default-image

জল্পনাই সত্যি হলো। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এনডিটিভি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড ময়দানে আজ রোববার বিজেপির সমাবেশ। এই সমাবেশে যোগ দিয়ে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রচারাভিযান শুরু করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মোদির সমাবেশ শুরুর কিছুটা আগে বিজেপিতে যোগ দেন মিঠুন।

২৭ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন শুরু হবে। আট দফার এই নির্বাচন শেষ হবে আগামী ২৯ এপ্রিল। ফলাফল ঘোষিত হবে আগামী ২ মে। এই নির্বাচন সামনে রেখে মিঠুনকে দলে ভিড়িয়ে চমক দিল বিজেপি।

বিজেপি সূত্র আগেই জানিয়েছিল, আজকের সমাবেশে মোদির সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন মিঠুন। শুধু তা-ই নয়, তিনি ভাষণও দিতে পারেন।

মিঠুন গতকাল শনিবার রাতেই কলকাতায় আসেন। ওঠেন বেলগাছিয়ায় নিজ বাসভবনে। মিঠুন কলকাতায় আসার পর রাতেই তাঁর বাসভবনে যান বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা ও পশ্চিমবঙ্গে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। সেখানে তিনি মিঠুনের সঙ্গে আলাপ করেন।

মিঠুন কলকাতায় আসায় তিনি বিজেপিতে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে রাজ্যজুড়ে জল্পনা শুরু হয়। মিঠুনকে এবারের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির তুরুপের তাস করা হবে কি না, তাঁকে বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী পদে প্রার্থী করে প্রচারে নামায় কি না, এসব প্রশ্ন নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়।

মিঠুন বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন কি না, এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল দলটির নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র কাছে। মিঠুনের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে তিনি বলেছিলেন, তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। তিনি সমাবেশে যোগ দেবেন। মিঠুনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পর বিজেপিতে তাঁর যোগ দেওয়ার বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে।

তবে আজ সভা শুরুর আগেই মিঠুনের হাতে বিজেপির পতাকা তুলে দেওয়া হয়। পতাকা তুলে দেন কৈলাস বিজয়বর্গীয় ও রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

ব্রিগেড ময়দানে বিজেপির সমাবেশের মঞ্চে উঠেছেন মিঠুন। তাঁকে মঞ্চে বিজেপির নেতাদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে জনতার উদ্দেশে হাত নাড়তে দেখা যায়। পরে মঞ্চে মোদি এলে তাঁর হাতে হাত রাখেন মিঠুন।

বিজ্ঞাপন
default-image

রাজ্যে মিঠুনের ব্যাপক ভক্ত-সমর্থক আছে। বিশেষ করে ২০০৬ সালের ‘এমএলএ ফাটাকেষ্ট’ ছবিটি মুক্তির পর তাঁর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে ওঠে। এই ছবির জনপ্রিয় একটি সংলাপ—‘মারবো এখানে লাশ পড়বে শ্মশানে’।

৭০ বছর বয়সী মিঠুন বাংলার ছেলে। এই বাঙালি অভিনেতা বলিউডের চলচ্চিত্রেও খ্যাতি কুড়ান।

মিঠুন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে রাজ্যসভার সদস্য হয়েছিলেন। তিনি তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভায় ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। মিঠুনকে ওই সময় সারদা গোষ্ঠীর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর করা হয়। এ জন্য তিনি পারিশ্রমিকও পেয়েছিলেন। পরে সারদার আর্থিক কেলেঙ্কারি ফাঁস হলে মিঠুনেরও নাম জড়ায়। সারদার কাছ থেকে নেওয়া পারিশ্রমিকের অর্থ তদন্তকারী সংস্থা ইডির হাতে তুলে দেন মিঠুন। ইডির কাছ থেকে রেহাই পেয়ে মিঠুন ছেড়ে দেন তৃণমূল। ছাড়েন রাজ্যসভার পদ। এমনকি রাজনীতিও ছাড়েন তিনি। এ ঘটনার পর মিঠুন কলকাতা থেকে চলে যান। তিনি থাকতে শুরু করেন মুম্বাইতে।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সরস্বতীপূজার দিন মিঠুনের মুম্বাইয়ের বাংলোয় হাজির হন আরএসএস-প্রধান মোহন ভাগবত। মোহন ভাগবতের সঙ্গে বৈঠকের পর মিঠুনের ফের রাজনীতিতে ফেরা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। তবে তখন তিনি তা অস্বীকার করেন।
বিজেপি সূত্র বলছে, আজকের সমাবেশের মঞ্চে আরও অনেক তারকাকে দেখা যেতে পারে।

গতকাল বিজেপি সূত্র জানায়, আজকের সমাবেশে বলিউড তারকা অক্ষয় কুমার যোগ দেবেন। অক্ষয় কুমার ইতিমধ্যে বিজেপির আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।

অক্ষয় কুমারের সঙ্গে বাংলার দীর্ঘদিনের একটা টান রয়েছে। তিনি প্রথম জীবনে কলকাতায় চাকরি করেছেন। তারপর চলচ্চিত্রে পা রেখে তারকাখ্যাতি পেয়েছেন।
বিজেপি ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, ব্রিগেড ময়দানে অনুষ্ঠিত এযাবৎকালের সব সমাবেশকে টেক্কা দিয়ে আজ এক নতুন ইতিহাস গড়া হবে। এই ময়দানে আজ সবচেয়ে বড় সমাবেশ হবে।

মোদির এই সমাবেশে বিপুলসংখ্যক জনতার সমাগম ঘটাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে রাজ্য বিজেপি। এই সমাবেশে চমক থাকছে বলে রাজ্যে জোর গুঞ্জন চলছে।

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী মোদির কলকাতা সফর বিজেপির প্রচারকে আরও বেগবান করবে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন