বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওই নেতা বলেন, যে দল জিতবে বলে সবাই ধরে নেয়, সেই দলের ওপর সব সময় একটা বাড়তি চাপ থাকে। কিছুটা অকল্পনীয়ভাবে নন্দীগ্রামে তৃণমূল নেত্রী হেরে গিয়েছিলেন, আর তাতেও চাপ বেড়েছে অনেকটাই। এ ছাড়া মমতাকে এখন শুধু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নয়, দেশের প্রথম সারির নেতাদের মধ্যে প্রথম বলে প্রচার করা হচ্ছে। এই অবস্থায় ছয় মাসের মধ্যে দুবার হেরে গেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সর্বভারতীয় ভাবমূর্তি ভালো রকম ধাক্কা খাবে।

তবে ভবানীপুরে হেরে গেলেও মমতা যে বিরাট বিপদে পড়বেন তা নয়, কারণ, রাজ্যের আরও চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে আগামী ৩০ অক্টোবর উপনির্বাচন ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ভবানীপুরে হেরে গেলে তার একটি থেকে লড়তে পারেন মমতা। তবে সে ক্ষেত্রে তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপি যে মমতা ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক প্রচার করার সুযোগ পেয়ে যাবে, তা বলাই বাহুল্য।

বস্তুত ভবানীপুরে বিজেপির কম বয়সী প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল বেশ আক্রমণাত্মক প্রচার করেছেন। বিজেপির প্রথম সারির নেতা-মন্ত্রীরা দিল্লি থেকে না এলেও, মাঝারি মাপের নেতা-নেত্রীদের দিল্লি থেকে এনেছে বিজেপি। আর তাঁদের নিয়ে সারাক্ষণ ভবানীপুরে মাটি কামড়ে পড়ে থেকে প্রচার চালিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। কোনো সময়ে তাঁরা এক মৃত বিজেপি কর্মীর দেহ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাসার কাছে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে পুলিশের হাতে মার খেয়েছেন, আবার কখনো–বা দলের সাবেক রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে এলাকায় প্রচার চালানোর সময় তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে বিজেপির কর্মীদের ভালো রকম মারপিট হয়েছে। এসবই প্রচার পেয়েছে। ফলে প্রিয়াঙ্কার প্রচার যে খুব খারাপ হয়েছে এমনটা বলা যাবে না। এসব কারণেই এই লড়াইয়ে তাদের একটা ভালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিজেপির রাজ্যস্তরের নেতৃত্ব মনে করছে।

তারপরও বিজেপির সম্ভাবনা কম। এলাকার প্রায় ১৭০ বুথে তৃণমূল কংগ্রেস সংগঠনকে বিরাটভাবে মাঠে নামিয়েছে। নিশ্চিতভাবেই তৃণমূলের যাঁরা ভোটার, তাঁদের বাড়ি থেকে আনা, ভোট দেওয়ানো এবং তারপর বাড়ি পৌঁছানোর দিকে নজর রেখেছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। বিশেষ করে দুই দিন ধরে লাগাতার বৃষ্টির কারণে যাতে ভোটারের সংখ্যা কমে না যায়, সেদিকে বিশেষভাবে নজর রাখছে তৃণমূল। পৃথকভাবে নির্বাচন কমিশনও নৌকার বন্দোবস্ত করেছে ভোটারদের বাড়ি থেকে এনে ভোট দেওয়ানোর জন্য।

তৃণমূলের এই কর্মকাণ্ডের মাথায় রয়েছেন দলের মন্ত্রী ও কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। তাঁর ওপর রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তারও ওপরে দলের সভানেত্রী। মমতার ভোট-কৌশলী প্রশান্ত কিশোর বিহারের মানুষ হলেও ভবানীপুরে ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করেছেন। অতএব আজ মাঠে থাকছেন তিনিও। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে কলকাতা পৌরসভার আটটি ওয়ার্ড রয়েছে, এর প্রতিটির দায়িত্বে রয়েছেন একজন জ্যেষ্ঠ নেতা। তাঁর নিচে অসংখ্য নেতা, সাধারণ কর্মী। বিজেপির পক্ষে এত লোক জোগাড় করা যে অসম্ভব, দলের নেতারা ব্যক্তিগত স্তরে তা স্বীকার করছেন।

এই বিরাট লোকবল থাকার কারণে তৃণমূল যাতে নিয়মবহির্ভূতভাবে কোনো কাজ করতে না পারে, তা দেখার জন্য ১৫ কোম্পানি (প্রায় ২০০০) আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে, যার অর্থ পাঁচজনের বেশি জমায়েত হতে দেওয়া হবে না। সিপিআইএম (কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া মার্ক্সিস্ট) দলের অল্পবয়স্ক আইনজীবী শ্রীজীব বিশ্বাস প্রার্থী হয়েছেন। তিনিও মোটামুটি বেশ ভালোই প্রচার করেছেন।

আজ মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর ও সামশেরগঞ্জেও ভোট হবে। তবে এই দুই আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের জয় প্রায় শতভাগ নিশ্চিত। এই পর্যায়ের এক মাস পর ৩০ অক্টোবর কোচবিহার জেলার দিনহাটা, নদীয়ার শান্তিপুর, উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহ ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন