default-image


ভারতে কৃষক আন্দোলনের সমর্থনকারী পরিবেশকর্মী দিশা রবি এবার দিল্লি হাইকোর্টের দারস্থ হলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত কথাবার্তাসহ তদন্ত চলাকালে প্রাপ্ত তথ্য যাতে গণমাধ্যমে না আসে, সে ব্যাপারে পুলিশকে নির্দেশ দিতে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন জানালেন ওই পরিবেশকর্মী। একই সঙ্গে তিনি বেসরকারি তিনটি টিভি চ্যানেল যাতে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপের কথোপথনকে ব্যবহার করে সংবাদ প্রচার না করতে পারে সে ব্যাপারেও নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার এনডিটিভির খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

বেঙ্গালুরুর কলেজছাত্রী পরিবেশ আন্দোলনকর্মী দিশা কৃষক আন্দোলনের সমর্থক। আন্তর্জাতিক পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ ভারতে চলমান কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে এক টুইটের সঙ্গে আন্দোলনের কর্মসূচি সম্পর্কিত এক ‘টুলকিট’ বা নির্দেশিকাজুড়ে দিয়েছিলেন। দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, সেই টুলকিটের সঙ্গে পাঞ্জাবের বিচ্ছিন্নতাবাদী ‘খলিস্তানিদের’ যোগাযোগ রয়েছে এবং সেটি গ্রেটাকে দিয়েছিলেন দিশাই। দেশদ্রোহিতার অভিযোগে দিল্লি পুলিশ ১৩ ফেব্রুয়ারি  বেঙ্গালুরু থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পরের দিন দিল্লি নিয়ে আসে। দিল্লির পাটিয়ালা হাউস আদালত তাঁকে পাঁচ দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে পাঠায়।


দিশা আজ দিল্লি হাইকোর্টের কাছে আবেদন জানান, পুলিশ যেন তাঁর ব্যক্তিগত আলাপচারিতার কোনো অংশসহ তদন্তের কোনো তথ্য–উপাত্ত গণমাধ্যমের কাছে তুলে না দেয়। পুলিশে ট্রানজিট রিমান্ডের অনুমতি পায়নি এবং আইনজীবীর সঙ্গে তাঁকে পরার্মশ করার অনুমিত দেয়নি পুলিশ। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো তাঁর রিমান্ড শুনানির খবর ফলাও করে গণমাধ্যমগুলো প্রচার করে, সেখানে দেখা যায় তাঁর আইনজীবীর চেয়ে অনেকে বেশি জানে গণমাধ্যমগুলো।


দিশা টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ ১৮, ইন্ডিয়া টুডে ও টাইমস নাও–এর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেন। কেবল টিভি নেটওয়ার্ক আইন ভঙ্গ করে এই তিন প্রতিষ্ঠান তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত কথাবার্তা প্রচার করেছে বলে অভিযোগ আনা হয়। দিশা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা অধিকার ও সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার অধিকার ভঙ্গের অভিযোগে এই তিন চ্যানেলের বিরুদ্ধে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যথোপযোক্ত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন
default-image

বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত যাতে কোনো বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল তাঁর হোয়াটসঅ্যাপের ব্যক্তিগত কথোপকথন বা বার্তা প্রচার করতে না পারে সেই নির্দেশনা চাওয়া হয়। একই সঙ্গে দিশা দাবি করেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি দিল্লি পুলিশের সাইবার সেলের একটি টিম তাঁকে বেঙ্গালুরুর থেকে গ্রেপ্তার করে, যা ‘পুরোপুরি বেআইনি ও ভিত্তিহীন’।
দিশা দাবি করেন, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য গণমাধ্যমে আসা স্পষ্টত অবৈধ। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সুনাম ক্ষুণ্ন করে। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে অপরাধী করে তোলা হয়, যা বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে। এর মধ্য দিয়ে দিল্লি পুলিশ সংবিধানের ২১ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি তাঁকে জনসাধারণের কাছে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই অপরাধী করে তুলছে।

আদালতে কে এস পুট্টাস্বামী বনাম ভারত সরকারের মালায় রায়ের প্রসঙ্গটি টানেন দিশা। রায়ে বলা হয়েছিল, কোনো ব্যক্তি ফোনে কী বলেছেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। সংবিধানের ২১ নম্বর ধারা অনুযায়ী নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘন করা যায় না।
আরও একটি উদাহরণ দিয়ে দিশা বলেন, সুব্রহ্মণ্যম স্বামী বনাম ভারত সরকার মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, প্রত্যেকেরই সম্মান আছে। তা নাগরিকের মৌলিক অধিকার।

দিশার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি পুলিশ ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ‘এটি ‘গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে করা আবেদন।’ তিনি পুলিশের পক্ষ থেকে আর কোনো তথ্য ফাঁস হবে না বলে আশ্বাস দেন। আর আদালত টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রতি নোটিশ জারি করেছে, যা কাল শুনানি হবে।

দিশাকে গ্রেপ্তারের পরই দিল্লি পুলিশের নজরে পড়ে আরও দুই সমাজকর্মী নিকিতা জেকব ও শান্তনু। গত মঙ্গলবার শান্তনুকে ১০ দিনের শর্ত সাপেক্ষে জামিন দেন আদালত। আর গতকাল বুধবার নিকিতাকে তিন সপ্তাহের জন্য শর্ত সাপেক্ষে জামিন দেন মুম্বাই হাইকোর্ট। নিকিতার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে দিল্লি পুলিশ। এরপরই আগাম জামিনের আরজি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন ওই সমাজকর্মী। ২৫ হাজার টাকার মুচলেকায় নিকিতার তিন সপ্তাহের আগাম জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪(এ), ১৫৩(এ), ১২০(বি) ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে নিকিতাকে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন