বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এলএসি বরাবর চুসুল-মলডোয় চীনা ঘাঁটিতে রোববার ভারত-চীন সেনা পর্যায়ের ত্রয়োদশ পর্বের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। দুই দেশের সেনাদের মধ্যে শেষ বৈঠক হয়েছিল দুই মাসের বেশি সময় আগে। সেই বৈঠকে গোগরায় সেনা সরানো নিয়ে দুই দেশ ঐকমত্যে পৌঁছেছিল। কিন্তু ত্রয়োদশ বৈঠকে কোনো সমাধানে দুই দেশ পৌঁছাতে পারেনি। এ জন্য দুই পক্ষই একে অন্যকে দোষারোপ করছে। ব্যর্থ বৈঠকের পর ভারতীয় সেনাদের পক্ষে যে বিবৃতি প্রচার করা হয়, তাতে চীনের অনমনীয় মনোভাবকে সরাসরি দায়ী করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ভারত বেশ কিছু ‘গঠনমূলক প্রস্তাব’ দিয়েছিল। কিন্তু চীন একটাও মানেনি। চীনা কর্তৃপক্ষ নিজে থেকে কোনো প্রস্তাবও রাখেনি। ফলে বৈঠক ফলপ্রসূ হতে পারেনি। তবে তা না হলেও দুই পক্ষ এলএসি বরাবর স্থিতাবস্থা ও শান্তি বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্বার্থে চীন সমস্যা মেটাতে সচেষ্ট হবে বলে আমাদের আশা। আরও আশা করছি, দুই দেশের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে, তা তারা মেনে চলবে।’

ত্রয়োদশ বৈঠকের আগে ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নরবানে বলেছিলেন, চীন এলএসির ওপারে সেনা না সরালে ভারতও সেনা সরাবে না। বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার ফলে ভারতও সেনাদের সতর্ক থাকার ওপর জোর দিয়েছে। ভারতীয় বাহিনীর ধারণা, এলএসিতে চীন ৬০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি ভারতের সেনাসংখ্যাও ৫০-৬০ হাজারের মতো। এলএসি বরাবর যেসব সেক্টরে ভারত অবকাঠামো তৈরির কাজ করছে, তা দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দিয়েছে।

ভারত সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আফগানিস্তানে ক্ষমতার পালাবদলের পর চীনের মনোভাবের পরিবর্তন ঘটেছে কি না, কেন চীন এলএসি নিয়ে এতখানি অনড়, কেন নিরাপদ দূরত্বে সেনা সরানোর প্রস্তাবে গা করছে না, ভারত তা বোঝার চেষ্টা করছে।
বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার কারণে চীন অবশ্য ভারতকে দায়ী করেছে। চীনের সেনারদের ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড এক বিবৃতি দাবি করেছে, ‘ভারত অযৌক্তিক ও অবাস্তব দাবিতে অনড় ছিল, যার কারণে বোঝাপড়ায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য চীন প্রচণ্ড চেষ্টা চালাচ্ছে। এই বিষয়ে চীন যথেষ্ট আন্তরিক।’

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন