বিজ্ঞাপন

নতুন যুক্ত হচ্ছে পৃথক ‘উত্তরবঙ্গ’-এর আওয়াজ

বাংলা থেকে বেরিয়ে নেপালিভাষী গোর্খারা দার্জিলিং-কালিম্পং-জলপাইগুড়িকে ঘিরে আলাদা রাজ্য চাইছে, সেটা পুরোনো খবর। মাঝেমধ্যেই সহিংস হয়ে ওঠে এই দাবির মিছিল।

সে তুলনায় কামতাপুর বা গ্রেটার কোচবিহার গড়ার আন্দোলন বেশ ঝিমিয়ে ছিল। এবার নির্বাচনে সেটা আবার চাঙা হলো বিজেপির হাওয়া পেয়ে। নতুন আরেকটা দাবি উঠেছে ‘উত্তরবঙ্গ’ পৃথক করার। নির্বাচনের পর উত্তরবঙ্গ রাজ্য আন্দোলন বিশেষ জোরদার হতে দেখা যাচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজবংশীদের একাংশ বহুদিন থেকে ইতিহাসে হারিয়ে যাওয়া তাদের কামতাপুর রাজ্য ফিরে চাইছে। এর মধ্যেই আবার কোচবিহারকে মাঝে রেখে অনেকে চাইছে ‘গ্রেটার কোচবিহার’। তাদের নেতৃত্বে রয়েছে গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন। আলাদা রাজ্য না হলেও অন্তত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হলেও তারা খুশি। কোনোভাবেই থাকতে চাইছে না কলকাতার সঙ্গে।

কামতাপুর কিংবা গ্রেটার কোচবিহার—এ রকম সব আকাঙ্ক্ষায় আসামের কিছু অংশও যুক্ত করার দাবি আছে। অসমিয়ারা সেটা সহজে হতে দেবে বলে মনে হয় না।

কালিম্পং থেকে মালদহ পর্যন্ত বিচ্ছিন্নতার সুর

গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের ভরকেন্দ্র হলো পশ্চিমবঙ্গের সর্ব-উত্তরের অঞ্চল। ভাষা-সংস্কৃতিতে তারা যে বাংলাভাষী পশ্চিমবঙ্গে থেকেও অনেকখানি আলাদা, তাতে দ্বিমত করা যায় না। কিন্তু উপনিবেশকালের পরম্পরা এসব। লর্ড কার্জনের সময় এ অঞ্চল কিছুদিন রাজশাহীর সঙ্গেও ছিল। ভারতভাগের আগে থেকে এখানে প্রশাসনিক স্বাতন্ত্র্যের আওয়াজ আছে। সুভাষ ঘিসিংয়ের নেতৃত্বে গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট প্রায় চার দশক আগে সে আন্দোলনকে সহিংস রূপ দেয়। মাত্র দুই বছরে প্রায় এক হাজার মানুষ মারা যায় তাতে। যার পরিণতি হিসেবে আধা স্বায়ত্তশাসিত কিছু প্রশাসনিক সুবিধা আদায় করে নেয় দার্জিলিং।

ঘিসিং মারা গেছেন প্রায় অর্ধযুগ। তারপরও পৃথক রাজ্যের দাবি মাঠ দখল করে আছে। বিজেপি বহু আগে থেকে গোর্খাদের পৃথক রাজ্য গড়ার প্রকাশ্য সমর্থক। তাতে পরপর তিনটি লোকসভা নির্বাচনে তাদের প্রার্থী জেতে ওখানে। ঘিসিংয়ের পর এই আন্দোলনের নেতৃত্ব নেয় বিমল গুরংয়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। তারা এখন এ ইস্যুতে সক্রিয়। বলা যায়, স্থানীয় প্রায় ১০ লাখ গোর্খার প্রাণের দাবি হয়ে আছে গোর্খাল্যান্ড।

রাজ্যের উত্তরে প্রায় একই রকম দাবি রাজবংশীদের। ‘কামতাপুর’ নামে তাদের নতুন রাজ্য গড়ার আন্দোলন শুরু হয় ছাত্রদের মাধ্যমে। প্রথমে অহিংসভাবে শুরু হলেও ১৯৯৫ সাল নাগাদ সেই আওয়াজ সহিংস হয়ে ওঠে কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশন বা কেএলওর মাধ্যমে।

গোর্খাল্যান্ডের চেয়ে কামতাপুর পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অখণ্ডতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। রাজবংশীরা জলপাইগুড়ি-কোচবিহারসহ রাজ্যের প্রায় চার ভাগের এক ভাগ চাইছে। তাদের দাবির পরিসর পড়েছে গোর্খাদের দার্জিলিং থেকে মালদহ এবং দুই দিনাজপুরও। প্রায় দুই কোটি মানুষের এই অঞ্চল প্রাকৃতিকভাবে বাংলার সবচেয়ে সম্পদশালী এলাকা। চা, পাট, বনাঞ্চল ছাড়াও আছে এখানে নানান খনিজ সম্পদ। আছে শক্তিশালী পর্যটন খাত এবং পানিসম্পদকে ঘিরে বড় সম্ভাবনা। বৃহৎ করপোরেটদের এসবে আগ্রহ আছে। সেই আগ্রহের প্রভাব আছে তাদের প্রিয় দল বিজেপির সিদ্ধান্তেও।

পৃথক হওয়ার আন্দোলনে আছে সশস্ত্রতার ছোঁয়া; আছে দারিদ্র্যের ইন্ধন

গত শতাব্দীর আশির দশকে প্রথমে কামতাপুর রাজ্যের আন্দোলন শুরু করে এখানকার ‘গণপরিষদ’ নামের একটা মঞ্চ। সেখান থেকে তৈরি হয় ১৯৯৫ সালে অতুল রায়ের নেতৃত্বে কামতাপুর পিপলস পার্টি। ছাত্ররাই ছিল এই আন্দোলনের মূল শক্তি, যাদের ক্ষোভ-বিক্ষোভে উচ্চবর্ণবিরোধী কিছু উপাদানও কাজ করেছে। স্থানীয় দরিদ্র মুসলমানদেরও কাছে পেতে চেয়েছিল এই আন্দোলন। সে কারণে রাজবংশী পরিচয়ের চেয়ে কামতাপুরি ভাষাগত পরিচয়কে গুরুত্ব দিতে শুরু করে আন্দোলনকর্মীরা। পুরো উত্তরবঙ্গে সংখ্যায় এরা নিজেদের ৬০ ভাগ বলে দাবি করে। এই আন্দোলনের ভেতর থেকেই তরুণদের একাংশ ভুটানের গোপন ডেরা থেকে সশস্ত্র হয়ে উঠেছিল কেএলও নামে। কথিত আছে, তাকে সহায়তা দেয় আসামের আলফা।

একই রকম মৃদু সশস্ত্রতার ছোঁয়া আছে প্রায় একই অঞ্চলে সৃষ্ট ‘গ্রেটার কোচবিহার’ আন্দোলনেও। তাদের হারিয়ে যাওয়া পুরোনো রাজ্যে যে নারায়ণী সেনা ছিল, সেটাকে পেতে চায় কোচবিহারের ‘ভূমিপুত্র’রা। নিদেনপক্ষে ভারতীয় জাতীয় বাহিনীতে ও রকম একটা ব্যাটালিয়ন দেখতে চায় তারা। বংশী বদন বর্মণের নেতৃত্বে কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের একাংশ এসব দাবিতে কয়েক বছর আগে ‘রেল রোখো’ আন্দোলন করে ওদিকের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিল।

গোর্খাল্যান্ড, কামতাপুর কিংবা গ্রেটার কোচবিহার—সব আন্দোলনে উত্তরবঙ্গের নীচুতলার মানুষের দারিদ্র্য নীরবে ইন্ধন দিয়েছে। পাশাপাশি আছে কলকাতার বাঙালি ভরকেন্দ্রের সঙ্গে প্রান্তিক জনপদগুলোর সাংস্কৃতিক দূরত্ব। বহুমাত্রিক এসব বঞ্চনাবোধ থেকেই প্রান্তবাসী মুক্তির রসদ খুঁজতে ডুব দেয় তার ইতিহাসে। এভাবেই জন্ম হচ্ছে একের ভেতর অনেক পরিচয়বাদী রাজনীতি ও পাল্টা–রাজনীতির। বিজেপি পুরো বাংলাকে জয় করতে না পেরে আঞ্চলিক এসব পরিচয়বাদী রাজনীতিকে ব্যবহার করা সুবিধাজনক ভাবছে। কোচবিহারজুড়ে বিধানসভার ৯টি আসনে ৭টি পেয়ে গেরুয়া শিবির প্রমাণ করেছে, তাদের কৌশলে লাভ হচ্ছে।

নির্বাচনে যেভাবে বাতাস পেল পৃথক পরিচয়ের রাজনীতি

কোচবিহার ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত স্বাধীন রাজ্য ছিল। শাসক ছিলেন জগদীপেন্দ্র বাহাদুর। এ রকম এক রাজ্যের নাগরিক হিসেবে সেখানকার কোচ রাজবংশীরা এখন পশ্চিমবঙ্গে ‘শিডিউল কাস্ট’। আসাম ও বিহারে তারা ‘ব্যাকওয়ার্ড কাস্ট’ এবং মেঘালয়ে ‘শিডিউল ট্রাইব’। এদের সবার স্মৃতিতেই কমবেশি উজ্জ্বল হয়ে আছে, এককালে তাদের পূর্বপুরুষদের ‘কামাতা’ নামে একটা স্বাধীন রাজ্য ছিল। সেসব স্মৃতি ও শ্রুতি থেকেই কামতাপুর আন্দোলনের জন্ম। দক্ষিণ এশিয়ার নানান সীমান্তে ছড়িয়ে থাকা কৃষিজীবী এই জনগোষ্ঠী আছেনবিহারের পূর্ণিয়ায়, বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম ও দিনাজপুরের দিকেও।

কামতাপুর পিপলস পার্টির রাজনৈতিক সংগঠকেরা ছাড়াও কোচবিহারের সামন্তীয় ঐতিহ্যের শেষ প্রধান হিসেবে আছেন স্বঘোষিত এক ‘মহারাজা’ও। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ভয়ে এই মহারাজা অনন্ত রায় থাকেন আসামের চিরাংয়ে। রাজ্যহীন এই মহারাজা গ্রেটার কোচবিহার আন্দোলনের একাংশের নেতা। বিজেপির অমিত শাহ নির্বাচনকালে আসাম গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন। এই সাক্ষাৎ শেষে অনন্ত রায় বলছেন, ‘বৈঠক খুব ভালো হয়েছে।’ এর অর্থ, বিজেপি তাদের আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিশীল। কোচ রাজবংশীদের ওই স্বঘোষিত মহারাজার দাবি, তারা জাতীয় পরিসরে বিজেপির নেতৃত্বে গঠিত জোটেও শরিক আছে। পশ্চিমবঙ্গের গত নির্বাচনকালে ইতিহাসের কোচ রাজা নারায়ণের নামে আধা সামরিক কোনো বাহিনীতে ‘নারায়ণী সেনা’ নামে একটা রেজিমেন্ট খোলারও অঙ্গীকার ছিল বিজেপির। এসবই পশ্চিমবঙ্গের ভেতর বাংলাভাষী বনাম অন্যদের পরিচয়ের রাজনীতি, তথা বিচ্ছিন্নতার বোধ উসকে দিচ্ছে ক্রমে। এবারের নির্বাচনে কোচবিহারে প্রধান ইস্যু ছিল এসবই। তৃণমূলের পার্থ চট্টোপাধ্যায় একদা এমনও অভিযোগ তুলেছিলেন, (আউটলুক, ২ আগস্ট ২০১৬) বিএসএফ নারায়ণী সেনা নামে বেসরকারি একটা গ্রুপকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। বিএসএফ তা অস্বীকার করে।

কোচ রাজবংশীদের হাতে রাখতে তৃণমূলও বসে নেই। তারা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ২০০ রাজবংশী স্কুলকে অনুমোদন দিয়েছে কিছুদিন হলো। রাজ্য পুলিশে তারাও নারায়ণী সেনা নামে একটা ব্যাটালিয়ন খুলবে বলেছে। মমতা বলেছেন, ওই ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর হবে কোচবিহারে। তৃণমূল একসময়কার হত্যা হামলার আসামি কামতাপুর আন্দোলনের নেতা বংশী বদনকেও কাছে টেনে নিয়েছে নানান হিসাব কষে, যেভাবে নিয়েছে গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের বিমল গুরংকে। কিন্তু এসব ব্যক্তিকে তৃণমূল নিজেদের দিকে টেনে আনলেও উত্তরের জমিনে বিচ্ছিন্নতার বীজে নানান তরফে জল ঢালা থেমে নেই। এর মধ্যে সর্বশেষ চমক দেখা গেল কেএলওর স্বঘোষিত চেয়ারম্যান জীবন সিং ৫ মে অজ্ঞাত স্থান থেকে সামরিক পোশাকে ১১ মিনিটের ভিডিও বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছেন উত্তরের মানুষের সামনে।

সব মিলিয়ে স্পষ্ট, কামতাপুর বা গ্রেটার কোচবিহার কিংবা উত্তরবঙ্গ নামে আলাদা এক প্রশাসনিক সত্তার ছবি ক্রমে শক্তি পাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের ভেতরে। আর তাতে বিজেপি-আরএসএস পরিবারের সহানুভূতিরও নজির মিলছে।

উত্তরের জেলাগুলোয় নতুন রাজ্যের রাজনীতি ওদিকে আরএসএসের উত্থানের সঙ্গে মিলেমিশে এগোতে দেখা যায়। রাজ্যে আরএসএসের প্রায় ১ হাজার ৭০০ শাখার বড় অংশই রয়েছে উত্তরের জেলাগুলোয়। ২০০৯ সালে লোকসভায় বামদের বিপর্যয়ের পর থেকে আরএসএস কোনো বিঘ্ন ছাড়াই একের পর এক শাখা বাড়াতে পারছে সেখানে। যার ফল পেল তারা এবার। উত্তরবঙ্গের অনেক নির্বাচনী এলাকাতেই নয়টি বুথ মিলে আরএসএসে একটা ‘শক্তিকেন্দ্র’ রয়েছে। ৬০ থেকে ৭০ জন কর্মী এ রকম একেকটা শক্তিকেন্দ্রের কাজ তদারক করে। পশ্চিমবঙ্গকে পাঁচটি ‘জোনে’ ভাগ করে ২০১৭ সাল থেকে আরএসএস যে কাজের ছকে আছে, তার প্রথম জোনই উত্তরবঙ্গ। অন্য চারে আছে তাদের ভাষায়, রাঢ়, নবদ্বীপ, হুগলি-মেদিনীপুর ও কলকাতা।

নতুন রাজ্যের আন্দোলনে মিশে আছে ভূরাজনীতিও

পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থী ও তৃণমূলকে মোকাবিলার অঙ্ক মেলাতেই যে কেবল বিভিন্ন শক্তি কোচবিহার ও দার্জিলিং ঘিরে পৃথক রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করতে চায়, তা হয়তো নয়। উত্তরে যেকোনো নতুন রাজ্য গড়া কলকাতার বাঙালিদের বেশি পছন্দ নয়, সেটা বিজেপিসহ সবারই জানা। বিজেপি মনে করে, আশপাশের অঞ্চলকে ঘিরে চীনের যেভাবে গরম নিশ্বাস পড়েছে, তাতে কোচবিহার ও দার্জিলিংয়ে ভারতীয় স্টাবলিশমেন্টের আরও শক্তপোক্ত উপস্থিতি দরকার। এলাকাটি বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের কাছাকাছি। এ অঞ্চলেই রয়েছে ভারতের ভৌগোলিক নিরাপত্তার বড় গ্রন্থি ‘শিলিগুড়ি করিডর’। চীন চলে এসেছে কাছেই ভুটানের দোকলাম পর্যন্ত। বৃহত্তর রংপুরে প্রস্তাবিত তিস্তা পুনর্বাসন প্রকল্পে চীনের সংযুক্তিও ভাবাচ্ছে হয়তো ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের।

এসব বিবেচনায় ভারতীয় সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্রের বিশেষ আগ্রহ পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে। তাদের এ রকম ভাবনায় ‘জাতীয় স্বার্থ’-এর প্রবল ছাপ আছে। কিন্তু স্থানীয় বাংলাভাষীদের কাছে সেটা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতোই ব্যাপার। তবে বিজেপি যে গুছিয়ে এগোচ্ছে, তার প্রমাণ সর্বশেষ লোকসভা নির্বাচনে পদ্মফুলের প্রার্থীরাই জেতেন কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিংয়ে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনেও চার জায়গাতেই গেরুয়া শক্তি ভালো করল। এই চার জেলা এবং সঙ্গে কালিম্পংসহ জলপাইগুড়ি অঞ্চলের পাঁচ জেলার ২৭ আসনে তৃণমূল মাত্র ৬টি পায়। বাকি ২১টি আসন গেছে বিজেপির ভান্ডারে। সব আসনে বিজেপির পক্ষে ভোটের ব্যবধানও ভালো। মমতার ‘জয় বাংলা’ ঢেউ যে এসব অঞ্চলে পরিচয়বাদী রাজনীতির উসকানি রুখতে ব্যর্থ হয়েছে। এ বিবেচনাতেই বলা হচ্ছে, এই নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে তৃণমূল জিতলেও পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ অখণ্ডতার ঝুঁকিও জিতেছে বড় দাগে। অন্তত দুটি নতুন রাজ্যের দাবি উৎসাহিত হচ্ছে সেখানে। ‘রাজ্য’-এর বদলে ‘কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল’ হলেও চলবে আগ্রহীদের। কিন্তু তাতে পশ্চিমবঙ্গ আয়তনে ছোট হয়ে যেতে পারে প্রায় ২২ হাজার বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত। মমতা আসন্ন এই ‘খেলা’ রুখবেন কীভাবে, সেটাই দেখার অপেক্ষায় সবাই।

আলতাফ পারভেজ: দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস বিষয়ে গবেষক

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন