ইভি গাড়ি থেকে বাড়িঘরে বিদ্যুৎ
সুইডেনের হুডিকসভাল শহরের উপকণ্ঠে একটি ছোট হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন। সেখানকার বাসিন্দারা কাজ শেষে বাড়ি ফেরেন। এরপর বৈদ্যুতিক গাড়িগুলো (ইভি) চার্জে বসান। তবে মজার ব্যাপার হলো, তাঁরা শুধু গাড়িই চার্জ করেন না, উল্টো গাড়ি থেকে বাড়ির বিদ্যুতের চাহিদাও মেটান।
এই দ্বিমুখী বিদ্যুৎ বিনিময়ের ফলে সেখানকার আটটি পরিবারের অনেক বিদ্যুৎ বিল বেঁচে যাচ্ছে। ৩৩ বছর বয়সী বিক্রয়কর্মী ফিলিপ কিলটর্প সেখানকারই একজন বাসিন্দা। তিনি এএফপিকে এমন তথ্য জানান।
নিজের বৈদ্যুতিক গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে ফিলিপ কিলটর্প বলেন, ‘বাড়িতে বিদ্যুতের চাহিদা যখন বেশি থাকে, তখন আমরা গাড়ি থেকে বিদ্যুৎ নিই।’ ফ্ল্যাটের গ্যারেজগুলোর চার্জিং পয়েন্টের সঙ্গে গাড়িগুলো যুক্ত থাকে। ঐতিহ্যবাহী লাল রঙের এই ভবনগুলোর চারপাশে রয়েছে বার্চ গাছ ও একটি বড় গলফ কোর্স।
বৈদ্যুতিক গাড়িগুলো যখন ব্যবহার করা হয় না, তখন এর ব্যাটারিতে অনেক বাড়তি বিদ্যুৎ জমা থাকে। কিন্তু দ্বিমুখী (বাই-ডিরেকশনাল) চার্জার থাকলে এই জমানো বিদ্যুৎ সহজেই আবার গ্রিডে ফেরত পাঠানো যায়। এই বিদ্যুৎ দিয়ে ফ্ল্যাটের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, আলো ও অন্যান্য সিস্টেম চালানো সম্ভব হয়।
পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে একটি সফটওয়্যার। ফ্ল্যাটে বিদ্যুতের চাহিদা যখন কম থাকে, অর্থাৎ অফ-পিক আওয়ারে গাড়ির ব্যাটারিগুলো চার্জ হওয়ার বিষয়টি সফটওয়্যারটি নিশ্চিত করে। আবার বিদ্যুতের চাহিদা ও দাম যখন সবচেয়ে বেশি থাকে (পিক আওয়ার), তখন এই সফটওয়্যার বিদ্যুতের প্রবাহ ঘুরিয়ে দেয়। তখন ব্যাটারি থেকে স্থানীয় পাওয়ার গ্রিডে বিদ্যুৎ ফিরে যায়। লোডশেডিংয়ের সময়ও একই কাজ করে এটি।
এই প্রকল্পের মূল কারিগর ক্লাস বোমান। তিনি জানান, এই পদ্ধতি স্থানীয় বিদ্যুৎ গ্রিডকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ বিলও কমে আসে।
ফিলিপ কিলটর্প বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এখানে থাকার খরচ কম।’ তিনি আরও বলেন, ‘অফিসে বা বন্ধুদের আড্ডায় বারবার বিদ্যুৎ বিলের বিষয়টি উঠে আসে। অন্যান্য বাড়ির মালিকদের সমান বিদ্যুৎ ব্যবহার করেও আমাদের বিল আসে অনেক কম।’ কিলটর্প জানান, অন্যান্য নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস থেকেও এই ফ্ল্যাটগুলোতে বিদ্যুৎ আসে। ফলে এগুলো এখন ‘প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ’।