দেবেন না তিনি।

একাধিক কেলেঙ্কারির জেরে সুনাকসহ একাধিক মন্ত্রীর পদত্যাগের মুখে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বরিস পদত্যাগের ঘোষণা দেন। বিবিসির বিতর্কে সুনাক বলেন, করোনা মহামারির কারণে যুক্তরাজ্যের বিপুল অঙ্কের খরচ হয়েছে। এতে বেড়েছে দেশটির ঋণ। এই ঋণের বোঝা শেষ পর্যন্ত বইতে হবে দেশের পরবর্তী প্রজন্মগুলোকে। তবে এ নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তা করতে নারাজ ট্রাস। তিনি বলেন, তিন বছরের মধ্যে ওই ঋণ পরিশোধ করা শুরু করবে যুক্তরাজ্য।

বিতর্কের পুরো সময় দুজনই উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেছেন, চোখ রাঙিয়েছেন। ট্রাসের সমর্থকদের অভিযোগ, বিতর্কের সময় অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিলেন সুনাক। তবে এ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন সুনাকের সমর্থকেরা। অবশ্য বিতর্কের পর বেশ নরম সুরেই কথা বলেছেন দুজনই। সুনাকের উদ্দেশে ট্রাস বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে সুনাককে তাঁর মন্ত্রিসভায় পেলে ভালোই হবে। অপরদিকে রাশিয়াকে নিয়ে ট্রাসের অবস্থানের প্রশংসায় মাতেন সুনাক।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন