আসামসহ উত্তর–পূর্ব ভারতের নদীতে বৃষ্টিপাতের ফলে পানি বেড়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতে বন্যা নিয়ে গবেষণা করেন অরবিন্দ গোস্বামী। তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে, এই নদীগুলোতে পলি জমার সমস্যা রয়েছে এবং বরাবরই ছিল। পলি তোলার কাজ যথেষ্ট ব্যয়সাপেক্ষ এবং পাহাড়ি উপত্যকা অঞ্চলে কঠিনও। ফলে একদিকে ধারাবাহিক বৃষ্টি এবং অন্যদিকে পলি জমে থাকার সমস্যায় বিপদ বাড়ছে।

আসামে ব্রহ্মপুত্রের পানি অনেক জায়গাতেই বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। ব্রহ্মপুত্রর উৎস তিব্বতে। সেখানে ইয়ারলাং সংপো নামে পরিচিত ব্রহ্মপুত্রের প্রায় ৬০ শতাংশ রয়েছে, ৩০ শতাংশ ভারতে এবং বাংলাদেশে ১০ শতাংশ।

ব্রহ্মপুত্রের একাধিক গুরুতর সমস্যা বর্ষাকালে এলে বোঝা যায়। হিমালয়ের হিমবাহ গলে যায় তিব্বতে এবং অরুণাচল প্রদেশে, যেখানে ব্রহ্মপুত্রের নাম শিয়াং। এর ফলে ব্রহ্মপুত্রে পানির মাত্রা বাড়ে। এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় একাধিক নদী রাতারাতি স্ফীত হয় বর্ষার পানিতে। এ ছাড়া পলির সমস্যা তো রয়েছেই।

অরিন্দন গোস্বামী বলেন, নদী যখন পাহাড়ে থাকে, তখন সেখানে পলি জমার সমস্যা অনেক কম থাকে। এর কারণ, সেখানে নদীর গতি বেশি এবং তা পলিকে বয়ে নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু যত নদী সমতলের দিকে আসে, ততই পলি জমতে থাকে। তা নিয়মিত অববাহিকা থেকে তোলার দরকার আছে, যা করা হয় না। তিব্বত ও অরুণাচল প্রদেশে নদীতে পলি জমার খুব একটা সুযোগ না থাকলেও আসাম ও বাংলাদেশে রয়েছে। যে কারণে এই অঞ্চলে নিয়মিত বন্যা হয়।

এ ছাড়া ওই অঞ্চলে একাধিক উপনদী রয়েছে। তার পানি এসে ব্রহ্মপুত্র হয়ে তিস্তা হয়ে সেখান থেকে বাংলাদেশে ঢোকে। সব সমস্যাই বর্ষাকালে বাড়ে এবং বন্যা হয়।
অরুণাচল প্রদেশ ও আসামে একাধিক বাঁধ দিয়ে এই সমস্যার মোকাবিলা করার চেষ্টা হলেও তা কার্যকর হয়নি। বরং বড় বাঁধ ও ছোট ছোট নদীতে বাঁধ বানিয়ে নদীকে বেঁধে ফেলার চেষ্টায় তার তীব্রতা আরও বেড়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

ভারত এখন অরুণাচল প্রদেশে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাঁধটি বানানোর কথা ভাবছে, যাতে পানির নিচের দিকে আসা কিছুটা রোধ করা যায়। কিন্তু তা কার্যকর করা যাবে কি না, তা এই মুহূর্তে বলা মুশকিল। কারণ, সেখানকার মানুষ ৫০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে প্রস্তাবিত বাঁধ বানানোর বিরোধিতা করছেন।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন