বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আফগানিস্তানের পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য ভারতের উদ্যোগে যে বৈঠক ডাকা হয়, বুধবার সেখানে এক ঘোষণাপত্রে আট দেশ এ–সংক্রান্ত নানা বিষয়ে একমত হয়েছে। ওই বৈঠকে পাকিস্তান যোগ দিতে অস্বীকার করে। চীনও হাজির হয়নি বৈঠকের ‘দিনক্ষণ নিয়ে অসুবিধা’ থাকার কথা জানিয়ে। যোগ দিয়েছিলেন রাশিয়া, ইরান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান ও আয়োজক দেশ ভারতের নিরাপত্তাবিষয়ক শীর্ষ কর্তারা। সভাপতিত্ব করেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।

ভারতের আশঙ্কা, তালেবানদের হাতে দেশের ভার চলে যাওয়ায় সন্ত্রাসবাদীরা উৎসাহিত হচ্ছে। এ কারণে ভুগতে হবে সে দেশের সঙ্গে সীমান্ত থাকা দেশগুলোকে। এই শঙ্কা ঠেকাতে অজিত দোভাল গত মঙ্গলবার থেকেই দ্বিপক্ষীয় স্তরে আলোচনা শুরু করে দেন। বুধবার সকালে আট দেশের বৈঠকের শুরুতেও ওই শঙ্কার উল্লেখ করে দোভাল বলেন, ‘আফগানিস্তানের ঘটনাবলির প্রতিক্রিয়া শুধু সেই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে। এ কারণে বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের ঐকমত্যে পৌঁছানো আবশ্যক।’

বৈঠকে আট দেশই দৃঢ়ভাবে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মের নিন্দায় ও তার প্রসার রোধে একমত হয়। যৌথ ঘোষণাপত্রে বলা হয়, সন্ত্রাসবাদের বহু ধরন রয়েছে। সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা সবাই করবে। এমনকি সন্ত্রাসে অর্থ সাহায্য বন্ধেও সচেষ্ট হবে। অবকাঠামো নষ্ট করা হবে। মৌলবাদী চিন্তাধারার বিকাশ বন্ধে সচেষ্ট হবে।

দেখবে যাতে আফগানিস্তান বিশ্ব সন্ত্রাসবাদের নিরাপদ আশ্রয় হয়ে উঠতে না পারে। ঘোষণাপত্রে বলা হয়, এ জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত সহযোগিতা, যা উগ্রপন্থা ও বিচ্ছিন্নতাবাদ বিনষ্ট করার পাশাপাশি মাদকের কারবারেও রাশ টানতে পারবে।

ইরান ও রাশিয়ার নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও বুধবারের বৈঠকে তাঁদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান অ্যাডমিরাল আমি শামখানির আশঙ্কা, সন্ত্রাস রপ্তানি বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। রাশিয়ার নিরাপত্তাসচিব নিকোলাই পাত্রুশভকে এ বিষয়ে অগ্রণী হতে অনুরোধ জানান অন্যান্য দেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। তুর্কমেনিস্তানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সন্ত্রাস বন্ধে জোর দেন মাদকের কারবারে রাশ টানার ওপর। তাঁদের মতে, মাদক পাচার বন্ধ করা গেলে সন্ত্রাসের ডানা কাটা যাবে।

বৈঠকে জাতিসংঘের ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়। যৌথ ঘোষণাপত্রে বলা হয়, আফগানিস্তানকে স্থিতিশীল করে তুলতে জাতিসংঘের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ওই দেশে জাতিসংঘের উপস্থিতি যাতে নিরবচ্ছিন্ন থাকে, সে জন্য সব দেশকে উদ্যোগী হতে হবে। একই সঙ্গে নারী, শিশু ও সংখ্যালঘুদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা প্রয়োজন।

ভারত বরাবর বলে আসছে, আফগানিস্তানের সরকারে যেন সব অঞ্চল ও সব মহলের প্রতিনিধিত্ব থাকে। যৌথ ঘোষণাপত্রেও তার ওপর জোর দেওয়া হয়। এ ধরনের আরও বৈঠকের প্রয়োজনীয়তাও স্বীকৃত হয়েছে। পরবর্তী বৈঠক হবে আগামী বছর।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন