বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ভারতের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ভারতে করোনা রোগী এতটা বৃদ্ধির এই প্রবণতা বুঝিয়ে দিচ্ছে, প্রথম দফার চেয়ে দ্বিতীয় ঢেউয়ে করোনার সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে।

ভারতের অন্যতম শীর্ষ করোনা সংক্রমিত রাজ্য কেরালা। রাজ্য সরকারের করোনা টাস্কফোর্সের ডা. এ ফাতাহুদ্দিন বলেন, সংক্রমণের এই যে ঊর্ধ্বগতি, তা একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল না। কারণ, সংক্রমণ যখন কমে এসেছিল, তখন বিধিনিষেধের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছিল।

ভারতের বর্তমান করোনা পরিস্থিতির জন্য বড় ধরনের ধর্মীয় জমায়েত, অধিকাংশ জনসমাগম স্থান চালু করে দেওয়া, নির্বাচনী সভা-সমাবেশ শুরুর মতো বিষয়গুলোকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ ফাতাহুদ্দিন বলেন, সতর্ক হওয়ার জন্য গত ফেব্রুয়ারি মাসেই সংকেত পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু সেই সংকেত আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ফাতাহুদ্দিন বলেন, ‘আমি ফেব্রুয়ারিতেই বলেছিলাম, করোনা যায়নি। জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে একটি সুনামি আঘাত হানতে পারে। দুঃখজনক হলো, সেই সুনামি সত্যিই এখন আমাদের আঘাত করেছে।’

ভারতের বর্তমান ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতির জন্য সবাইকে দায়ী করেন এ ফাতাহুদ্দিন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবার মধ্যে স্বাভাবিকতার একটি ভ্রান্ত অনুভূতি কাজ করছিল। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তা—কেউ করোনার দ্বিতীয় ঢেউ প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেয়নি।

গত ২৫ মার্চ ভারত ঘোষণা দেয়, দেশটিতে করোনার একটি নতুন ‘ডাবল মিউট্যান্ট’ ধরন শনাক্ত হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্য থেকে সংগৃহীত নমুনায় এই ধরনটি পাওয়া গেছে।

ভারতের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ শহীদ জামিলের ভাষ্য, ‘ডাবল মিউটেশনের’ ফলে ভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। ডাবল মিউটেশনের ভাইরাস মানুষের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে (ইমিউন সিস্টেম) ফাঁকি দিতে পারে।

শহীদ জামিল বলেন, ভারতে বর্তমানে করোনা সংক্রমণের যে ঊর্ধ্বগতি, তার পেছনে ভাইরাসে পরিবর্তনের এই বিষয়টি একমাত্র যৌক্তিক ব্যাখ্যা হতে পারে।

‘ডাবল মিউট্যান্ট’ আরও সহজে ছড়িয়ে পড়ে কি না, এটি টিকার কার্যকারিতাকে এড়াতে পারে কি না, এসব বিষয় নিয়ে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এখন গবেষণা করছেন।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন