বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ সময় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের কথা উল্লেখ করে পুতিন বলেন, গত বছর রাশিয়া ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১৭ শতাংশ কমলেও চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে তা ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এটা আরও বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে মাদক, সন্ত্রাসবাদ ও আফগানিস্তানের এখনকার পরিস্থিতির মতো আন্তর্জাতিক বিষয়েও একযোগে কাজ করতে হবে।

ভারতের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া আয়োজনের আগ্রহের কথা জানিয়ে পুতিন বলেন, এসব মহড়া ভারত ও রাশিয়া—দুই দেশের সীমানায় হতে পারে।

দিল্লিতে পুতিনকে স্বাগত জানিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘করোনা মহামারি দুই দেশের বন্ধুত্বে পরিবর্তন আনতে পারেনি। বরং মহামারিতে টিকা ও মানবিক সহায়তা নিয়ে দুই দেশ একে অপরের পাশে ছিল। দীর্ঘদিন ধরে আমরা অভিন্ন স্বার্থরক্ষায় সফল হয়েছি। এখন সময় ব্যবসা সম্প্রসারণের।’

ভূরাজনীতিতে সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাশিয়াকে পাশে চান মোদি। পুতিনের উদ্দেশে তিনি বলেন, দুই দেশেরই একে অপরের স্পর্শকাতর বিষয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তার হাত বাড়ানো উচিত।

ভারত ও রাশিয়ার মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বার্ষিক বৈঠক উপলক্ষে পুতিন দিল্লি সফরে এসেছেন। দুই নেতার শীর্ষ বৈঠকের আগে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সের্গেই সোইগু ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ আলাদা বৈঠক করেছেন। পুতিনের এই সফরে উত্তর প্রদেশের অস্ত্র কারখানায় রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে একে-৪৭ স্বয়ংক্রিয় রাইফেল তৈরির চুক্তি করেছে ভারত। রাশিয়ার অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এস-৪০০ পেতে ২০১৮ সালে করা ৫০০ কোটি ডলারের চুক্তির চূড়ান্ত রূপ দিয়েছে দুই দেশ।

বন্ধুত্বের সম্পর্ক পরীক্ষিত

এদিকে জি নিউজের খবরে বলা হয়, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, ইন্দো–রুশ মিত্রতায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অন্যতম একটি স্তম্ভ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বহুপক্ষীয়তা, বিশ্বশান্তি রক্ষা এবং পারস্পরিক বিশ্বাস ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে তা দুই দেশের অভিন্ন লক্ষ্য পূরণে পরীক্ষিত ভূমিকা রেখেছে।

গতকাল সোমবার দিল্লিতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল সের্গেই সোইগুর সঙ্গে বৈঠকে রাজনাথ সিং এমন মন্তব্য করেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীও ভারত সফর করছেন।

বৈঠকে ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ভারত–রাশিয়ার পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও কৌশলগত সহযোগিতার সম্পর্ক এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। রাজনাথ সিং বলেন, অভিন্ন স্বার্থের কারণে দুই দেশের এই সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এখনকার রূপ পেয়েছে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন