গত বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের জন্য অতিরিক্ত ২৫০ কোটি ডলারের অস্ত্রসহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। এই প্যাকেজে আরও সাঁজোয়া যান ও গোলাবারুদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফিনল্যান্ড নতুন করে ৪৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার সমপরিমাণের অস্ত্রসহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। তবে এর মধ্যে জার্মানির তৈরি ভারী লেপার্ড-২ ট্যাংক নেই।

জার্মানি বলছে, মিত্রদের মধ্যে মতৈক্য হলেই কেবল এই ট্যাংক পাঠানো যাবে। ইউরোপজুড়ে ন্যাটো সেনাবাহিনীতে বিপুলসংখ্যক লেপার্ড ট্যাংক আছে। ইউক্রেনের জন্য এ ধরনের ট্যাংক সবচেয়ে উপযুক্ত বলে আসছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। তবে এই ট্যাংক রপ্তানির যেকোনো সিদ্ধান্ত আটকে দেওয়ার ক্ষমতা বার্লিনের হাতে রয়েছে।

এদিকে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনকে ট্যাংক সরবরাহ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির মধ্যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। জার্মান কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভকে এম১ আব্রামস ট্যাংক সরবরাহ না করা পর্যন্ত লেপার্ড ট্যাংক দেবে না বার্লিন। এমনকি অন্য দেশের হাতে থাকা জার্মানির তৈরি এসব ট্যাংকও সরবরাহ করতে দেওয়া হবে না। তবে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেশির অজুহাত দেখিয়ে কিয়েভকে নিজেদের ট্যাংক দেওয়ার চিন্তাভাবনা নেই বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।

গত মঙ্গলবার জার্মানির ভাইস চ্যান্সেলর রবার্ট হাবেক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি ইউক্রেনে ট্যাংক পাঠায়, সেটা জার্মানির জন্যও কাজটি সহজ করে দেবে।’ পরদিন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজও একই ধরনের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কখনোই নিজেরা একা কিছু করি না; মিত্রদের সঙ্গে নিয়েই করি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ।’ তবে জার্মানির এমন অবস্থানে অস্বস্তিতে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘তারা আমাদের জটিল পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।’ জার্মানি ট্যাংকের বদলে ট্যাংক চাইছে। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অন্যান্য প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে লেপার্ড পাঠানোর বিষয়ে তারা নমনীয় হচ্ছে না।

অতিরিক্ত ট্যাংক কাজে দেবে না: ক্রেমলিন

এদিকে রাশিয়া বলছে, ইউক্রেনকে অতিরিক্ত ট্যাংক সরবরাহের ফলে যুদ্ধের বর্তমান গতিপ্রকৃতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। এই যুদ্ধে ইউক্রেন জিতবে—এমন ‘মতিভ্রমের’ জন্য পশ্চিমারা অনুতপ্ত হবে বলেও ক্রেমলিন মন্তব্য করেছে। গতকাল ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বারবার বলে আসছি, এ ধরনের অস্ত্র সরবরাহ মৌলিক কোনো পরিবর্তন আনবে না, বরং এটি ইউক্রেন ও দেশটির জনগণের সমস্যা বাড়াবে।’ তিনি বলেন, এই সংঘাতে ন্যাটো দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান পরোক্ষ এবং কখনো কখনো প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা দেখতে পাচ্ছি।

রাশিয়ার দখলে নতুন এলাকা

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে নতুন একটি এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে রুশ বাহিনী। বাখমুতের দক্ষিণে ক্লিশ্চিভকা এলাকাটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছেন রুশপন্থী যোদ্ধারা। গতকাল দোনেৎস্কের রুশ-সমর্থিত বাহিনী এ দাবি করে।