default-image

চন্দ্রযান-২–এর সফল উৎক্ষেপণ করেছে ভারত। অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীহরিকোটা মহাকাশ স্টেশন থেকে সোমবার বেলা ২টা ৪৩ মিনিটে এটি সফলভাবে উৎক্ষেপ করা হয়। এর আগে গত ১৫ জুলাই উৎক্ষেপণের কথা থাকলেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নির্ধারিত সময়ের ৫৬ মিনিট আগে স্থগিত করা হয় চন্দ্রযান-২–এর উৎক্ষেপণ।

৬৪০ টন ওজনের রকেট থেকে উৎক্ষেপ করা হয়েছে চন্দ্রযান-২। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) বিজ্ঞানীরা নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন। উৎক্ষেপণের কয়েক মিনিট পরেই রকেটটি সফলভাবে চন্দ্রযান-২–কে পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপন করেছে। এর পরপরই চন্দ্রযান-২–এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা নিয়ন্ত্রণকক্ষে পরস্পরকে অভিনন্দন জানান।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন চন্দ্রযান-২–এর সফল উৎক্ষেপণের পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেছেন, ‘আমি খুশিমনে ঘোষণা করছি, জিএসএলভি মার্ক-৩ (ইসরোর সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট) সফলভাবে চন্দ্রযান-২–কে কক্ষপথে স্থাপন করেছে। ভারতের জন্য এ এক ঐতিহাসিক যাত্রার সূচনা। এর আগে আমরা গুরুতর কারিগরি ত্রুটি পেয়েছিলাম। সেটা সারিয়ে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হয়েছে।’

এক হাজার কোটি রুপি বাজেটের এই মিশনের জন্য গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৪৩ মিনিট থেকে ২০ ঘণ্টার কাউন্টডাউন শুরু হয়। বলা হচ্ছে, চন্দ্রযান-২ চাঁদের এমন এক অংশে অভিযান চালাবে, যেখানে খুব কম মহাকাশযান পৌঁছাতে পেরেছে। এখন পর্যন্ত যতগুলো চন্দ্রযান চাঁদে গেছে, সেগুলোর বেশির ভাগই চাঁদের উত্তর মেরুতে অবতরণ করেছে। তবে চন্দ্রযান-২ প্রথমবারের মতো চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করার প্রত্যাশা করছে। চাঁদে পানি ও খনিজ পদার্থের খোঁজ করা চন্দ্রযান-২–এর প্রধান লক্ষ্য।

চন্দ্রযান-২–এর সফল উৎক্ষেপণের পর টুইট করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। টুইটবার্তায় তিনি বলেন, ‘বিশেষ এ মুহূর্ত আমাদের ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে লেখা থাকবে। চন্দ্রযান-২–এর উৎক্ষেপণ আমাদের বিজ্ঞানীদের পরাক্রম ও বিজ্ঞানের নতুন মাত্রা উদ্ভাবনে ১৩০ কোটি ভারতীয়ের সংকল্পের কথাই জানায়। প্রত্যেক ভারতীয় আজ ভীষণ গর্বিত।’

চন্দ্রযান-২–এর সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে চাঁদে অভিযান চালানো মাত্র চতুর্থ দেশ হলো ভারত। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন চাঁদে মহাকাশযান পাঠিয়েছিল। এর আগে ২০০৮ সালে ভারত প্রথম মহাকাশযান চন্দ্রযান-১ উৎক্ষেপণ করে। তবে এটি চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করেনি। চন্দ্রযান-১ রাডার ব্যবহার করে চাঁদে পানির খোঁজ চালায়।

অরবিটার, ল্যান্ডার ও রোভার নামে তিনটি আলাদা অংশ আছে চন্দ্রযান-২–এর। অরবিটারের কাজ চন্দ্রপৃষ্ঠের ছবি নেওয়া। বিক্রম নামে ল্যান্ডারের কাজ চাঁদে মাটির খোঁজ করা। আর প্রজ্ঞান নামে রোভারের কাজ পৃথিবীতে বিশ্লেষণের জন্য চাঁদের ছবি ও তথ্য পাঠানো।

আরও পড়ুন:

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0