default-image

একেবারে নির্বাচনের প্রাক্কালে নন্দীগ্রাম আন্দোলন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন। বললেন,  ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামে জমি আন্দোলনে যে গুলির ঘটনা ঘটেছিল সেটার পেছনে ছিলেন অধিকারী বাড়ির নেতারা। অর্থাৎ শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর বাবা শিশির অধিকারীরা।

নন্দীগ্রামে ২৪ হাজার একর জমি অধিগ্রহণবিরোধী আন্দোলনে ওই দিন মমতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছিল অধিকারী পরিবার। এই অধিকারী পরিবারের কর্তা শিশির অধিকারী ও  তাঁর ছেলে শুভেন্দু অধিকারীসহ গোটা অধিকারী পরিবার সেদিন নন্দীগ্রামে আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন। সেদিন পুলিশের গুলিতে নিহত হন আন্দোলনকারী ১৪ গ্রামবাসী। আর এই মৃত্যুকে ঘিরে নন্দীগ্রামে শুরু হয় ব্যাপক আন্দোলন। আন্দোলন চলে সেদিনকার এই রাজ্যের শাসক দল বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি মমতা একই সঙ্গে হুগলির সিঙ্গুরে টাটাকে ন্যানো গাড়ির কারখানা গড়ার জন্য দেওয়া ৯৯৭ একর জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধেও ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলেন।

নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণবিরোধী আন্দোলনের জেরে সুফল পান মমতা। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসেন। সেই থেকে মানুষও জানত ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ গুলিবর্ষণের ঘটনার পেছনে ছিল বামফ্রন্টের নেতাদের হাত। কিন্তু দীর্ঘ ১৪ বছর পর রোববার (২৮ মার্চ) মমতা চমকে দিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনে প্রচারে গিয়ে। নন্দীগ্রাম আসনেই এবার লড়ছেন তিনি। আর তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। এই আসনের এবার লড়াই হবে তীব্র। শুভেন্দু আগেই ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি মমতাকে ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারাবেন। মমতাও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন এই আসনে বিপুল ভোটে তিনিই জিতবেন। রোববার বিকেলে নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া বাজারে দোল উৎসবে যোগ দিয়ে মমতা তাঁর ভাষণে একহাত নেন শুভেন্দু অধিকারীসহ ওই পরিবারের সদস্যদের। তাঁর ভাষ্য, এই নন্দীগ্রামে ‘বাপ-বেটার’ পারমিশন ছাড়া পুলিশও ঢুকতে পারত না। তাই সেদিনের আন্দোলনের মূল কারিগর ছিল এই অধিকারী পরিবার।

বিজ্ঞাপন

মমতা বলেন, ‘কারা গুলি চালিয়েছিল আপনাদের মনে আছে। মনে পড়ছে? অনেকে পুলিশের ড্রেস পরে এসেছিল। নিশ্চয়ই ভুলে যাননি আপনারা? আমার সব মনে আছে। মনে আছে হওয়াই চটি পরে এসেছিল ওরা। এবারও সেই সব কেলেঙ্কারি করার জন্য ওরা প্রস্তুত হচ্ছে। অনেকে বিএসএফ, সিআইএসএফের ড্রেসও কিনছে।’

মমতা আরও বলেন, ‘সেদিন শিশির অধিকারীকে আমি যখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করি, তখন এই ছেলে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বাবাকে মেনে নেয়নি। বাবার শপথের সময় শুভেন্দু উপস্থিত হননি।’

নন্দীগ্রামের বিধানসভার নির্বাচনের দুদিন আগে এই তথ্য ফাঁস করায় কার্যত স্বস্তি পেয়েছে বাম দল সিপিএম। তাদের কথা এত দিনতো মমতা বামফ্রন্টকে দোষারোপ করে আসছিল। দোষারোপ করে আসছিল সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকেও। এই ঘটনা ফাঁস করার পর এবার কী বলবেন তারা?

সিপিএম নেতা বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, ‘আমরা জানতাম একদিন না একদিন সত্য প্রকাশিত হবেই। এবার সেই সত্য প্রকাশিত হলো মুখ্যমন্ত্রীর মুখেই।’ বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ১০ বছর ক্ষমতায় থেকেও তদন্ত করে বের করতে পারলেন না দোষীদের?’ প্রসঙ্গত, যে পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে সেদিন গুলি চালানো হয়েছিল সেই পুলিশ কর্মকর্তা এখন তৃণমূলের একজন নেতা।

এদিকে সাংসদ শিশির অধিকারীও একহাত নিয়ে মমতাকে বলেছেন, ‘আমার ৮২ বছর বয়সে এত বড় মিথ্যেবাদী নেত্রীকে আমি দেখিনি। উনি যেসব মিথ্যে কথা বলছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন ওপরওয়ালা। এবার হেরে যাওয়ার ভয়তে উনি এখন মিথ্যে কথা বলছেন, প্রলাপ বকছেন। নন্দীগ্রামের মানুষ এবার এর জবাব দেবেন।’

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন