বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কোভিডের দুটি টিকা নেওয়া সত্ত্বেও ভারতীয়রা অবাধে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে পারছেন না। ‘কোভিশিল্ড’ টিকা নেওয়া যাত্রীদেরও তারা ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড–অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা ভারতে উৎপাদন করছে পুনের সেরাম ইনস্টিটিউট। ভারতে প্রস্তুত সেই টিকার নাম ‘কোভিশিল্ড’। যুক্তরাজ্যের এ নীতি ‘বৈষম্যমূলক’ বলে ভারত আগেই প্রতিবাদ জানিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা নিজেই সেই প্রতিবাদের কথা জানিয়ে দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ভারত সরকার যুক্তরাজ্যকে ৫০ লাখ ‘কোভিশিল্ড’ টিকা দিয়েছিল। সেই টিকা সে দেশের সরকার তাদের নাগরিকদেরও দিয়েছে। অথচ অন্যায়ভাবে ভারতে প্রস্তুত কোভিশিল্ডের ওপর বৈষম্য করা হচ্ছে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে প্রতিবাদও জানিয়েছিলেন। তখনই বলা হয়েছিল, নীতি না বদলালে ভারতও অনুরূপ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। সেই পাল্টা ব্যবস্থাই সোমবার থেকে চালু হতে চলেছে। এখন দেখার বিষয় যুক্তরাজ্য তাদের নীতি বদলায় কি না।

কোভিডের প্রকোপ কমতে থাকায় যুক্তরাজ্য বিশ্বের ১৮টি দেশের নাগরিকদের বিনা বাক্যে সে দেশে প্রবেশ করতে দিচ্ছে। কোনো বিধিনিষেধের আওতায় এ দেশগুলোর নাগরিকদের পড়তে হবে না। এই ১৮ দেশের মধ্যে ভারত নেই। ভারতীয়দের সে দেশে গিয়ে ১০ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। ভারতের আপত্তির পর যুক্তরাজ্য জানিয়েছিল, তাদের আপত্তি ‘কোভিশিল্ড’ নিয়ে নয়। আপত্তি কোভিডের টিকার সনদ নিয়ে। যে পদ্ধতিতে টিকা প্রাপকদের সনদ দেওয়া হচ্ছে তা নিয়ে। এর জবাবে ভারত জানিয়েছিল, সনদ নিয়ে কোনো অনিয়ম বা আপত্তির অবকাশ নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও যুক্তরাজ্য নিয়ম বদল করেনি। যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনের এক মুখপাত্র গত শুক্রবার বলেন, যুক্তরাজ্য এ বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলেছে। পর্যায়ক্রমে তারা নিয়মনীতিতে বদল ঘটাচ্ছে। ভারতীয়দের নিয়েও ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন