default-image

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ শনিবার সকাল সাতটা থেকে ভোট শুরু হয়েছে।

চারটি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এই রাজ্যের জঙ্গলমহল হিসেবে পরিচিত। এই চার জেলা হলো পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রাম। এই রাজ্যে রয়েছে ২৯৪টি আসন। আজ প্রথম দফায় ৩০টি আসনে ভোট গ্রহণ হচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিয়োগ করা হয়েছে ৭৩২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও পুলিশ। ভোট শেষ হবে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায়।

এ দফায় গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন মেদিনীপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অভিনেত্রী জুন মালিয়া এবং পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি কেন্দ্রে কংগ্রেসের পুরোনো নেতা নেপাল মাহাতো।

এই ৩০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ১৯১ জন প্রার্থী। তবে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসে ও বিজেপিতে। তৃণমূল ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিলেও পুরুলিয়ার জয়পুর আসনে তৃণমূল প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। ফলে তৃণমূল লড়ছে ২৯টি আসনে। এ আসনে তৃণমূল সমর্থন দিয়েছে একজন নির্দলীয় প্রার্থীকে। অন্যদিকে, বিজেপিও লড়ছে ২৯টি আসনে। বিজেপি একটি আসন ছেড়ে দিয়েছে তাদের জোট শরিক অল ঝাড়খন্ড স্টুডেন্টস ইউনিয়ন প্রার্থী আশুতোষ মাহাতকে।

বিজ্ঞাপন

সিপিএম লড়ছে ১৮টিতে। বামফ্রন্ট শরিক সিপিআই ৪টি, ফরোয়ার্ড ব্লক ২, আরএসপি ২ এবং কংগ্রেস লড়ছে ২টি আসনে। জঙ্গলমহল এলাকাটি বরাবর বামপন্থীদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। এখানে বামেরাই দীর্ঘদিন ধরে শাসন করে আসছে। তবে বামফ্রন্টের শেষ আমলে এখানে সংঘবদ্ধ হয় মাওবাদীরা। বেড়ে যায় মাওবাদী তৎপরতা। এ কারণে এই জঙ্গলমহল হয়ে ওঠে মাওবাদীদের ঘাঁটি। ২০১১ সালের আগে থেকেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। অবস্থান নেন মাওবাদীদের পক্ষে। তাঁরা মাওবাদীদের পাশেই এসে দাঁড়ান। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মমতা ঘোষণা দেন, তৃণমূল ক্ষমতায় গেলে মাওবাদীদের জীবনের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনবেন। ফলে, মাওবাদী নেতারাও ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতার তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। মাওবাদী নেতা কিষেণজিও মমতাকে প্রচ্ছন্ন সমর্থন দেন।

২০১১ সালের নির্বাচনে মমতা ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসেন। তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুসারী অনেক মাওবাদীকে কর্মসংস্থানের ও আর্থিক প্যাকেজের সুবিধা দিয়ে ফিরিয়ে আনেন জীবনের মূল স্রোতে। কিন্তু এ ডাকে সাড়া দেননি মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় নেতা কিষেণজি। পরে এই কিষেণজিই পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর নিহত হন। সেই ঐতিহাসিক জঙ্গলমহলের চারটি জেলা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের আংশিক এলাকায় আজ বিধানসভার নির্বাচন।
জঙ্গলমহল এলাকাটি ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও তফসিলি জাতি–অধ্যুষিত।

২০১৯ সালের সর্বশেষ লোকসভা নির্বাচনের ভোটের নিরিখে ৬০টি আসনের মধ্যে ৫৪টিতেই এগিয়ে ছিল বিজেপি। তাই এবার এই জঙ্গলমহলের আসনে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছে বিজেপি। থেমে নেই তৃণমূলও। বাম দলগুলো তাদের হারানো আসন পুনরুদ্ধারের জন্য আজও লড়াই জারি রেখেছে।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন