এই ঘটনার জেরে নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত তিনটি গাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। সেখানকার কয়েকজন বাসিন্দা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের প্রাণহানির পর ওই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার পরপর সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করেছে প্রশাসন। ঘটনার গুজব ছড়ানো এড়াতে মোন জেলায় মোবাইল ইন্টারনেট ও এসএমএস সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর আসাম রাইফেলস এক বিবৃতিতে ঘটনার জন্য বাহিনী ‘গভীর অনুতপ্ত’ বলে জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বিদ্রোহী–অধ্যুষিত মোন জেলায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। তবে এমন ঘটনা খুবই ‘অপ্রত্যাশিত’। নিহতের ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। নাগাল্যান্ড পুলিশ কর্মকর্তা সন্দ্বীপ এম জানান, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নেইপিউ রায়ো স্থানীয় বাসিন্দাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্ত কমিটি ঘটনাটি তদন্ত করবে। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘ওটিং গ্রামে একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনার কারণে সাধারণ বাসিন্দারা নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি অবশ্যই নিন্দনীয়। শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং আহত ব্যক্তিদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি ঘটনাটি তদন্ত করবে এবং দেশের আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার প্রদান করবে।’ এদিকে এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে টুইট করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

মুখ্যমন্ত্রী নেইপিউ রায়ো ঘটনার সময় দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার পরপরই তিনি নাগাল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হন বলে জানা গেছে।

ঘটনাস্থল মোন জেলা থেকে প্রথম আলোকে রাকিন ক্রোম নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমরা বাড়ির ভেতরে রয়েছি এবং ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে। এখানে অনেকেই রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন, অনেকে আবার ভয়ে বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। নিরাপত্তা বাহিনী রাস্তায় টহল দিচ্ছে। তবে এটা জানি না যে এরা সেনাবাহিনী না আধা সামরিক বাহিনী।’

রাকিন ক্রোম আরও জানান, এই ঘটনার পর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো এবং পাশের রাজ্য অরুণাচল প্রদেশেও উত্তেজনা বিরাজ করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেন, কোনো কারণ ছাড়াই ওটিং নামের একটি গ্রামে শ্রমিক ও সাধারণ বাসিন্দাদের বহনকারী একটি গাড়ি লক্ষ্য করে সেনাবাহিনী গুলি চালায়। এতে অনেকেই প্রাণ হারান। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী সেনাবাহিনীর ওই দলের ওপর হামলা চালালে তারা আবারও গুলি চালায়।