ইইউতে কিশোরদের মডার্নার টিকা দেওয়ার অনুমতি

মডার্নার তৈরি করোনাভাইরাসের টিকা
ছবি: রয়টার্স

করোনা সংক্রমণ এড়াতে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোরদের মডার্নার টিকা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইউরোপিয়ান মেডিসিনস এজেন্সি (ইএমএ)। ইউরোপের এ ওষুধ সংস্থার পক্ষ থেকে কিশোর বয়সীদের জন্য এটি দ্বিতীয় টিকার অনুমোদন। এর আগে গত মে মাসে ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকার অনুমোদন দিয়েছিল ইএমএ।

ইএমএ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্নার তৈরি টিকার দুই ডোজ চার সপ্তাহ ব্যবধানে প্রয়োগ করতে হয়। শুক্রবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওষুধ সংস্থার পরামর্শ মেনে ইউরোপিয়ান কমিশন এখন মডার্নার টিকার ব্যবহার বাড়াবে।

তবে ইউরোপের এ পদক্ষেপ এখন সমালোচনার মুখে পড়েছে। কারণ, কোভিড আক্রান্ত হয়ে এশিয়া ও আফ্রিকায় কোটি কোটি বয়স্ক মানুষ এখনো ভুগছে। অনেকেই মারা যাচ্ছে। সেখানে ইউরোপের চেয়ে করোনার টিকাদান হারও কম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে সারা বিশ্বে টিকা দিতে ধনী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

কিশোরদের টিকা দেওয়ার বিষয়টি সমর্থনকারীরা বলছেন, তাদের টিকা দেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ইউরোপজুড়ে এখন অতি সংক্রামক করোনার ডেলটা ধরন ছড়িয়ে পড়ছে। কিছু অঞ্চলে সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের লক্ষ্য পূরণে কিশোরদের টিকা দিতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, অধিকাংশ শিশু করোনায় খুব মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয় না, তবে তারা ঝুঁকিতে থাকে এবং এর বাহক হিসেবে কাজ করতে পারে।

ইএমএ বলছে, মডার্নার টিকা নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছে তারা। ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৩ হাজার ৭৩২ কিশোরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী যুবকদের মতোই ফল পাওয়া গেছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, যারা টিকা পেয়েছে, তারা কেউ করোনায় সংক্রমিত হয়নি।

মডার্নার তৈরি স্পাইকভ্যাক্স নামের টিকাটি ইতিমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রাপ্তবয়স্কদের দেওয়া হচ্ছে। ফাইজারের আরএনএ টিকার মতোই মডার্নার টিকায় থাকা আরএনএ নতুন অ্যান্টিবডি তৈরি করে, যা শরীরকে কোভিড সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করে।

স্পাইকভ্যাক্স টিকাটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রাপ্তবয়স্কদেরও দেওয়া হচ্ছে। এ দুটি দেশে কিশোরদের টিকাটি দেওয়ার জন্য অনুমতি চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।