এই পরিস্থিতিকে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগজনক বলে ব্যাখ্যা করেছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি ও অন্যতম প্রধান মুখপাত্র সুধাংশু শেখর রায় অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের একটি প্রধান ও সাম্প্রতিক দুর্নীতির ঘটনায় মূল অভিযুক্তের সঙ্গে রাজ্যপালের দপ্তরের কর্মীদের যোগাযোগ রয়েছে। সম্প্রতি দেবাঞ্জন দেব নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে করোনার ভুয়া টিকা দেওয়া, টিকা শিবির চালানো ও টিকার মজুতদারিসহ আরও একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সুধাংশু শেখর এই দিন দাবি করেছেন, রাজ্যপালের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ও দেবাঞ্জনকে একসঙ্গে দেখা গেছে। তাঁদের দুজনের ছবি প্রকাশ করে তৃণমূলের এমপি বলেন, ‘এই বিশেষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে খাম যেত। এর তদন্ত প্রয়োজন।’ শুধু এটাই নয়, কয়েক দিন ধরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা-নেত্রী বলেছেন, ৩০ বছরের পুরোনো জৈন-হাওয়ালা মামলায় জগদীপ ধনখড়ের নাম রয়েছে। ১৯৯১ সালের এই মামলা ভারতের একটি বড় দুর্নীতির মামলা।

এই মামলায় সুরেন্দ্র জৈন নামের এক ব্যক্তি দালাল মারফত বিরাট অঙ্কের টাকা লেনদেন করেছিলেন ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে। সেই টাকার অংশবিশেষ কাশ্মীরে জঙ্গিদের হাতে পৌঁছেছিল বলেও তদন্তে জানা গিয়েছিল। সুরেন্দ্র দুটি ডায়েরিতে কাকে কত টাকা দিচ্ছেন তা লিখে রাখতেন। একাধিক প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতার মধ্যে, ওই ডায়েরিতে রাজ্যপাল ছিলেন বলে গত সোমবার দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘রাজ্যপাল দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে মন্তব্য করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ১৯৯৬ সালের জৈন-হাওয়ালা মামলার অভিযোগপত্রে রাজ্যপালের নাম রয়েছে।

এটিকে ‘সম্পূর্ণ ভুয়া তথ্য’ বলে চিহ্নিত করে রাজ্যপাল ধনখড় বলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান নেতা যশোবন্ত সিনহা ও কিছু বছর আগে মারা যাওয়া আরেক নেতা অজিত পাঁজার নাম বরং ওই ডায়েরিতে রয়েছে। তবে শুধু এই দুর্নীতি ও পাল্টা দুর্নীতির মামলাই নয়, রাজ্যপালের সঙ্গে বিরোধ বেধেছে বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে ধনখড় বলেছেন, তাঁকে বাজেট অধিবেশনের গোড়ায় শুক্রবার প্রথামাফিক উদ্বোধনী ভাষণ দিতে দেওয়া হচ্ছে না। বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এক চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘স্পিকার নিজেই রাজ্যপালের পদের অবমাননা করছেন। বিধানসভায় আমার ভাষণ সম্প্রচার বন্ধ করা হয়েছে। এটা জরুরি অবস্থার শামিল।’

প্রথা অনুযায়ী, রাজ্যপালের ভাষণ দেওয়ার কথা। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে তাঁর ভাষণ এবারে রাখা হচ্ছে না বলে রাজ্যপালকে জানানো হয়েছে। সেই কারণেই ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল। এ ছাড়া আরও একাধিক অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ বাজেট অধিবেশন শুরুর আগে দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে করেছে। বিষয়টি ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করে সুপ্রিম কোর্টের এক সাবেক বিচারপতি বলেন, এর ফলে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কাজকর্ম বিধানসভায় ব্যাহত হবে। কারণ, রাজ্যপাল ও সরকারের বোঝাপড়ার মাধ্যমেই সভার কাজ চলে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন