বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিএমসি ভোটে দলকে প্রাসঙ্গিক করে তুলতে এবার তাই উঠেপড়ে নেমেছেন রাজঠাকরে। সম্প্রতি তিনি হুমকি দিয়েছেন, মসজিদে মসজিদে মাইক বাজিয়ে আজান দেওয়া যাবে না। অবিলম্বে এই প্রথা বন্ধ করতে হবে। মসজিদে লাউডস্পিকার বন্ধ না হলে তিনিও লাউডস্পিকারে হনুমান চালিশা (হনুমান স্তব) শুরু করবেন বলে হুমকি দিয়েছেন।

জবরদস্তি দোকান বন্ধ করার হুকুমও দেওয়া হয়েছে বহু মাংস বিক্রেতাকে। তা নিয়ে অশান্তিও হয়েছে। বেশ বোঝা যাচ্ছে, আগামী বছরের মাঝামাঝি রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনের আগে গোটা রাজ্যে ধর্মীয় মেরুকরণের পথ প্রশস্ত করতে রাজ্যের শাসক বিজেপি তৎপর।

রাজঠাকরের বক্তব্য, তিনি মসজিদে নামাজের বিরুদ্ধে নন। যেকোনো ধর্মপ্রাণ মুসলমান তা করার অধিকারী। কিন্তু মাইকে আজান দেওয়া যাবে না। তাঁর যুক্তি, ইসলাম ধর্ম শুরুর সময় লাউডস্পিকার আবিষ্কার হয়নি। মাইকের তীব্র আওয়াজে শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ, পরীক্ষার্থীসহ বহু মানুষকে অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়।

রাজঠাকরের এই দাবি লুফে নিয়েছে বিজেপি। দক্ষিণপন্থী এই দলও রাজঠাকরের দাবি মেনে নিয়ে মাইক বন্ধের দাবি জানিয়েছে। দলের এক ধনী সদস্য এমন কথাও বলেছেন, যাঁরা হনুমান চালিশা শোনাতে আগ্রহী, তাঁদের তিনি বিনা মূল্যে লাউডস্পিকার দিতে প্রস্তুত।

হিজাব-হালাল বিতর্কের পাশাপাশি মসজিদে লাউডস্পিকারে আজান দেওয়ার বিষয়টি কর্ণাটকে ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন এ নিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি শুরু করেছে। রাজ্যের এক মন্ত্রীও আপত্তি জানিয়ে বলেছেন, মাইকের দাপটে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিজেপি শাসিত এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাই বলেন, লাউডস্পিকার নিয়ন্ত্রণে রাখা নিয়ে ২০২১ সালে কর্ণাটক হাইকোর্টের রায় বলবৎ করতে তিনি সচেষ্ট হবেন। সেই রায়ে ধ্বনির মাত্রা (ডেসিবল লিমিট) যেমন বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তেমনই দেওয়া আছে নানা বিধিনিষেধ।

কর্ণাটকে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু জেলায় হিন্দু মন্দির চত্বরের মধ্যে মুসলিমদের ব্যবসা বন্ধের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মন্দির এলাকার মেলায় মুসলিমরা ব্যবসায় অংশ নিতে পারবেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে পক্ষে–বিপক্ষে চলছে তুমুল বিতর্ক। সব মিলিয়ে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি থমথমে।

উত্তর ভারতে এই সময় পালিত হচ্ছে হিন্দু পার্বণ ‘নবরাত্রি’। ৯ দিনের এই উৎসবে বহু হিন্দু আমিষ ভক্ষণের পাশাপাশি নানান ধরনের সংযম ও কৃচ্ছ্রসাধন করে থাকেন। নবরাত্রি উপলক্ষে হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি রাজধানী দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায়ও মাছ-মাংসের দোকান বন্ধ রাখার এক প্রবণতা চালু আছে। ইদানীং তা কোথাও কোথাও জবরদস্তি বলবৎ করা হচ্ছে।

দক্ষিণ দিল্লি পৌরসভার কর্তাদের অলিখিত আদেশে রাজধানীর মাছ-মাংসের বহু দোকান ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখা হচ্ছে। অথচ আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো নির্দেশনা জারি হয়নি। সম্প্রতি পাঁচ রাজ্যের ভোটের পর বিজেপিশাসিত কয়েকটি রাজ্যের পৌরসভার পক্ষ থেকে রাস্তায় ঠেলায় করে কাবাব বা ডিম-মাংসের রোলের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। দেশের উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ আমিষ বিক্রেতা মুসলমান ধর্মাবলম্বী। উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের রোষাগ্নিতে তাঁদের জীবিকা ঘিরে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন