default-image

সরকারি ত্রাণ যা এসেছিল, তা জনগণের মধ্যে না বিলিয়ে আত্মীয়দের দিয়েছিলেন শাসক দলের নেতা। কিছু ভাগ পেয়েছিলেন দলের নেতা-কর্মীরা। এসব কথা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছালে তাঁরা একজোট হলেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দৃশ্যপটে হাজির সরকারি কর্মকর্তারা। তাঁদের সামনে প্রকাশ্যে স্বীকার করলেন নিজের দোষ। শুধু তা–ই নয়, কান ধরে ক্ষমাও চাইলেন।

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার নন্দকুমার এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। নেতার নাম স্বপন ঘাটু। তিনি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য।

গতকাল মঙ্গলবার ত্রাণসামগ্রী বিতরণে স্বপন ঘাটুর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির ব্যাপক অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় লোকজন এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে থাকে। একপর্যায়ে গ্রামবাসী স্বপন ঘাটুর মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেন। তাঁরা অভিযোগ তোলেন, স্বপন ঘাটু অনেক গরিব মানুষকে ত্রাণ ও নগদ অর্থ না দিয়ে তা তিনি বিলিয়েছেন স্বজন ও দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। এরপরই স্বপন ঘাটুকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ করতে থাকেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে চলে আসেন বিডিও ও থানার কর্মকর্তারা। তাঁদের সামনেই পঞ্চায়েত সদস্য স্বপন ঘাটু দুর্নীতির কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করে এলাকাবাসীর কাছে কান ধরে ক্ষমা চান। বিডিও এই ঘটনা শোনার পর জানিয়ে দেন, বেআইনিভাবে যাঁদের ত্রাণ ও অর্থ দেওয়া হয়েছে, তা ফিরিয়ে এনে দেওয়া হবে ক্ষতিগ্রস্ত গরিবদের মধ্যে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন ত্রাণের সঙ্গে পাবেন ২০ হাজার নগদ অর্থ। তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘটনায় লজ্জা হওয়া উচিত।’

করোনা ও ঘূর্ণিঝড় আম্পানের জেরে পশ্চিমবঙ্গের গরিব মানুষ সীমাহীন অভাবের মুখে পড়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছে ত্রাণ ও নগদ অর্থ নিয়ে। আর করোনার লকডাউনের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মুখে অন্ন দেওয়ার জন্য আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিনা মূল্যে রেশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব ত্রাণ নিয়েই বিভিন্ন স্থানে নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে।

নেতার কান ধরে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনার পর তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী বলেন, ওই পঞ্চায়েত সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে, গত রোববার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর ব্লকের ধসপাড়া-সুমতিনগর পঞ্চায়েত অফিসেও ত্রাণে কারচুপির অভিযোগ এনে ভাঙচুর করা হয়। গতকাল উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায়ও ত্রাণ বিতরণে ব্যাপক দুর্নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়। এতে অংশ নেন স্থানীয় ছাত্ররাও। অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার কৈলাসপুরেও পঞ্চায়েত অফিস ঘিরে বিক্ষোভ প্রদর্শন হয়।

ত্রাণে দুর্নীতির অভিযোগে এর আগে আরও একজন পঞ্চায়েত সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। একজন জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তাঁরা হলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ সোমনাথ বেরা এবং হুগলি জেলার গড়লগাছা গ্রাম পঞ্চয়েতপ্রধান নরেন্দ্র সিং।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0