বিশ্বে সবচেয়ে বড় ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান, আকার চোখের পাপড়ির সমান  

ফ্রান্সের গুয়াদলুপের ম্যানগ্রোভ বনে এ ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পাওয়া গেছে

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পাওয়া গেছে। এটি খালি চোখে দেখা যায় এবং এক জোড়া চিমটা দিয়ে তুলে নেওয়া যায়। গত বৃহস্পতিবার সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমনটা বলেছেন বিজ্ঞানীরা। খবর এএফপির।  

ক্যারিবীয় অঞ্চলে ফ্রান্সের গুয়াদলুপ দ্বীপের ম্যানগ্রোভ বনে থিওমারগারিতা ম্যাগনিফিকা প্রজাতির এ ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পাওয়া গেছে। এর দৈর্ঘ্য ২ সেন্টিমিটার, যা অন্য অনেক ব্যাকটেরিয়ার তুলনায় প্রায় ৫ হাজার গুণ বড়।  ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন সন্ধান পাওয়া এ ব্যাকটেরিয়ার আকার মানুষের চোখের পাপড়ির সমান।

ফ্রান্সের আন্তিলেস বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং গবেষণা প্রতিবেদনটির কো-অথর অলিভিয়ার গ্রস এএফপিকে বলেন, ‘এ আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে অণুজীববিজ্ঞান অনেক সমৃদ্ধ হবে।’
ক্যারিবীয় দ্বীপ শহর পয়েন্তে অ্যা পিত্রেতে অলিভিয়ার গ্রসের পরীক্ষাগারে একটি টেস্ট টিউবের ভেতর নমুনা রেখে দেওয়া হয়েছে, যা দেখতে চোখের পাপড়ির মতো।

অলিভিয়ার গ্রস বলেন, ‘প্রথমে আমি ভেবেছিলাম আর যাই হোক এটি ব্যাকটেরিয়া নয়। কারণ, ব্যাকটেরিয়া তো দুই সেন্টিমিটার আকারের হতে পারে না।’

একই পরীক্ষাগারের আরেক অণুজীববিজ্ঞানী গঞ্জালেজ রিজ্জো বলেছেন, এ ব্যাকটেরিয়া থিওমারগারিতা পরিবারভুক্ত। এ শ্রেণির ব্যাকটেরিয়া সালফাইড ব্যবহার করে বেড়ে ওঠে।

গবেষকেরা সর্বপ্রথম এ ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করেন ২০০৯ সালে, সালফার সমৃদ্ধ ম্যানগ্রোভের পলির ভেতরে। ইলেকট্রনিক মাইক্রোস্কপিসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির সহায়তায় পরীক্ষা করে দেখা যায় এটি ব্যাকটেরিয়ার জীবাণু। তবে এটি একক কোষ কি না, তা তখন নিশ্চিত হতে পারছিলেন না বিজ্ঞানীরা।
পরে জাঁ ম্যারি ভলাঁদ নামের এক তরুণ গবেষক ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত লরেন্স বার্কেলি ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে ওই ব্যাকটেরিয়া নিয়ে গবেষণা করেন। তাঁরা ওই বিশাল ব্যাকটেরিয়ার একটি ছবি তৈরি করার চেষ্টা করতে থাকেন। আর্থিক সহায়তা নিয়ে সেরা কিছু যন্ত্র ব্যবহার করে একটি ব্যাকটেরিয়ার ছবি তৈরি করতে সক্ষম হন তাঁরা। বিশেষ ওই থ্রিডি মাইক্রোস্কোপ ছবিটির মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রমাণ হয় নতুন আবিষ্কৃত ব্যাকটেরিয়াটি এককোষী।

ভলাঁদ বলেন, সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ তাদের কোষে ভেসে বেড়ায়। তবে বড় বড় প্রজাতিগুলোর ক্ষেত্রে এটি মেমব্রেনে ঘেরা ছোট কাঠামোর মধ্যে থাকে।

সাধারণত, মানুষ, পশু ও উদ্ভিদ কোষে ডিএনএ এমন অবস্থায় থাকে। কিন্তু ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রে এমনটা দেখা যায় না।

গবেষক অলিভিয়ার গ্রস বলেন, থিওমারগারিতা ম্যাগনিফিকা পরিবারভুক্ত ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রে এ বৈশিষ্ট্যটি অনন্য কিনা কিংবা ব্যাকটেরিয়ার অন্য প্রজাতির মধ্যে এমন বৈশিষ্ট্য আছে কি না, তা নিয়ে ভবিষ্যতে গবেষণা করা হবে।