ক্রেমলিন বলেছে, ক্ষতিপূরণের নাম করে পশ্চিমা দেশগুলো যেন রাশিয়ার আন্তর্জাতিক রিজার্ভের নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারে, এ নিয়ে কাজ করবে তারা। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ অভিযোগ তুলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলো ডাকাতিকে বৈধতা দেওয়া এবং ব্যক্তিগত সম্পদ ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করার চেষ্টা করছে।

সাধারণ পরিষদে পাস হওয়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে রাশিয়া যেসব অন্যায় করেছে, এর জন্য অবশ্যই দেশটিকে আইনি পরিণাম ভুগতে হবে। ইউক্রেনকে নিয়ে সদস্যদেশগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ ও প্রমাণাদি টুকে রাখতে আন্তর্জাতিক রেজিস্টার খোলার সুপারিশ করা হয়েছে প্রস্তাবে।

প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার দেওয়া ক্ষতিপূরণ এখন আন্তর্জাতিক আইনি বাস্তবতার অংশ। এদিকে প্রস্তাব উত্থাপনের আগে জাতিসংঘে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসিলিস্তিসা বলেন, যুদ্ধে কারখানা, আবাসিক ভবন, হাসপাতাল—সবই ধ্বংস করেছে রাশিয়া।

যুদ্ধে ধ্বংস হওয়া এসব অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন সের্গেই কিসিলিস্তিসা। তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়ার শুরু করা এ যুদ্ধে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁরা ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত এ ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সম্পূর্ণ হবে না। রাশিয়াকে জবাবদিহির আওতায় আনার এখনই সময়।’

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পাস হওয়া এই প্রস্তাব ত্রুটিপূর্ণ আখ্যায়িত করেছেন জাতিসংঘে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভাসিলি নেবেনজিয়া। তিনি এ প্রস্তাবকে অকার্যকর আখ্যায়িত করে প্রত্যাখ্যান করেন। একই সঙ্গে নেবেনজিয়া অভিযোগ তুলেছেন, পশ্চিমারা সংঘাত দীর্ঘায়িত ও আরও খারাপ করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১৯৩ সদস্যদেশের মধ্যে ৯৪টি প্রস্তাবের পক্ষে এবং রাশিয়া, চীন, ইরানসহ ১৪ দেশ এর বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। এদিকে বাংলাদেশসহ অন্য দেশগুলো ভোটদানে বিরত ছিল। গত অক্টোবরে ইউক্রেনের চার অঞ্চল রাশিয়ার অংশ করার নিন্দা প্রস্তাবে ১৪৩টি দেশ পক্ষে ভোট দিয়েছিল।