সমাবেশে নিজ দলের নেতা–কর্মীদের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে তদন্ত করানোর বিরোধিতা করেন মমতা। তবে আজই কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের জেরা করার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন যুব-কংগ্রেসের সভানেত্রী এবং কেন্দ্রের ক্রীড়ামন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাম ফ্রন্টের প্রশাসনিক সদর দপ্তর রাইটার্স বিল্ডিংয়ে বিক্ষোভ অভিযান করেন। সেদিন বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি চালালে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। তৃণমূল কংগ্রেস ১৯৯৮ সালে গঠিত হলেও এই দিনটিকেই শহীদ দিবস হিসেবে পালন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাধারণত এই দিনে মমতা দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটা ইঙ্গিত দেন। করোনার কারণে গত দুই বছর এই গণসমাবেশ ভার্চ্যুয়ালি হয়েছিল। তাই এবার এই সভা নিয়ে নেতা–কর্মীদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে।
সমাবেশে মমতা বলেন, ‘২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না আমি তা চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি। আর তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেই অন্য সব দল এক হয়ে যাবে।’

এই লক্ষ্যে বিরোধী দলগুলোকে নিজেদের মতো করে বিজেপিকে হারানোর চেষ্টা চালানোর পরামর্শ দিয়ে মমতা বলেন, রাজ্যে রাজ্যে বিজেপি হারলে তারা কেন্দ্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে এবং তখন বিকল্প সরকার গড়তে কোনো সমস্যা হবে না।
নির্বাচনের আগে বিরোধীরা এক হয়ে একটি অ-বিজেপি জোট গঠনের যে কথাবার্তা এখনো চলছে, তা নিয়ে কথা বলেননি মমতা। আগামী ৬ আগস্ট উপরাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস কাকে সমর্থন করবে—এ নিয়েও মুখ খোলেননি মমতা। বিষয়টিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। অনেকে মনে করছেন, এই জোট তৈরি হওয়ার অবস্থা আর নেই, যে কারণে বিজেপিকে হারানোর সম্ভাবনাও কম।

তৃণমূলের নাম করে কেউ টাকা তুললে তা থানায় জানানোর পরামর্শ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিপিআইএম (কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া মার্ক্সিস্ট) বারবার তাঁর দলের নেতাদের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ আদালতসহ বিভিন্ন জায়গায় তোলার কারণে মমতা যে অসন্তুষ্ট, তা–ও তাঁর ভাষণে উঠে আসে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন