বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিয়ের ন্যূনতম বয়স নিয়ে ভারতে আইনগুলো কী

বাল্যবিয়ে ঠেকানো এবং শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ করতে বিয়ের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করাকে জরুরি মনে করা হয়ে থাকে। ভারতে হিন্দু বিয়ে আইন, ১৯৫৫ অনুযায়ী হিন্দু মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং ছেলেদের বয়স ২১ বছর। বিশেষ বিয়ে আইন, ১৯৫৪ এবং বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধকরণ আইন, ২০০৬-তেও নারীদের ক্ষেত্রে বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ এবং পুরুষের ন্যূনতম বয়স ২১ করা হয়েছে। এখন মেয়েদের জন্য নতুন ঘোষিত বিয়ের ন্যূনতম বয়স বাস্তবায়ন করতে হলে এ আইনগুলো সংশোধন করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন বিয়ের জন্য ন্যূনতম বয়স বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল ভারত সরকার

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, নারী-পুরুষ সবার জন্য একই রকমের বিয়ের বয়স নির্ধারণ করার পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি কারণ এ ক্ষেত্রে কাজ করেছে। নরেন্দ্র মোদি সরকারের যুক্তি হলো—নারীদের কম বয়সে বিয়ে হলে তাঁদের কম বয়সে গর্ভধারণ করার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এতে মা ও শিশুর পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত না হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। শিশুমৃত্যু হার ও মাতৃমৃত্যু হার বেড়ে যাওয়ারও ঝুঁকি থাকে। এ ছাড়া কম বয়সে বিয়ে হলে নারীদের পড়াশোনা ও চাকরি করার সুযোগ কমে যায়।

সম্প্রতি ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে (এনএফএইচএস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯-২০ সালে বাল্যবিবাহ কমে ২৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০১৫-১৬ সালে এ হার ছিল ২৭ শতাংশ।

জয়া জেটলি কমিটি কী?

২০২০ সালের জুনে ভারতের নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রণালয় একটি টাস্কফোর্স গঠন করে। নারীদের পুষ্টি, রক্তশূন্যতার হার, মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুহারসহ অন্য সামাজিক সূচকগুলোর সঙ্গে বিয়ের বয়সের সম্পর্ক খতিয়ে দেখাটাই এই টাস্কফোর্সের কাজ। সমতা পার্টির সাবেক সভাপতি জয়া জেটলি এ কমিটিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

কমিটি কী সুপারিশ করেছে

জয়া জেটলি কমিটির পক্ষ থেকে সম্প্রতি মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স বাড়িয়ে ২১ করার সুপারিশ করা হয়। দেশের ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণদের মতামতের ভিত্তিতে এ সুপারিশ করা হয়। দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর তরুণদের কাছে পৌঁছাতে ১৫টির বেশি এনজিও কাজ করেছে। কমিটির সদস্যদের দাবি, শহর ও গ্রাম এলাকায় সমভাবে জরিপ চালানো হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া তরুণেরা বিভিন্ন ধর্মের ছিলেন।

বিয়ের বয়স বাড়ানোর পাশাপাশি কমিটির পক্ষ থেকে স্কুল-কলেজে নারীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। দুর্গম এলাকা থেকে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। স্কুলে যৌনস্বাস্থ্য শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

কমিটি মনে করে খুব দ্রুতই এসব উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে আইন কার্যকর করা যাবে না। বিয়ের বয়স বাড়ানোর ব্যাপারে বড় আকারে জনসচেতনতামূলক প্রচার চালাতে হবে। নতুন আইন মেনে নেওয়ার জন্য সমাজকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। জোরপূর্বক পদক্ষেপ নেওয়ার চেয়ে এগুলো বেশি কার্যকর হবে বলে মনে করছে তারা।

সমালোচকেরা যা বলছেন

ভারতের নারী ও শিশু অধিকারকর্মী এবং জনসংখ্যা ও পরিবার পরিকল্পনা–সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞরা বিয়ের বয়স বাড়ানোর পক্ষে নন। তাঁদের আশঙ্কা, এ ধরনের আইন প্রণয়ন করা হলে অনেক মানুষই বিয়ের জন্য বেআইনি পথ বেছে নেবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, নারীদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর করে যে আইন বিদ্যমান আছে, তা দিয়েও ভারতে বাল্যবিবাহ ঠেকানো যাচ্ছে না। তাঁরা মনে করেন, বাল্যবিবাহের হার কমার কারণ বিদ্যমান আইন নয়। বরং নারীদের শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ বাড়াটাই এর কারণ।

সমালোচকদের মতে, নতুন আইন শেষ পর্যন্ত দমন-পীড়নের আইনে পরিণত হবে এবং বিশেষ করে সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাঁদের আইনভঙ্গকারী হিসেবে দেখানো হবে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন