বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উপত্যকার সব রাজনৈতিক দল এই আসন বিন্যাসের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। কমিশনের প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে। শনিবার ওই প্রস্তাবের বিরোধিতার জন্য শান্তিপূর্ণ ধরনার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল। তা বানচাল করতেই তিন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে গৃহবন্দী করা হয়।

শনিবার সাতসকালেই গৃহবন্দিত্ব নিয়ে টুইট করেন ওমর আবদুল্লাহ। নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘নতুন বছর শুরু হলেও কিছু কিছু জিনিস বদলায় না। জম্মু-কাশ্মীরে বেআইনিভাবে মানুষজনকে গৃহবন্দী করে রাখছে। সাধারণ স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনকেও প্রশাসন ভয় পাচ্ছে। আমাদের বাড়ির ফটকের সামনে পুলিশ তাদের ট্রাক দাঁড় করিয়ে রেখেছে, যাতে জোটের নেতারা শান্তিপূর্ণ ধরনায় বসতে না পারেন।’ ওমর টুইটের সঙ্গে ট্রাকের ছবিও জুড়ে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে দেন আরও একটি ছবি, যাতে দেখা যাচ্ছে তাঁর বাবার বাসভবনসংলগ্ন এক ফটকে চেইন লাগানো রয়েছে। ওই ফটক দিয়ে ফারুক আবদুল্লাহ তাঁর মেয়ের বাসভবনে যাওয়া-আসা করেন। ওমর আবদুল্লাহ টুইটে লিখেছেন, ‘তবু দেশের নেতারা গলা উঁচিয়ে বিশ্বকে শোনান যে ভারত বৃহত্তম গণতন্ত্র! বিস্ময়!’

টুইট করেছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতিও। তিনি লেখেন, ‘সরকার ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল ও রাজ্য দ্বিখণ্ডিকরণের ঢাক অহরহ পিটিয়ে চলেছে। অথচ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতার প্রশ্নে অসহিষ্ণু। অসংখ্যবার আমাদের গৃহবন্দী করা হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখাতে দিচ্ছে না।’ মেহবুবা এই সঙ্গে অভিনন্দন জানান বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের, যাঁরা দমন–পীড়ন অগ্রাহ্য করে শনিবার শ্রীনগরের বিভিন্ন স্থানে কেন্দ্র পুনর্বিন্যাস প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ করেছেন।

গুপকর জোটের বাইরের রাজনৈতিক দলগুলোও গৃহবন্দী রাখার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। জোটত্যাগী দল পিপলস কনফারেন্স নেতা সাজ্জাদ লোন টুইট করে বলেছেন, ‘নেতাদের বন্দী রাখার কোনো যুক্তিগ্রাহ্য কারণই আমি দেখতে পাচ্ছি না। শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক বিক্ষোভকে এভাবে দমানো হলে সহিংস বিক্ষোভকেই উৎসাহিত করা হবে।’

জম্মু-কাশ্মীর প্রদেশের কংগ্রেস সভাপতি গুলাম আহমেদ মির গৃহবন্দী রাখার বিষয়কে ‘অগণতান্ত্রিক ও অনৈতিক’ জানিয়ে বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত দেশের গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থী। সাবেক মুখ্যমন্ত্রীদের কেন গৃহবন্দী করা হয়েছে, এর কোনো ব্যাখ্যা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। বিজেপির উদ্যোগে গঠিত সরকারপন্থী দল জম্মু-কাশ্মীর আপনি পার্টি আসন পুনর্বিন্যাস প্রস্তাবের বিরোধিতা আগেই করেছে। দলের নেতা আলতাফ বুখারি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছিলেন, কিছুতেই তাঁরা এই বিন্যাস মানতে পারবেন না। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ওপর সংখ্যালঘুদের শাসন কায়েম হতে দেওয়া যাবে না।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন