default-image

ভারতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন কারখানা চালু করেছে স্যামসাং ইলেকট্রনিকস। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনকে সঙ্গে নিয়ে এ কারখানাটি উদ্বোধন করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারতের রাজধানী দিল্লির কাছে নয়ডায় স্যামসাংয়ের এ কারখানার অবস্থান।

এ কারখানা থেকে বছরে এখন ১২ কোটি মোবাইল ফোন উৎপাদন হবে। এক বছর আগে এ কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ৬ কোটি ৮০ লাখ। কারখানা সম্প্রসারণের পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েক ধাপে ২০২০ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে। স্যামসাংয়ের পাশাপাশি চীনের স্মার্টফোন ব্র্যান্ড শাওমি, অপো এখন ভারতে মোবাইলের কারখানা করেছে। ভারত সরকারের উৎপাদনমুখী নীতিমালার সুবিধা নিয়ে এ সব কারখানায় বিনিয়োগ করছে বহুজাতিক স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলো।

১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশ ভারতে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বর্তমানে ৫২ কোটি ৪০ লাখ। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির হিসাবে, ২০১৭ সালের ভারতের বাজারে ১২ কোটি ৪০ লাখ স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে। দেশটিতে নিত্য নতুন মডেলের স্মার্টফোনের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। শাওমি গত এপ্রিলে ভারতে আরও তিনটি কারখানা তৈরির ঘোষণা দিয়েছে।

স্যামসাং ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ সি হং এক বিবৃতিতে বলেন, ভারত সরকারের উৎপাদনমুখী নীতিমালার সঙ্গে আমরা একমত। ভারতকে বিশ্ব উৎপাদনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশা করি।

স্যামসাংয়ের এ কারখানায় একেবারে কম দাম থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ দামের ও মানের এস-এইট স্মার্টফোন তৈরি হবে। চলতি বছরে স্যামসাংকে হটিয়ে ভারতের স্মার্টফোন বাজারে শীর্ষস্থান দখল করেছে শাওমি। নতুন এ কারখানা স্যামসাংয়ের হারানো অবস্থান ফিরে পেতে সহায়ক হবে বলে বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

ভারতের বেশির ভাগ ব্যবহারকারী ২০ হাজার টাকা বা এর কম দামের স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। এ কারণে ভারতে খুব বেশি বাজার দখলে নিতে পারেনি মার্কিন কোম্পানি অ্যাপল। বর্তমানে চীনের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ স্মার্টফোনের বাজার হলো ভারত। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে দেশটি।

দেশীয় প্রতিষ্ঠান ফেয়ার ইলেকট্রনিকসের মাধ্যমে বাংলাদেশেও মোবাইল ফোন সংযোজন কারখানা চালু করেছে স্যামসাং। নরসিংদীর এ কারখানায় ইতিমধ্যে স্মার্টফোন সংযোজন শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0