ভারতে করোনায় কর্মহীন ২ কোটির বেশি

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পরে দুই কোটির বেশি ভারতীয় চাকরি হারিয়েছেন
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পরে দুই কোটির বেশি ভারতীয় চাকরি হারিয়েছেন ছবি: সংগৃহীত
বিজ্ঞাপন
*এপ্রিল থেকে আগস্টে কাজ হারিয়েছেন ২ কোটির বেশি ভারতীয়
*ভারতে জুলাইয়ে কাজ হারিয়েছেন ৪৮ লাখ কর্মী, আগস্টে ৫০ লাখ
* করোনাকালে ভারতে কৃষিকাজে যুক্ত হয়েছেন ১ কোটি ৪৯ লাখ

ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমেনি। ৪৪ লাখ ৬৫ হাজার ৮৬৩ জন শনাক্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার মৃত্যু ১ হাজার ১৭২ জন। দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৭৫ হাজার ৬২ জনের। করোনা ছড়িয়ে পড়লে মার্চের শেষের দিকে লকডাউন শুরু হয় ভারতে। লকডাউনের পর শুরু হয় আনলক। এখন চতুর্থ পর্যায়ের আনলক চলছে। সংক্রমণ না কমে দিন দিন বাড়ছে। করোনার প্রভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই চাকরি হারিয়েছেন ভারতীয়রাও।

সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমির (সিএমআইই) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন দুই কোটির বেশি ভারতীয়। তাঁরা সবাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতনভুক্ত কর্মী। এর মধ্যে জুলাই মাসে দেশটিতে প্রায় ৪৮ লাখ কর্মী কাজ হারিয়েছেন। আগস্টে এসে কাজ হারানো এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ লাখে। করোনার পরে এপ্রিল থেকে আগস্ট—পাঁচ মাসে কাজ হারিয়েছেন ২ কোটি ১০ লাখ মানুষ।
মার্চে লকডাউন শুরু হলে ভারতের অনেক কোম্পানি ছাঁটাই শুরু করে। কোনো কোনো কোম্পানি বেতন কমিয়ে দেয় কর্মীদের। আবার কাজ নেই বেতন নেই, এই ফর্মুলায়ও চলে যায় কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সিএমআইইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মহেশ ভিয়াজ বলেন, যদিও বেতনভুক্ত কর্মীদের চাকরি সহজে যায় না। একবার গেলে নতুন করে চাকরি পাওয়াও কঠিন। আর চাকরি হারালে ওই পরিবারের সদস্যরা পড়েন বিপাকে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ভারতে বেতনভুক্ত ১ কোটি ৯০ লাখ কর্মীর সংকট ছিল। ওই অর্থবছরে এ সংকটের পরিমাণ ছিল ২২ শতাংশ।

default-image

সিএমআইইর তথ্যে দেখা গেছে, শুধু করোনাকালে ৬৮ লাখ মানুষ কাজ হারিয়েছেন, যাঁরা দিনভিত্তিক কাজ করে বেতন পেতেন। আবার এই সময়ের মধ্য কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন ১ কোটি ৪৯ লাখ। তবে কৃষিকাজে যুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্য কাজ হারানো কতজন, তা সিএমআইই জানায়নি।

সিএমআইইর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০১৯-২০ সালে ভারতে বেতনভুক্ত কর্মীর সংখ্যা ছিল ৮ কোটি ৬০ লাখ। এ বছরের আগস্টে সেই সংখ্যা কমে হয়েছে সাড়ে ৬ কোটি। সব ধরনের কর্মীরাই কাজ হারিয়েছেন। জুলাইয়ে বেকারত্বের হার ছিল ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ। আগস্টে বেকারত্বের হার বেড়ে হয় ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ। জুলাইয়ে শহরাঞ্চলে বেকারত্বের হার ছিল ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আগস্টে সেই হার বেড়ে হয় ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
যদিও বেতনভুক্ত কর্মীদের চাকরি সহজে যায় না। একবার গেলে নতুন করে চাকরি পাওয়াও কঠিন। আর চাকরি হারালে ওই পরিবারের সদস্যরা পড়েন বিপাকে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ভারতে বেতনভুক্ত ১ কোটি ৯০ লাখ কর্মীর সংকট ছিল। ওই অর্থবছরে এ সংকটের পরিমাণ ছিল ২২ শতাংশ
সিএমআইইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মহেশ ভিয়াজ

সিএমআইইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মহেশ ভিয়াজ বলেন,শহরের তুলনায় বেকারত্ব অনেক বেড়েছে গ্রামে। জুলাই মাসে ভারতের গ্রামাঞ্চলে বেকারত্বের হার ছিল ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ, আগস্টে তা বেড়ে হয় ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। লকডাউন শুরুর পরের মাসে এপ্রিল ভারতজুড়ে বেকারত্বের হার ছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। আগস্টে তা বেড়ে হয় ৮ দশমিক ৪ শতাংশ। এ সময়ের মধ্যে কর্মসংস্থানের হার ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

করোনাকালে ভারতের যে আর্থিক পরিস্থিতি, তার ফলে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছেন বেতনভুক্ত কর্মীরা। পরিচারক, রাঁধুনি, গাড়িচালক, মালি, নিরাপত্তারক্ষীর মতো বেতনভুক্ত কর্মীদের ধরলে ভারতের মোট কর্মীর ২১ থেকে ২২ শতাংশ হয়। এ ক্ষেত্রে করোনার ধাক্কা সবচেয়ে বেশি লেগেছে। তথ্যসূত্র: আইএএনএস

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন