বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
  • ভারতে ব্রিটিশ শাসনের শুরু হয়েছিল ১৭৬৯-৭০ এর দুর্ভিক্ষের মধ্য দিয়ে। এরপর পুরো শাসনকালে নিয়মিত দুর্ভিক্ষ হয়েছে।

  • ব্রিটিশ রাজত্বের অবসানও হয়েছিল ১৯৪৩ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের মধ্য দিয়ে। পক্ষান্তরে ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকে ভারতে আর কোনো দুর্ভিক্ষ হয়নি।

  • ভারতের জনগণ যত দিন না তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো পেয়েছে, তত দিন ভারত দুর্ভিক্ষ থেকে মুক্তি পায়নি।

ভারতের সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের সংযোগ

শৃঙ্খলাহীন ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পিছিয়ে পড়া ভারতে আঠারো শতকের মধ্যভাগে বড় ধরনের পরিবর্তন দরকার ছিল, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু ভারত এর আগে থেকেই দর্শন, গণিত, সাহিত্য, কলা, স্থাপত্য, সংগীত, ওষুধ, ভাষাতত্ত্ব ও জ্যোতির্বিদ্যায় সমৃদ্ধ ছিল। অ্যাডাম স্মিথের মতো ব্রিটিশ পর্যবেক্ষকেরাও ভারতের অর্থনৈতিক প্রাচুর্যের স্বীকৃতি দিয়েছেন। তবে প্রকৃত সত্য হচ্ছে, এত অর্জনের পরেও আঠারো শতকের মধ্যভাগে ইউরোপের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল ভারত।

রাজা রামমোহন রায়ের (১৭৭২ সালে জন্মগ্রহণকারী) মতো ব্যক্তিরা শুধু প্রচলিত সংস্কৃত, আরবি বা ফার্সি লেখাই পড়েননি, ইংরেজি লেখার সঙ্গেও পরিচিত হয়ে ওঠেন তাঁরা। রামমোহন রায়ের পর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মধুসূদন দত্ত ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনুসারী কয়েক প্রজন্ম এবং তাঁদের উত্তরসূরিরা আঠারো ও উনিশ শতকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউরোপের অগ্রগতি থেকে নিজেদের আলোকিত করেন, সেই আলোকে তাঁরা ভারতকে নতুন করে দেখতে শুরু করেন। তাঁদের এই আলোকবর্তিকার মূল উৎস ছিল বই, যেগুলো সাধারণত ইংরেজি ভাষায় লেখা। এসব বই ভারতে নিয়ে যেত ব্রিটিশরা। ইউরোপীয় সংস্কৃতির সেই বুদ্ধিবৃত্তিক প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। যদিও ব্রিটিশদের সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তি নাটকীয়ভাবে খর্ব হয়েছে।

কার্ল মার্ক্স ভারতে যেসব পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন, সেগুলো যথার্থ ছিল। কারণ, রেনেসাঁ ও শিল্পবিপ্লবের ফলে বিশ্বজুড়ে যে বুদ্ধিবৃত্তিক ও অর্থনৈতিক জাগরণ ঘটেছিল, তার অংশ হতে না পারায় ভারতের পুরোনা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। তবে এখানে মার্ক্সের তত্ত্বে ত্রুটি ছিল বলা যায়। বিশেষ করে তিনি ব্রিটিশ শাসনকে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সে সময় ভারতের অনেক বেশি দরকার ছিল গঠনমূলক বিশ্বায়ন, কিন্তু তা সাম্রাজ্যবাদ নয়। এই দুইয়ের পার্থক্যটা গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ ইতিহাসজুড়ে ভারত বহির্বিশ্বের সঙ্গে ভাবনা ও পণ্য বিনিময় করে আসছিল। দুই হাজার বছর আগে থেকে শুরু করে কয়েক শতক ধরে ব্যবসায়ী, অভিবাসী ও পণ্ডিতেরা ভারত এবং আরও পূর্বের চীন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডসহ আশপাশের এলাকায় যাওয়া–আসা করছিল। দীর্ঘ ইতিহাসজুড়ে ভারত বহির্বিশ্বের সঙ্গে ভাবনা ও পণ্য বিনিময় করে আসছিল। এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিশেষ করে ভাষা, সাহিত্য ও স্থাপত্যে এখনো ব্যাপকভাবে দেখা যায়।

প্রথম শতাব্দীতে জেরুজালেমের পতনের পরপরই ইহুদিরা ভারতে আসতে শুরু করে এবং তা কয়েক শতক ধরে চলতে থাকে। অন্তত চতুর্থ শতক থেকে, সম্ভবত আরও আগে আসতে শুরু করে খ্রিষ্টানরা। ইরানে দমনপীড়ন শুরু হলে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম দিক থেকে আসতে শুরু করে পারস্যরা। ওই শতকের শেষ দিকে আর্মেনিয়ানরা কেরালা থেকে বাংলায় আসে। ওই সময় থেকেই ভারতের পশ্চিম উপকূলে আসতে শুরু করে মুসলিম আরব ব্যবসায়ীরা। উনিশ শতকে ইরানে বাহাইদের ওপর নির্যাতন শুরু হলে এই সম্প্রদায়ের লোকজন আসে। আর যখন পলাশী যুদ্ধ হয়, সেই সময়ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীসহ অন্যান্য পেশাজীবী গঙ্গা অববাহিকার কাছে বসতি গেড়েছিল।

একক শাসন প্রতিষ্ঠার ধারণা

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের পক্ষের তাত্ত্বিকেরা আরেকটি বিষয় বড় করে দেখাতে চান, ব্রিটিশরাই পুরো ভারতবর্ষকে এক শাসনের অধীনে নিয়ে এসেছিল। তাঁদের ব্যাখ্যা, ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠার আগপর্যন্ত ভারতে একগুচ্ছ রাজত্ব ছিল। ব্রিটিশ শাসনই ভারতকে একত্র করে। যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল এমন মন্তব্যও করেছেন যে ব্রিটিশরা আসার আগপর্যন্ত কোনো ভারতীয় জাতি ছিল না। ভারত ছিল একটি ভৌগোলিক ধারণা।

এটি সত্যি হলে ব্রিটিশরাজ স্পষ্টত একত্রীকরণে ভূমিকার মধ্য দিয়ে ভারতের আধুনিকায়নে পরোক্ষ অবদান রেখেছে। কিন্তু ভারতের একত্রীকরণে ব্রিটিশরাজের ভূমিকা নিয়ে এই দাবি কি সঠিক? এভাবে দেখলে ভারতের ইতিহাস প্রকৃত সত্যের বিপক্ষে যাবে। হাজার বছর ধরে এখানকার বড় বড় শাসক তাদের সাম্রাজ্যকে ভারতবর্ষ হিসেবে পরিচয় দিয়ে এসেছে। খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দী থেকে উচ্চাভিলাষী ও প্রতাপশালী সম্রাটেরা যতক্ষণ পর্যন্ত পুরো দেশ তাঁদের অধীনে না আসছিল, ততক্ষণ পর্যন্ত নিজেদের শাসনকে পূর্ণাঙ্গ মনে করতেন না। গুপ্ত সম্রাট অশোক মৌর্য, মোগল সম্রাট আলাউদ্দিন খিলজিসহ অন্যদের এ ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা রয়েছে। তাই আমাদের এই ভ্রান্ত ধারণা করা উচিত হবে না যে আঠারো শতকের মধ্যভাগে ভারতে যে বিভক্ত শাসনব্যবস্থা দেখা যায়, তা ব্রিটিশরা এসে এক করার আগপর্যন্ত ইতিহাসজুড়েই ছিল।

বাংলার অর্থনৈতিক রক্তক্ষরণ

পলাশীর যুদ্ধের খুব অল্প সময়ের মধ্যে ‘বাংলার অর্থনৈতিক রক্তক্ষরণ’ শুরু হয়। তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন নবাবদের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শুধু রাজস্বই নয়, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বাংলায় বিনা শুল্কে বাণিজ্য করে বিপুল অর্থ পায়। এর বাইরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও নিয়মিত তারা কথিত উপঢৌকন পেতে থাকে। ভারত থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চিত্র উঠে আসে ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ডালরিম্পলের পর্যালোচনায়। তিনি লিখেছেন, ১৬০০ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন গড়ে তোলা হয়, তখন বিশ্ব জিডিপিতে ব্রিটেনের অবদান ছিল ১ দশমিক ৮ শতাংশ, আর ভারতের ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। যখন ব্রিটিশরাজের শাসন চূড়ায় তখন চিত্র উল্টো। ভারত তখন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় উৎপাদনকারী দেশ থেকে ‘দুর্ভিক্ষ ও বঞ্চনার প্রতীকে’ পরিণত হয়েছে।

বাংলা থেকে লুট করা অর্থ ব্রিটিনে চলে যেত। এর সুবিধাভোগী ছিল ব্রিটেনের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতৃত্ব। পলাশী যুদ্ধের পর দেখা গেল, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্যদের প্রায় এক–চতুর্থাংশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শেয়ার কিনেছেন।

ক্ল্যাসিক্যাল উপনিবেশবাদ

এই লুটেরা শাসকগোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত ভারতে ক্ল্যাসিক্যাল উপনিবেশবাদের পথ করে দিয়েছিল। তা হয়েছিল আইনের শাসন ও যুক্তিসংগত শাসনব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে। কিন্তু প্রথম দিকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি রাষ্ট্রক্ষমতার যে অপব্যবহার করেছিল, তাতে বাংলার অর্থনীতি ব্যাপক চাপের মুখে পড়ে। মানচিত্রকর জন থর্নটন ১৭০৩ সালে তাঁর আঁকা প্রখ্যাত মানচিত্রে এই অঞ্চলকে ‘ধনসম্পদে পরিপূর্ণ বাংলা রাজ্য’ বলে উল্লেখ করেন। অথচ সেই বাংলায় ১৭৬৯-৭০ সালে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়। ধারণা করা হয়, তখন বাংলার এক-তৃতীয়াংশ লোকের মৃত্যু হয়। এটি অতিরঞ্জন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে সন্দেহ নেই যে তখন ব্যাপক বিপর্যয় ঘটে, ব্যাপকভাবে খাদ্যাভাব ও মৃত্যু হয়। অথচ এর আগে দীর্ঘ সময় এ অঞ্চলে কোনো দুর্ভিক্ষ হয়নি।

ব্রিটিশ ভারতে কতটা সফল ছিল উপনিবেশবাদ

ব্রিটিশ ভারতে আঠারো শতকের শেষ দিক থেকে ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা পর্যন্ত উপনিবেশবাদ কতটা সফল হয়েছিল? ব্রিটিশরা দাবি করে, এখানে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, রেলওয়ে, জয়েন্ট স্টক কোম্পানি, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিপুল অর্জন রয়েছে। কিন্তু তত্ত্ব আর বাস্তবতার তুলনা করলে দুই দেশের ঔপনিবেশিক সম্পর্কের ইতিহাসজুড়ে দেখা যায়, এক ক্রিকেট ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে ফারাকটা অনেক। ভারতে দুর্ভিক্ষ ঠেকানো বা ভগ্নস্বাস্থ্যের প্রতিকারের বিষয়টি ব্রিটিশ শাসনের অর্জনের তালিকায় নেই। এই সাম্রাজ্যের যখন শেষ হয়, তখন ভারতে মানুষের গড় আয়ু ছিল অবাক করার মতো, মাত্র ৩২ বছর।

এমনকি ভারতে শিক্ষা খাতটিও ছিল অবহেলিত। উনিশ শতকে ব্রিটিশ সরকার তার জনগণের জন্য সর্বজনীন শিক্ষা অর্জনে ক্রমশ জোরালো অবস্থান নিচ্ছিল। অন্যদিকে ব্রিটিশরাজের অধীনে ভারতে শিক্ষার হার ছিল খুবই কম। ব্রিটিশ শাসনের যখন সমাপ্তি ঘটে, তখন দেখা যায় ভারতে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে শিক্ষার হার টেনেটুনে ১৫ শতাংশ। একমাত্র স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ট্রাভানকোর ও কোচিনে শিক্ষার হার ছিল বেশি। এই অঞ্চল শুধু পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে ব্রিটিশ শাসনের ওপর নির্ভর করত।

স্বাধীন গণমাধ্যমের ধারণা

ঔপনিবেশিক শাসনের ২০০ বছর ছিল ব্যাপক অর্থনৈতিক স্থবিরতার কাল। প্রকৃত মাথাপিছু আয়ও বাড়েনি। ভারত স্বাধীন হওয়ার পরই এই নির্মম সত্য স্বাধীন গণমাধ্যমের কল্যাণে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। এটা স্বীকার করতে হবে যে ভারতীয় গণমাধ্যম এই চরিত্র পেয়েছিল ব্রিটিশ সিভিল সোসাইটির কাছ থেকেই। ব্রিটিশরাজের সময় সাম্রাজ্যবাদী সরকারের সমালোচনা যাতে করতে না পারে, সে জন্য প্রায়ই ভারতীয় গণমাধ্যমের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হতো। যেমনটি করা হয়েছিল ১৯৪৩ সালে বাংলায় দুর্ভিক্ষের সময়। অন্যদিকে ব্রিটেনে খুব যত্নে লালন করা মুক্ত গণমাধ্যমের চর্চা স্বাধীন ভারতের সামনে অনুসরণীয় মডেল হিসেবে হাজির করা হয়েছিল।

ভারতে ব্রিটিশ শাসনের শুরু হয়েছিল ১৭৬৯-৭০ এর দুর্ভিক্ষের মধ্য দিয়ে। এরপর পুরো শাসনকালে নিয়মিত দুর্ভিক্ষ হয়েছে। ব্রিটিশ রাজত্বের অবসানও হয়েছিল ১৯৪৩ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের মধ্য দিয়ে। পক্ষান্তরে ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকে ভারতে আর কোনো
দুর্ভিক্ষ হয়নি।

পরিহাস হলো, যেসব বিষয় স্বাধীন ভারত থেকে দুর্ভিক্ষ দূর করেছে—গণতন্ত্র ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যম, সেগুলো সরাসরি ব্রিটেন থেকেই এসেছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দুর্ভিক্ষ দূর করার সম্পর্ক বোঝাটা খুবই সহজ। দুর্ভিক্ষ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকলেই স্বাধীন সংবাদমাধ্যম তা তুলে ধরে। তখন গণতান্ত্রিক ভোটে জেতা কঠিন হয়ে পড়ে। অথবা দুর্ভিক্ষের পরে সময়ক্ষেপণ না করে সমস্যার সমাধানে সরকারকে বাড়তি উদ্যোগ নিতে হয়।

ভারতের জনগণ যত দিন না তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো পেয়েছে, তত দিন ভারত দুর্ভিক্ষ থেকে মুক্তি পায়নি। যদিও বিশ্বের সবচেয়ে অগ্রবর্তী গণতান্ত্রিক দেশ তাদের শাসন করেছে। এই শাসকদের দেশে স্বাধীন গণমাধ্যম থাকলেও উপনিবেশগুলোতে ছিল না।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯৪১ সালে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে যৌক্তিক অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ব্রিটেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থেকে ভারত অনেক কিছুই অর্জন করেছে। যেমন শেক্‌সপিয়ারের নাটক, বায়রনের কাব্য নিয়ে আলোচনা এবং মোটের ওপর...উনিশ শতকের ইংরেজ রাজনীতির বিশাল উদারতাবাদ। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, প্রকৃত সত্য হচ্ছে যে তাদের নিজেদের সভ্যতায় যেটা সবচেয়ে বড়—মানুষ মানুষের সম্পর্কের মর্যাদাকে সমুন্নত রাখা, তার কোনো স্থান এ দেশে ব্রিটিশ প্রশাসনে ছিল না।

সংক্ষেপিত অনুবাদ: লিপি রানী সাহা

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন