দিল্লিজুড়ে পোস্টার পড়েছে ‘মোদি হটাও, দেশ বাঁচাও’। দিল্লি পুলিশের নতুন কাজ সেই পোস্টার সরানো এবং এফআইআর দাখিল করা। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল থেকে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত এসব পোস্টার দিল্লি পুলিশের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পোস্টার–কাণ্ডে শতাধিক এফআইআর দাখিলের পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে চারজনকে। উদ্ধার হয়েছে ২ হাজার পোস্টারের বান্ডিল।

অভিযোগের তির দিল্লির শাসক দল আম আদমি পার্টির (আপ) দিকে। আজ সকালেই আপ টুইট করে বলে, ‘মোদি সরকারের স্বৈরতন্ত্র চরমে পৌঁছেছে।’ লালের ওপর সাদা দিয়ে লেখা ওই পোস্টারের প্রতিলিপি দিয়ে টুইটে আপ জানতে চেয়েছে, ‘এই পোস্টারে আপত্তিকর কী এমন আছে যে মোদিজিকে ১০০টি এফআইআর করতে হয়? প্রধানমন্ত্রী মোদি, সম্ভবত আপনার জানা নেই, ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ। এক পোস্টারকে এত ভয়?’

দিল্লি পুলিশের দাবি, গতকাল আপ অফিসের কাছ থেকে একটি ডেলিভারি ভ্যান আটক করা হয়। তাতে নাকি বহু পোস্টার পাওয়া যায়। ভ্যানচালক নাকি বলেছেন, তাঁকে ওই পোস্টার আপ অফিসে দিয়ে আসতে বলা হয়েছিল। পুলিশের দাবি, ওই চালক নাকি বলেছেন, সোমবারেও তিনি আপ অফিসে পোস্টার দিয়ে এসেছেন।
পুলিশের আরও দাবি, যে দুই ছাপাখানায় ওই পোস্টার ছাপা হয়েছিল, তাদের মালিককে আটক করা হয়েছে। ৫০ হাজার ‘মোদি হটাও, দেশ বাঁচাও’ পোস্টার ছাপানোর বরাত ছাপাখানার মালিকদের নাকি দেওয়া হয়েছিল।

দিল্লি পুলিশ এফআইআর দাখিল করেছে প্রধানত তিনটি ‘অপরাধে’। একটি হলো যেখানে–সেখানে পোস্টার সেঁটে শহরের সৌন্দর্য নষ্টের অভিযোগে। দ্বিতীয়ত, ছাপা পোস্টারে প্রিন্টিং প্রেস ও কারা ছাপাচ্ছে, তার উল্লেখ না থাকা। তৃতীয়ত, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করা। পোস্টার সরিয়ে দেওয়ার কারণও এই তিনটি।

দিল্লি পুলিশের বিশেষ কমিশনার দীপেন্দ্র পাঠক বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেছেন, প্রিন্টিং প্রেস এবং সম্পত্তির ক্ষতিসাধন বিরোধী দুই আইন ও শহরের সৌন্দর্যহানির অভিযোগে একাধিক মামলায় এফআইআর দাখিল করা হয়েছে।

দিল্লি বিজেপির মুখপাত্র হরিশ খুরানা আজ বলেন, আপের সাহস পর্যন্ত নেই যে তারাই ওই পোস্টার মেরেছে, তা স্বীকারের। পোস্টার সেঁটে তারা আইন ভেঙেছে।

অন্যদিকে আপ নেতৃত্ব বলেছেন, পোস্টারের দাবি গণতান্ত্রিক। পুলিশের ‘অগণতান্ত্রিক’ আচরণের প্রতিবাদে ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অপসারণের দাবিতে তাঁরা আন্দোলনে শামিল হবেন।