default-image

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এখন পর্যন্ত যে খবর মিলেছে, তাতে ফলাফলে তৃণমূল কংগ্রেসের পাল্লা ভারী থাকলেও প্রচণ্ড লড়াইয়ের মুখে পড়তে হবে মমতাকে। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হবে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন নিয়ে এবিপি আনন্দ ও সিএনএক্সের সর্বশেষ যৌথ সমীক্ষায় এমন ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বিধানসভার মোট আসন ২৯৪। আর এই রাজ্যের লোকসভার আসন ৪২। ২৩ জানুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে বিধানসভার ১১২টি কেন্দ্রে ভোটারদের মনোভাব জানতে যৌথভাবে সমীক্ষা চালায় এবিপি আনন্দ ও সিএনএক্স। ৮ হাজার ৯৬০ জন পুরুষ ও নারী ভোটারের ওপর চালানো এই জনমত সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয় গতকাল সোমবার রাতে।

সমীক্ষার ফলাফলে বলা হয়, ২০২১ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে মূল লড়াই হবে শাসক দল তৃণমূলের সঙ্গে প্রধান বিরোধী দল বিজেপির। তবে এখন পর্যন্ত যে ফলাফল উঠে এসেছে, তাতে মনে করা হচ্ছে, তৃণমূল পেতে পারে ১৪৬ থেকে ১৫৬ আসন।

বিজেপি পেতে পারে ১১৩ থেকে ১২১ আসন। আর কংগ্রেস-বাম জোট পেতে পারে ২০ থেকে ২৮টি আসন। রাজ্যে সরকার গড়তে হলে প্রয়োজন ১৪৮টি আসন।

সমীক্ষায় আরও বলা হয়, তৃণমূল ৪২ শতাংশ, বিজেপি ৩৭ শতাংশ এবং বাম-কংগ্রেস ১৭ শতাংশ ভোট পেতে পারে। তবে সর্বশেষ ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল পেয়েছিল ২১১টি আসন। বিজেপি পেয়েছিল ৩টি আসন। আর কংগ্রেস ও বামদল মিলে পেয়েছিল ৭৬টি আসন। ফলে ২০১৬ সালের আলোকে দেখতে গেলে, দেখা যাচ্ছে তৃণমূলের ভোট কমছে। কমছে বাম ও কংগ্রেসের ভোট। তবে বাড়ছে বিজেপির ভোট। গত ২০১৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূল পেয়েছিল ৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট।

বিজেপি পেয়েছিল ১০ দশমিক ২ শতাংশ ভোট, কংগ্রেস-বামদল পেয়েছিল ৩২ শতাংশ ভোট।

বিজ্ঞাপন

সমীক্ষায় এই রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ভোটাররা কাকে দেখতে চান—এই প্রশ্নের জবাবে ভোটারদের ৩৮ শতাংশ বলেছেন মমতার নাম। দিলীপ ঘোষের নাম বলেছেন ১৯ শতাংশ ভোটার। শুভেন্দু অধিকারীর নাম বলেছেন ১০ শতাংশ ভোটার।

প্রখ্যাত ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলীর রাজনীতিতে যোগদান করা উচিত হবে কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে ৭৭ শতাংশ ভোটার হ্যাঁ বলেছেন।

মমতার আমলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বেড়েছে, এ কথা বলেছে ২০ শতাংশ ভোটার। কমেছে বলেছেন ৩৮ শতাংশ ভোটার। আর একই আছে বলেছেন ৩৯ শতাংশ ভোটার।

আর নির্বাচনী ইশতেহারে সিএএ ও এনআরসি চালুর প্রতিশ্রুতি দিলেও আপনি কি আসন্ন নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট দেবেন—এই প্রশ্নের জবাবে হ্যাঁ বলেছেন ৩৮ শতাংশ ভোটার। না বলেছেন ৫৪ শতাংশ ভোটার।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন