বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ভারতের এনডিটিভির এক খবরে বলা হয়, কৃষক সংগঠন সংযুক্ত কিষান মোর্চা ১৫ ডিসেম্বর আরেকটি বৈঠক করবে। সেদিন কেন্দ্র কথা রেখেছে কি না, সে বিষয়ে আলোচনা হবে। এরপর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে কি না, তা নিয়ে কৃষকেরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

হিন্দুস্তান টাইমস–এর এক খবরে বলা হয়, কেন্দ্রের আশ্বাসের পরই বছরব্যাপী চলা এই আন্দোলন শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কৃষকেরা। কেন্দ্র ইতিমধ্যে আশ্বাস দিয়েছে যে তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলাকালে মারা যাওয়া কৃষকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং সমস্ত আন্দোলন–সম্পর্কিত মামলা প্রত্যাহার করা হবে। সংযুক্ত কিষান মোর্চার পাঁচ সদস্যের কমিটির কাছে কেন্দ্র থেকে প্রস্তাব পাঠানোর এক দিন পরই আন্দোলন প্রত্যাহারের এ ঘোষণা এসেছে।

এ আন্দোলনের কাছে নতিস্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১৯ নভেম্বর তিন আইনই প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিন কৃষি আইন প্রত্যাহারের ঘোষণার পর কৃষকদের ঘরে ফেরার অনুরোধ করেছিলেন তিনি।

কিন্তু কৃষকেরা তাতে সাড়া দেননি। গত ২৪ নভেম্বর কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আন্দোলন চলতে থাকে। এর আগে ২১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে ছয় দফা দাবি জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন কৃষকেরা। তাতে বলা হয়, বিতর্কিত কৃষি আইন প্রত্যাহারের বিষয়টি কেবল তাঁদের অনেকগুলো উদ্বেগের একটির সমাধান মাত্র।

দেড় বছর আগে কোভিড পরিস্থিতির সময় এই তিন কৃষি আইন প্রণয়নে কেন্দ্র অধ্যাদেশ জারি করেছিল। তারপর গত বছরের সেপ্টেম্বরে সংসদের খণ্ডকালীন অধিবেশনে প্রায় বিনা আলোচনায় বিরোধীদের দাবি উপেক্ষা করে তিনটি আইন পাস করা হয়।

প্রথমটি ‘অত্যাবশ্যক পণ্য (সংশোধনী) আইন’ বা ‘দ্য অ্যাসেনশিয়াল কমোডিটিজ (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট’। দ্বিতীয়টি ‘কৃষিপণ্য লেনদেন ও বাণিজ্য উন্নয়ন আইন’ বা ‘ফারমার্স প্রডিউস ট্রেড অ্যান্ড কমার্স (প্রমোশন অ্যান্ড ফ্যাসিলিয়েশন) অ্যাক্ট’। তৃতীয়টি ‘কৃষক সুরক্ষা ও ক্ষমতায়ন (মূল্য এবং কৃষি পরিষেবাসংক্রান্ত) আইন’ বা ‘ফারমার্স (এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড প্রোটেকশন) অ্যাগ্রিমেন্ট অন প্রাইস অ্যান্ড ফার্ম সার্ভিসেস অ্যাক্ট’।

মোদি সরকারের দাবি ছিল, মূলত তিনটি উদ্দেশ্য পূরণের জন্য এই তিন কৃষি আইন কার্যকর করা হচ্ছে। প্রথমটি হচ্ছে কৃষিক্ষেত্রে ফড়িয়া বা দালালদের আধিপত্য কমিয়ে কৃষকের আয় বাড়ানো। দ্বিতীয়টি হচ্ছে রাজ্যগুলোতে চুক্তিভিত্তিক চাষের ব্যবস্থা আইনসিদ্ধ করা ও তৃতীয়টি হচ্ছে কৃষিপণ্য বিপণন নিয়ে যে আইন রয়েছে, তা দূর করে আন্তরাজ্য কৃষিপণ্যের অবাধ বাণিজ্যের রাস্তা খুলে দেওয়া।

বিক্ষোভকারী কৃষকেরা বলছেন, কৃষিপণ্য বিক্রয় এবং উচ্চ ভর্তুকির ভারতের কঠোর আইন কয়েক দশক ধরে কৃষকদের বাজার শক্তি থেকে রক্ষা করেছে, তাই এটি পরিবর্তন করার দরকার নেই।

কেন্দ্রের তরফ থেকে কৃষকদের দাবি মেনে ফসলের ন্যায্য মূল্য পেতে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের (এমএসপি) প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠনে সম্মত হয়েছে কেন্দ্র সরকার। এনডিটিভি বলছে, শুক্রবার বিকেল থেকে সিঙ্ঘু বর্ডার খালি করতে শুরু করবেন তাঁরা। এর আগে গতকাল তাঁরা বিজয় প্রার্থনা ও বিজয় মিছিল করেন।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন