বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০১৭ সালের মে মাসে আসামের করিমগঞ্জের বাবলু ওরফে সুজিত পালকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করেন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। ওই মামলার শুনানি চলাকালে হাইকোর্ট জানান, ১৯৬৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দুই বছর বয়সী বাবলু তাঁর বাবা বলরাম পালের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেন। এরপর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছ থেকে শরণার্থী হিসেবে পরিচয়পত্র পান। ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে থাকার পরে বাবলু করিমগঞ্জে গিয়ে ব্যবসা শুরু করেন।

১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন মোতাবেক আসামের নাগরিকত্ব পেতে বাবলুর কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। আইন অনুযায়ী ১৯৬৬ সালের পয়লা জানুয়ারির আগে যাঁরা পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তাঁরা স্বাভাবিকভাবে ভারতের নাগরিক হিসেবে গণ্য হবেন। অপর দিকে ১৯৮৫ সালে ভারত সরকারের সঙ্গে আসাম আন্দোলনের নেতাদের মধ্যে সই হওয়া আসাম চুক্তি অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বা এর আগে যাঁরা আসামে প্রবেশ করেছেন, তাঁরা ভারতের নাগরিক হিসেবে গণ্য হবেন। কিন্তু নাগরিক হতে হলে তাঁদের সরকারের কাছে নাম নথিভুক্ত করাতে হবে।

বাবলু পাল ১৯৬৪ সালে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেন আর আসামে ১৯৮৪ সালে। আসামের ট্রাইব্যুনাল তাঁকে আসাম চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ অবস্থায় তাঁকে সন্দেহভাজন নাগরিকদের রাখার জন্য নির্মিত বন্দিশিবিরে যেতে হবে অথবা বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন জানাতে হবে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য।

কিন্তু বাবলুর মামলার সঙ্গে যুক্ত গুয়াহাটি হাইকোর্টের এক আইনজীবী বলেন, এই দুটিই অসম্ভব। কারণ, বাবলু আইন মোতাবেক নির্ধারিত তারিখের অনেক আগেই ভারতে ঢুকেছেন। এ কারণে তিনি ভারতের নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবেন। বাংলাদেশের তাঁকে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রশ্ন উঠছে না। কিন্তু আসামে যেহেতু বিদেশি চিহ্নিতকরণের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে, তাই একটি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। যেহেতু বাবলু ভারতে জন্মগ্রহণ করেননি, তাই তাঁকে রাতারাতি ভারতের নাগরিকত্ব দিতে পারছেন না হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে আদালত বলেন, সিএএ থাকার কারণে আবেদনকারীকে ভারতে বেআইনি অভিবাসী হিসেবেও চিহ্নিত করা যাবে না। সিএএ-তে বলা হয়, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, জৈন, পার্সি ও শিখ ধর্মাবলম্বীরা ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে এলে তাঁদের বেআইনি অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না।

এমন অবস্থায়, সিএএ–এর আওতায় ১৯৫৫ সালের আইনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে বাবলু পালকে পরামর্শ দিয়েছেন গুয়াহাটি হাইকোর্ট। তার মানে, সিএএ বাস্তবায়িত না হলেও নাগরিকত্ব পেতে আইনটি এখন ভারতে ব্যবহার করা যাবে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন