default-image

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার দ্বিতীয় দফার নির্বাচন ১ এপ্রিল। এই দফায় রাজ্যের ৪ জেলার ৩০ আসনে নির্বাচন। দ্বিতীয় দফায় লড়ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে মমতার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তাঁর একসময়ের ডান হাত বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। ফলে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকছেন মমতা ও শুভেন্দু।

শুভেন্দু তৃণমূলের মন্ত্রী ছিলেন। পরে তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। নন্দীগ্রামে মমতার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অবতীর্ণ হন তিনি।

শুভেন্দু ঘোষণা দিয়েছেন, নন্দীগ্রামে তিনি মমতাকে ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দেবেন। তৃণমূলও পাল্টা ঘোষণা দিয়েছে, এই আসনে বিপুল ভোটেই জিতবেন মমতা। আর তিনিই তৃতীয়বারের মতো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হবেন।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম দফার নির্বাচন গতকাল শনিবার সম্পন্ন হয়। রাজ্যের ৫ জেলার ৩০ আসনে এই নির্বাচন হয়। ১ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার পর ৬ এপ্রিল হবে তৃতীয় দফার নির্বাচন। তৃতীয় দফার নির্বাচন হবে ৩ জেলার ৩১ আসনে। ৮ দফা নির্বাচনের শেষ দফা হবে ২৯ এপ্রিল। ফলাফল ঘোষণা ২ মে।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফার নির্বাচন সামনে রেখে সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কলকাতার অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস ও ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্বিতীয় দফায় লড়ছেন ১৭১ জন প্রার্থী। তৃতীয় দফায় ২০৫ জন। এই প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় মোট ৬২ জন কোটিপতি প্রার্থী লড়ছেন। তার মধ্যে দ্বিতীয় দফায় ২৬ জন ও তৃতীয় দফায় ৩৬ জন কোটিপতি প্রার্থী রয়েছেন। দ্বিতীয় দফায় রয়েছেন তৃণমূলের ১১ জন, বিজেপির ১০ জন ও কংগ্রেসের ২ জন কোটিপতি প্রার্থী।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালের তুলনায় এবার মমতার সম্পদ কমে গেছে। ২০১৬ সালে মমতার সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৬ লাখ রুপির কিছু বেশি। এবার তা কমে হয়েছে ১৩ লাখ রুপির কিছু বেশি। তাঁর সম্পদ কমেছে ৩৭ শতাংশ।

অন্যদিকে মমতার প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দুর সম্পদ বেড়েছে। ২০১৬ সালে তাঁর সম্পদের পরিমাণ ছিল ৬২ লাখ রুপি। এবার তা বেড়ে হয়েছে ১ কোটির কিছু বেশি।

দ্বিতীয় দফার প্রার্থীদের মধ্যে সম্পদে এগিয়ে ভারতী ঘোষ। সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার বিজেপির প্রার্থী। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১৯ কোটি ২১ লাখ রুপি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কাকদ্বীপের বিজেপির প্রার্থী দীপঙ্কর জানা। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১৪ কোটি রুপি। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন বাঁকুরার তালডাংরার তৃণমূলের প্রার্থী অরূপ চক্রবতী। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৮ কোটি রুপি।

দ্বিতীয় দফার প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে কম সম্পদের মালিক বাঁকুরা কেন্দ্রের বহুজন সমাজ পার্টির প্রার্থী সাধন চট্টরাজ। তাঁর সম্পদের পরিমাণ মাত্র ৫০০ রুপি।

তৃতীয় দফায় ২০৫ জন প্রার্থীর মধ্যে কোটিপতির সংখ্যা ৩৬ জন। তার মধ্যে তৃণমূলের ১৭ জন ও বিজেপির ৮ জন।

তৃতীয় দফার প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে গরিব হাওড়ার উলবেড়িয়া উত্তর কেন্দ্রের বিজেপির প্রার্থী চিরণ বেরা। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ৫৫৩ রুপি। এই দফার সবচেয়ে সম্পদশালী প্রার্থী শামসুল হুদা। তিনি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার মগরাহাট পশ্চিমের নির্দলীয় প্রার্থী। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৪৩ কোটি রুপি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন তারকেশ্বরের বিজেপির প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্ত। সাবেক এই তৃণমূল সাংসদের সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৭৫ লাখ রুপি। তৃতীয় স্থানে আছেন দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কুলতলির তৃণমূল প্রার্থী গণেশচন্দ্র মণ্ডল। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৪৭ লাখ রুপি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ১৭১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪৩ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তার মধ্যে ৩৬ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারি মামলা। বিজেপির প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ১৭টি, তৃণমূল প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ৮টি, সিপিএম প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ৭টি ও কংগ্রেস প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ২টি ফৌজদারি মামলা আছে।

তৃতীয় দফায় ২০৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫৩ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা আছে। বিজেপির ১৯ জন, তৃণমূলের ১১ জন ও সিপিএমের ৮ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা আছে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন