বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, মেলার নজরদারির জন্য নতুন করে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান হবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় এবং সদস্যসচিব হবেন পশ্চিমবঙ্গের লিগ্যাল এইড সার্ভিসের একজন সচিব।
আদালত তাঁর নির্দেশনায় বলেছেন, যদি এই কমিটি মনে করেন, মেলায় হাইকোর্টের শর্ত মানা হচ্ছে না, তবে ওই কমিটি মেলা বন্ধের নির্দেশ দিতে পারবেন। শুধু তা-ই নয়, মেলায় তাঁরাই প্রবেশ করতে পারবেন, যাঁরা করোনার দুটি টিকা নিয়েছেন এবং ৭২ ঘণ্টা আগে আরটিপিসিআর পরীক্ষার নেগেটিভ রিপোর্ট পেয়েছেন।

এর আগে মেলা বন্ধের দাবিতে চিকিৎসক অভিনন্দন মণ্ডল কলকাতা হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। ওই মামলার শুনানি হয় গত শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও বিচারপতি কেশাং ডোমার সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চে। মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্য সরকারের তরফ থেকে মেলার বিষয়ে হলফনামা নেন। এরপর কলকাতা হাইকোর্ট শর্তসাপেক্ষে মেলার অনুমতি দেন।

সেদিন আদালত বলেন, করোনা বিধি মেনে করতে হবে সাগর মেলা। মানতে হবে সামাজিক দূরত্ব। মাস্ক পরতে হবে সবাইকে। মেলার বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা ধর্মসভায় রাজ্য সরকারের নির্দেশ মেনে ৫০ জনের বেশি জড়ো হতে পারবে না। জমায়েত যাতে না হয়, সেই লক্ষ্যে রাজ্যের মুখ্য সচিবকে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে সতর্ক করতে হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাগরদ্বীপকে ‘নোটিফাইড জোন’ ঘোষণা করতে হবে।

একই দিন রাজ্য সরকার এবং কলকাতা হাইকোর্টের শর্ত পালিত হচ্ছে কি না, তা দেখতে রাজ্যের মুখ্য সচিবকে নিয়ে তিন সদস্যের একটি নজরদারি কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেন আদালত। এতে বলা হয়, এই কমিটিতে থাকবেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা এবং রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অথবা তাঁর প্রতিনিধি। আদালতের এই সিদ্ধান্তে দ্বিমত পোষণ করে রাজ্যের শাসক দল। কারণ, ওই দিন সদস্যের কমিটিতে রাখা হয় বিজেপি বিধায়ক ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে।

আদালতের ওই সিদ্ধান্তের পর কলকাতা হাইকোর্টে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হয়। আবেদনে বলা হয়, কমিটিতে কোনো চিকিৎসককে রাখা হয়নি। বরং বিরোধীদলীয় নেতাকে রাখা হয়েছে। রাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দুর নাম বাতিলের দাবিতে আরও পাঁচটি মামলা হয়। সেই সব মামলাকে একত্র করে গতকাল কলকাতা হাইকোর্টে শুনানি হয় তিন সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চে। শুনানির পর আজ রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে কমিটি থেকে বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে বাদ দেওয়া হয়।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ১৮ হাজার ২১৩ জন। আর মারা গেছেন ১৮ জন। গত ২৯ ডিসেম্বর এই রাজ্যে সংক্রমণের সংখ্যা ছিল এক হাজারের কিছু বেশি। মাত্র ৯ দিনের মাথায় গতকাল সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ২১৩। এর মধ্যে কলকাতায় সংক্রমণের সংখ্যা ৭ হাজার ৪৮৪। এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৯ হাজার ৮৬৪ জনের।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন