বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

৯ মাস ধরে পাঞ্জাবের কংগ্রেস রাজনীতি তীব্র কলহ চলছে। সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার নবজ্যোৎ সিং সিধুকে কেন্দ্র করে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত সিধুকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি করে কোন্দল চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলে। কিন্তু অসন্তোষ চলতেই থাকে। অবশেষে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে এই অধ্যায়ের অবসান ঘটল।
অমরিন্দর সিং বলেন, ৯ মাস ধরে বারবার চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। একবার নয়, দুবার নয়, তিনবার পরিষদীয় দলের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তা সত্ত্বেও অসম্মান ও অপমানের শেষ হচ্ছিল না। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘কংগ্রেস যাঁকে খুশি মুখ্যমন্ত্রী করুক। আমি কংগ্রেসে ছিলাম। আছিও। রাজনৈতিক বিকল্পও আমার আছে। ঠিক সময়ে সেই সিদ্ধান্ত নেব। তার আগে যাঁরা এত দিন ধরে আমাকে সমর্থন করেছেন, আমার সঙ্গে রাজনীতি করেছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করব।’

এখন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনজনের নাম বিবেচিত হচ্ছে। রাজ্যের সাবেক দুই কংগ্রেস সভাপতি সুনীল জাখর ও প্রতাপ সিং বাজওয়া এবং সন্ত্রাসবাদীদের হাতে নিহত সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিংয়ের নাতি রণবীত সিং বিট্টু। সুনীল জাখরের বাবা ছিলেন কংগ্রেস নেতা এবং লোকসভার সাবেক স্পিকার। তাঁর সম্ভাবনা উজ্জ্বল। সুনীল মুখ্যমন্ত্রী হলে পাঞ্জাবের ইতিহাসে এই পদে তিনিই হবেন প্রথম হিন্দু সম্প্রদায়ের। এই রাজ্যে এতকাল ধরে শিখরাই মুখ্যমন্ত্রী হয়ে এসেছেন।

পাঞ্জাব বিধানসভার মোট ১১৭ আসনের মধ্যে গত ভোটে কংগ্রেস পেয়েছিল ৭৭টি আসন। পরে উপনির্বাচনে জিতে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৮০। দ্বিতীয় স্থানে ছিল আম আদমি পার্টি (২০)। শিরোমণি আকালি দল জিতেছিল ১৫টি, বিজেপি ৩টি আসনে। ৭৫ বছর বয়সী অমরিন্দর সিংকেই কংগ্রেস বেছে নিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে। ৭৯ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে অমরিন্দর এখন কী করবেন, সেটাই আপাতত প্রধান জল্পনা। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী নিজেও এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট উত্তর দেননি। যদিও রাজনীতি ছেড়ে দেবেন—এমন ইঙ্গিত দেননি। তাঁর সামনে দুটি বিকল্প। হয় তাঁকে সমর্থকদের নিয়ে আলাদা দল গঠন করে রাজনীতিতে টিকে থাকতে হবে, নয়তো আকালি বা বিজেপির সঙ্গে সমঝোতা। তিন কৃষি আইন প্রণয়নের পর বিজেপির সম্ভাবনা ক্ষীণ। সেই দিক থেকে আকালি দলের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন বলছে, দলের মধ্যে অমরিন্দর সিংয়ের সমর্থক সংখ্যা দিন দিন কমছে। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী রেখে নির্বাচন করলে পাঞ্জাব কংগ্রেসের হাতে না–ও থাকতে পারে।

সম্প্রতি বিজেপিও তিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বদল করেছে। কর্ণাটকে ইয়েদুরাপ্পার স্থানে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন বাসবরাজ বোম্মাই, উত্তরাখন্ডের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন পুষ্কর সিং ধামি ও গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছে ভূপেন্দ্র প্যাটেলকে। দলের ওপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহর দখল এবং দাপট এতটাই যে কোনো রাজ্যেই এ নিয়ে বিক্ষোভ বা অশান্তি দেখা যায়নি। তুলনায় কংগ্রেস নেতৃত্ব ৯ মাসেও পাঞ্জাবের কোন্দল থামাতে ব্যর্থ। একই রকম ব্যর্থ রাজস্থান ও ছত্তিশগড়ে। দুই রাজ্যেই দলীয় কলহ অমীমাংসিত।
মাত্র কদিন আগে ৪০ জন বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী বদলের জন্য সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি লেখেন। শনিবার সকালে অমরিন্দর সিং ঘনিষ্ঠ বিধায়কদের বৈঠক ডাকেন। সেখানে ৪ মন্ত্রী ও ১১ বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু নতুন নেতা বাছার জন্য সন্ধ্যায় কংগ্রেস পরিষদীয় দলের যে বৈঠক ডাকা হয়, সেখানে অমরিন্দর ছাড়া বাকি ৭৯ জন বিধায়কই উপস্থিত হন।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন