বিজ্ঞাপন


সম্ভবত দলনেতার এই টুইটে আশান্বিত হয়েই কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার (এনএসইউআই) সাধারণ সম্পাদক নাগেশ কারিয়াপ্পা আজ বৃহস্পতিবার দিল্লি পুলিশের কাছে অমিত শাহ নিখোঁজ হয়েছেন বলে ডায়েরি করেন। তাতে বলা হয়, এই সংকটকালে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো খোঁজ নেই। তিনি নিরুদ্দেশ। ডায়েরিতে আরও বলা হয়, নেতাদের উচিত কঠিন পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে দাঁড়ানো। অথচ প্রধানমন্ত্রীর মতো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ‘বেপাত্তা’।


এটা ঠিক, মে মাসের শুরু থেকে এখনো প্রধানমন্ত্রী মোদিকে একবারের জন্যও প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তাঁর কোনো বিবৃতি বা বক্তব্যও শোনা যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, ২ মে পশ্চিমবঙ্গের ভোটে বিজেপির ‘বিপর্যয়ের’ ধাক্কা প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখনো সামলে উঠতে পারেননি। যে রাজ্য দখলে তাঁরা জীবন বাজি ধরেছিল, সেটি হারানোর ধাক্কা তাঁদের স্থবির করে দিয়েছে। সেই সুযোগটাই নিয়েছেন রাহুল। কোভিডকালে যিনি নিজেকে টুইটার মারফত বিজেপি বিরোধী প্রচার অভিযানে শামিল করেছেন। প্রতিদিন নিয়মমাফিক সরকারের সমালোচনা করে টুইট করছেন রাহুল।

টিকা, অক্সিজেন ও হাসপাতালের বেডের অপ্রতুলতায় সরকার সর্বত্র তীব্র সমালোচিত। এতটাই যে সুপ্রিম কোর্টকে পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। রোগীদের হাহাকার ও মৃতদের পরিবারের আহাজারি দেশজুড়ে। সংক্রমণের তীব্রতা এত বেড়ে গেছে যে সার্বিক ব্যর্থতার জন্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি বিখ্যাত মেডিকেল জার্নাল ‘দ্য ল্যানসেট’ পর্যন্ত সরাসরি নরেন্দ্র মোদিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। এমন কঠোর ভাষায় প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করা সত্ত্বেও সরকার চুপ। প্রায় এক সপ্তাহ কেটে গেলেও ‘দ্য ল্যানসেট’-এর বিরুদ্ধে সরকার একটি শব্দও খরচ করেনি। অথচ তিন সপ্তাহ আগে ‘দ্য অস্ট্রেলিয়ান’ পত্রিকায় লেখা একই ধরনের নিবন্ধের প্রতিবাদে ক্যানবেরায় ভারতীয় হাইকমিশনার সরকারি প্রতিবাদপত্র পাঠিয়ে বলেছিলেন, এই ধরনের ভিত্তিহীন সংবাদ দুই দেশের সম্পর্কের পক্ষে ভালো নয়।

নিরুদ্দেশের প্রতি কটাক্ষ ছাড়াও কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সুরযেওয়ালা বৃহস্পতিবার গঙ্গায় ভাসমান মৃতদেহ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলাধোনা করেছেন। তিনি বলেন, গঙ্গায় ভাসমান মৃতদেহের মিছিল অথচ কেন্দ্রীয় সরকার কিছুই দেখতে পাচ্ছে না।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন