লন্ডনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দূতাবাস উদ্বোধন
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দূতাবাস চালু হয়েছে। গতকাল সোমবার এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দূতাবাসের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় ফিলিস্তিন ও যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এটিকে ব্রিটিশ–ফিলিস্তিন সম্পর্কের মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত।
পশ্চিম লন্ডনে অবস্থিত ফিলিস্তিনি দূতাবাসটি আগে ফিলিস্তিনি মিশন নামে পরিচিত ছিল। দূতাবাসের বাইরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত হুসাম জুমলত বলেন, ‘আজ আমরা এখানে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত স্মরণ করতে উপস্থিত হয়েছি।’
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার কারণে সৃষ্ট মানবিক পরিস্থিতিতে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেয় যুক্তরাজ্য। ওই ঘোষণার পর লন্ডনে অবস্থিত ফিলিস্তিনি মিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে দূতাবাসের মর্যাদায় উন্নীত করা হয়। যুক্তরাজ্যের পর অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ কয়েকটি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত বলেন, এটি শুধু নামের পরিবর্তনই নয়, বরং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে একটি অগ্রগতি। সম্মিলিতভাবে নতুন বছর শুরু করার কী দারুণ একটি পন্থা। এটি ব্রিটিশ–ফিলিস্তিনি সম্পর্কের ক্ষেত্রে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক এবং ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধীনতা ও লক্ষ্যে পৌঁছানোর দীর্ঘ যাত্রার একটি ধাপ।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধি হিসেবে কূটনীতিক এলিস্টেয়ার হ্যারিসন উপস্থিত ছিলেন। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের পর তিনি বলেন, এটি একটি আশাব্যঞ্জক মুহূর্ত। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি নতুন ধাপের সূচনা।’ তবে ফিলিস্তিনে দূতাবাস খুলতে যুক্তরাজ্য কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি।
পশ্চিম তীরে বিধিনিষেধ
এদিকে দখল করা পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করতে একটি নতুন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চালু করছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। সোমবার এ ঘোষণা দেয় তারা। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, পশ্চিম তীরে প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে যাদের চলাচল সীমিত করা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাদের পর্যবেক্ষণ করতে প্রযুক্তিগত যন্ত্র স্থাপন করতে নিরাপত্তা বাহিনীকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কেউ আদেশ অমান্য করলে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তা পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
সম্প্রতি পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ফিলিস্তিনিদের হামলার শিকার হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। অপর দিকে ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে—এমন অভিযোগও শোনা যাচ্ছে। এমন পটভূমিতে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দেশটির গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।