বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণে বিএসএফকে জমি বুঝিয়ে দিতে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নির্বাচনের ঠিক আগে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে সীমান্তের ৯টি জেলায় অধিগ্রহণ করা সব জমি আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে তুলে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতের কড়া অবস্থান
আদালত জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো প্রশাসনিক বা নির্বাচনী অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না। রাজ্যের পক্ষ থেকে ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) বা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের কাজের কারণে বিলম্বের যে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, তা খারিজ করে দেন আদালত।
কলকাতা হাইকোর্ট বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি প্রশাসনিক কাজের জন্য আটকে রাখা যায় না। তবে এই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার অবশ্যই সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারে।
জনস্বার্থ মামলা
সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুব্রত সাহার দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার (পিআইএল) ভিত্তিতে আদালত এই নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আবেদনে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ২ হাজার ২১৬ কিলোমিটার সীমান্তের একটা অংশ, যা মোট সীমান্তের প্রায় ২৬ শতাংশ, তা এখনো বেড়াহীন। ফলে অনুপ্রবেশ, গরু ও সোনা পাচার এবং জাল নোটের কারবার বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার জমি অধিগ্রহণের টাকা আগেই দিয়ে দিলেও প্রয়োজনীয় ২৩৫ কিলোমিটারের মধ্যে মাত্র ৭১ কিলোমিটার জমি বিএসএফকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নির্দেশের মূল বিন্দু
আদালত জমিগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, অধিগ্রহণ শেষ হওয়া জমি অর্থাৎ যে জমিতে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে, তা ৩১ মার্চের মধ্যে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। দ্বিতীয়ত, যেসব জমিতে অধিগ্রহণ চলছে, সেই প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করে প্রতিবেদন দিতে হবে। প্রয়োজনে জাতীয় স্বার্থে সরাসরি জমি দখলের জন্য বিশেষ আইন প্রয়োগের বিষয়টিকে বিবেচনায় আনা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই নির্দেশ ঘিরে রাজ্যে রাজনৈতিক উতোরচাপান শুরু হয়েছে। বিজেপি এই রায়কে ‘জাতীয় নিরাপত্তার জয়’ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সব সময়ই সীমান্ত সুরক্ষার পক্ষে। তবে জমির মালিকদের সঠিক ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আগামী এপ্রিলে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ওই দিন রাজ্য সরকারকে এই কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে হলফনামা জমা দিতে হবে।