default-image

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিল রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি আর কংগ্রেস-বাম জোট। নির্বাচনী আবহ, বিভিন্ন বুথফেরত সমীক্ষার ফল বলছে, লড়াই মূলত তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে। আট দফার নির্বাচনের ফল ঘোষণা আজ রোববার।

ভারতীয় সময় আজ সকাল ৮টা (বাংলাদেশ সাড়ে ৮টা) থেকেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯২টি আসনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে। বিধানসভার মোট আসন ২৯৪টি থাকলেও নির্বাচনের মধ্যে দুই প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় দুটি আসনের নির্বাচন স্থগিত হয়। ফলে, কড়া নিরাপত্তা ও ভয়াবহ করোনা আবহের মধ্যেই ২৯২টি আসনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে।

আজ নির্বাচনের মূল লক্ষ্য নন্দীগ্রাম। পূর্ব মেদিনীপুরের এই আসনেই লড়ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী তাঁরই একসময়ের ডান হাত, মন্ত্রিসভার সাবেক সদস্য শুভেন্দু অধিকারী। তাই শুধু রাজ্যবাসী নয়, গোটা দেশই এখন তাকিয়ে আছে নন্দীগ্রামের দিকে। কে জেতে, কে হারে নন্দীগ্রামে ? মমতা, না শুভেন্দু।

বিজ্ঞাপন

নন্দীগ্রাম আজ দৃশ্যত উত্তেজনায় কাঁপছে। এই আসনের ফল গণনা হবে নন্দীগ্রাম থেকে ৬৭ কিলোমিটার দূরে হলদিয়ার গভর্নমেন্ট স্পনসরড হাইস্কুলে। সেই ভোটকেন্দ্রের ভোট গণনা দেখতে গতকাল শনিবার বিকেলে ও রাতে ছুটে গেছেন তৃণমূল ও বিজেপির বহু নেতা–নেত্রী। মমতার নির্বাচনী এজেন্ট শেখ সুফিয়ান গতকালই রাতেই হলদিয়ায় চলে গেছেন ভোট গণনায় যোগ দিতে। রাতে হোটেলে থেকে আজ সকালে দলবল নিয়ে ভোট গণনাকেন্দ্রে যাবেন। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা প্রলয় পালসহ অন্য বিজেপি নেতারা সেখানে গেছেন। তবে মমতা আজ এখানে আসবেন না। তিনি দক্ষিণ কলকাতার নিজের কালীঘাটের বাড়িতে অবস্থান করে ভোটের ফলাফলের ওপর নজর রাখবেন।

গত ২৭ মার্চ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত এ রাজ্যে আট দফায় বিধানসভার ২৯২টি আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই নির্বাচনের ফলাফল আজ ঘোষণার জন্য ২৩টি জেলায় ১০৮টি গণনাকেন্দ্রে শুরু হয়েছে ভোট গণনা। ২০১৬ সালের নির্বাচনে ভোট গণনাকেন্দ্র ছিল ৯০টি। এবার করোনার কারণে বাড়ানো হয়েছে গণনাকেন্দ্র। এসব কেন্দ্রেই ইভিএম ও ভিভিপ্যাট স্ট্রংরুম থেকে এনে তা প্রার্থী বা তাঁদের এজেন্টের সামনে খুলে গণনা শুরু হয়েছে। আর কলকাতার ১১টি বিধানসভা আসনের জন্য ভোট গণনাকেন্দ্র করা হয়েছে ছয়টি।

এদিকে সারা রাজ্যের এই ১০৮ ভোট গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। নিয়োগ করা হয়েছে ২৫৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভোট গণনাকেন্দ্রে থাকছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। সিসিটিভি থাকছে গোটা ভোটকেন্দ্রে। ভোটকেন্দ্রের ১০০মিটার এলাকাজুড়ে ১৪৪ ধারা আইন বলবৎ থাকছে। ভোট গণনা শুরুর আগে জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে ইভিএম, ভিভি প্যাট রাখার স্ট্রংরুমসহ ভোট গণনাকেন্দ্রকে।

default-image

নির্বাচন কমিশন অবশ্য আগেই নির্দেশ দিয়েছে কোনো প্রার্থী বা তাঁদের পোলিং এজেন্টসহ যেসব ভোটকর্মী ভোট গণনায় দায়িত্ব পালন করবেন তাদের সকলকে করোনার টিকার দুটি ডোজ অথবা করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ রিপোর্ট নিয়ে আসতে হবে।

আবার মমতাও তার দলের অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের নির্দেশ দিয়েছেন, খাতা কলম নিয়ে ঢুকতে হবে ভোট গণনা কেন্দ্রে। একবার ভোট গণনা কেন্দ্রে ঢুকে গেলে আর বের হবে না টেবিল চেয়ার ছেড়ে। ওখানেই বসে সবকিছুর ওপর নজর রাখতে হবে।

মমতা কর্মীদের বলেছেন, ‘কেউ কিছু দিলে খাবেন না। জলও খাবেন না। ভোট গণনা কেন্দ্রের বাইরে যাবেন না। কারও কাছ থেকে সিগারেট বা খাবার খাবেন না। মনে রাখবেন ভোটকেন্দ্রে মাটি কামড়ে বসে থাকতে হবে। কারণ, আপনাদের অনুপস্থিতে ওরা ‘বদমাইশি’ করতে পারেন।’

মমতা আরও বলেছেন, ‘আমাদের জয় নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা জিতছি। ক্ষমতায় আসছি। সেই ইঙ্গিত সব বুথ ফেরত সমীক্ষা বলে দিয়েছে। তাই চিন্তা করবেন না, জয় আমাদের নিশ্চিত। তাই ওদের বিভ্রান্তিমূলক প্রচারে কান দেবেন না। ওদের পাতা ফাঁদে পা দেবেন না।’

মমতা আবার এ কথাও বলেছেন, ‘ওদের সঙ্গে মিডিয়ার বোঝাপড়া হয়েছে। প্রথম দিকে ওরা বিজেপিকে এগিয়ে থাকার কথা বলবে। ঘাবড়াবেন না। হতাশায় গণনা কেন্দ্র ছাড়বেন না। দেখবেন শেষে আমরাই জিতব।’

বিজ্ঞাপন

এদিকে এই পশ্চিমবঙ্গে করোনা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় শুক্রবার থেকে এই রাজ্যে কার্যকর হয়েছে আংশিক লকডাউন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এই রাজ্যে করোনায় মারা গেছে ১০৩ জন আর আক্রান্ত হয়েছে ১৭ হাজার ৫১২জন।

লকডাউনে হাটবাজার খোলা রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছে সকাল ৭টা থেকে ১০টা এবং বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত। তবে সারা দিন খোলা রাখা যাবে পাড়ার মুদির দোকান, চালু থাকবে হোম ডেলিভারি, অনলাইন পরিষেবা, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য পরিষেবা । খোলা থাকবে ওষুধ এবং চিকিৎসা সামগ্রীর দোকান। কিন্তু সামাজিক, সাংস্কৃতিক , শিক্ষা ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান এবং কোনো জমায়েত করা যাবে না।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন