default-image

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে প্রচার–প্রচারণা আর উৎসবের আমেজের মধ্যেই গতকাল বুধবার রাতে মুর্শিদাবাদ জেলায় রাজ্যের শ্রম প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের ওপর বোমা হামলা হয়েছে। এ সময় একজন নিহত এবং ওই প্রতিমন্ত্রীসহ ২৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত হয়েছেন সাতজন।

আহত প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনকে কলকাতার পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে হামলাকারীদের কাউকে পুলিশ এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন কলকাতায় দলীয় সভায় যোগ দিতে মুর্শিদাবাদের নিমতিতা রেলস্টেশনে আসেন। সেখান থেকে তিস্তা-তোর্ষা বিশেষ এক্সপ্রেস ট্রেনে করে কলকাতায় আসার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু স্টেশনটির ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে নামার পরপরই তাঁকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে হামলাকারীরা। এ সময় সঙ্গে ছিলেন তাঁর বিড়ি কারখানার জনা ষাটেক কর্মী। বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে স্টেশন এলাকা ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। প্রচণ্ড শব্দে স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা ছুটতে থাকেন। এ সময় অনেকে আহত হন। প্ল্যাটফর্মে পড়ে থাকতে দেখা যায় তাঁদের।

বিজ্ঞাপন

পরে পুলিশ এসে দ্রুত আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে প্রথমে জঙ্গিপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল ও বহরমপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। আঘাত গুরুতর হওয়ায় মন্ত্রীকে প্রথমে নিয়ে আসা হয় জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে। সেখান থেকে রাতেই কলকাতার পিজি হাসপাতালে পাঠানো হয় তাঁকে।

বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন কলকাতায় দলীয় সভায় যোগ দিতে মুর্শিদাবাদের নিমতিতা রেলস্টেশনে আসেন। সেখান থেকে তিস্তা-তোর্ষা বিশেষ এক্সপ্রেস ট্রেনে করে কলকাতায় আসার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু স্টেশনটির ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে নামার পরপরই তাঁকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে হামলাকারীরা।

আজ সকালে মন্ত্রীর শরীরে অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা। স্প্লিন্টার ঢুকে তাঁর পায়ে গুরুতর জখম হয়েছে। তাঁর সঙ্গে পিজি হাসপাতালে আনা হয়েছে আরও পাঁচজনকে। ১৭ জনকে ভর্তি করা হয়েছে বহরমপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে আজ আরও ১২ জনকে নিয়ে আসা হচ্ছে কলকাতায়। বিস্ফোরণের পর একজনের ক্ষতবিক্ষত দেহ পাওয়া যায় রেলস্টেশনে। তাঁর পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

জঙ্গিপুরের পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশী বলেছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মন্ত্রীর ওপর হামলার এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন তৃণমূল, বিজেপি ও কংগ্রেসের নেতারা। তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সভাপতি আবু তাহের বলেছেন, ‘এটা একটা পরিকল্পিত হামলা। এই হামলার পেছনে যাঁরাই থাকুক, পুলিশ তাঁদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দিক। এটাই আমাদের দাবি।’

বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, এ ঘটনার পর এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে, এই রাজ্যের মন্ত্রীরাও সুরক্ষিত নন।

আর কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি সাংসদ অধীর চৌধুরী মন্ত্রীর ওপর এই হামলার নিন্দা করে বলেছেন, এই ঘটনার পেছনে কারা আছে, তা অবশ্যই তদন্ত করে বের করা হোক।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন