ইউক্রেনীয় টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া বক্তব্যে কিয়েভের মেয়র ক্লিৎসকো তাঁর দেশের অবকাঠামোর ওপর রাশিয়ার হামলাকে ‘সন্ত্রাসবাদ’ ও ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর আশঙ্কা, শহরটি পুরোপুরি বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, ‘রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে ইউক্রেনীয়দের প্রয়োজনীয়তা নেই। তাঁর প্রয়োজন ভূখণ্ড, আমাদের বাদ দিয়েই তাঁর ইউক্রেনকে দরকার। সে কারণে এখন যা কিছু ঘটছে (অবকাঠামোর ওপর হামলা) তা গণহত্যা। তাঁর কাজ হলো আমাদের মেরে ফেলা, হিমাগারে রেখে দেওয়া কিংবা দেশ ছেড়ে পালাতে আমাদের বাধ্য করা, যেন তিনি আমাদের ভূখণ্ড দখল করতে পারেন।’

ক্লিৎসকো বলেন, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে কর্তৃপক্ষ সাধ্যমতো সব ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে ভিন্ন ধরনের পরিস্থিতির জন্যও প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে চান তিনি।

৫১ বছর বয়সী এ মেয়র মনে করেন, কিয়েভের বাসিন্দাদের উচিত সংকটের পরিস্থিতিতে যেন তাঁরা শহরটির কাছের এলাকায় বসবাসকারী বন্ধু-স্বজনদের (যাদের পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা সচল আছে) সঙ্গে থাকতে পারার মতো ব্যবস্থা করে রাখেন।

ক্লিৎসকো বলেন, কর্তৃপক্ষ জ্বালানি, খাদ্য ও পানি মজুত করছে এবং তিনি কিয়েভের বাসিন্দাদেরও তা করার পরামর্শ দিয়েছেন।

শীতকালে কিয়েভে গড় তাপমাত্রা মাইনাসে তথা হিমাঙ্কের নিচে থাকে। রাতে তাপমাত্রা আরও কমে যায়। মেয়র বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় লোকজন যেন উষ্ণ থাকতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে শহরজুড়ে কমপক্ষে ১ হাজার উষ্ণ আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে।

কিয়েভের নিরাপত্তা পরিচালক রোমান টিকাচুক এক টেলিগ্রাম পোস্টে মেয়রের সতর্কবার্তা প্রতিধ্বনিত করেছেন।