ত্রিপুরায় গান্ধী পরিবার ও রাজপরিবারই কি বিজেপিকে জেতাল

কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট জোট ভোটে কতটা কাজ করেছে, তা নিয়ে সন্দেহ। কারণ, রাহুল প্রচারে আসেননি। অন্যদিকে তিপ্রা মথার প্রধান ব্যাপক প্রচারে ছিলেন। দুটি বিষয় বিজেপিকে সুবিধা দিয়েছে।

ত্রিপুরার নির্বাচনে বামফ্রন্টের ভোট কেটেছে তিপ্রা মথা
ফাইল ছবি

উত্তর-পূর্ব ভারতের তিন রাজ্যের মধ্যে ত্রিপুরার নির্বাচন নিয়ে খানিকটা আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। কারণ, সেখানে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস আসন সমঝোতা করে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে লড়েছিল। এই জোট রাজ্যে কী ফলাফল করে, কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে তারা হারাতে পারবে কি না, সেই দিকে পর্যবেক্ষকদের নজর ছিল।

তারা বিজেপিকে হারাতে পারেনি। রাজ্যে ফল ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক বিশ্লেষণে কংগ্রেস–বামফ্রন্টের হারের যেসব কারণ সামনে এসেছে, তার মধ্যে দুটিকে বড় করে দেখা হচ্ছে। ত্রিপুরার অনেকেও এই দুটি কারণকে ফলাফলের অন্যতম প্রভাবক হিসেবে মানছেন।

এই দুটির মধ্যে প্রথমটি ত্রিপুরা নির্বাচনে একজনের অনুপস্থিতি, আর দ্বিতীয়টি আরেকজনের খুব বেশি মাত্রায় উপস্থিতি। এই দুই বিষয়ের বিশ্লেষণে যাওয়ার আগে পরিসংখ্যানের দিকটা একবার দেখে নেওয়া যাক।

ত্রিপুরা রাজ্যের সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনের তুলনায় প্রধান দুই দল বিজেপি ও সিপিআইএমের (কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া—মার্ক্সবাদী) ভোট ও আসন দুটিই কমেছে। অন্যদিকে সামান্য লাভ হয়েছে কংগ্রেসের। আর অবিশ্বাস্য লাভ ও উত্থান হয়েছে রাজপরিবারের সন্তান প্রদ্যোত দেববর্মণের নতুন দল তিপ্রা মথার। তিপ্রার প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে বিজেপি ও সিপিআইএমের ক্ষতির ওপরে চোখ বোলানো যাক।

২০১৮ সালে ৩৬টি আসন ও সাড়ে ৪৩ শতাংশ ভোট পাওয়া বিজেপির আসন এবার চারটি কমে হয়েছে ৩২ এবং ভোট ৩৯ শতাংশের সামান্য কম। এবার তাদের চারটি আসন কমার পাশাপাশি ভোট কমেছে সাড়ে ৪ শতাংশ। তাদের জোটসঙ্গী উপজাতীয় দল ইন্ডিজিনাস ফ্রন্ট অব ত্রিপুরার (আইপিএফটি) ভোট কমেছে ৬ শতাংশ এবং আসন ৮ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১টিতে। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থাৎ বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন ত্রিপুরার মানুষ। যে কারণে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজনীয় ৩১ আসনের চেয়ে মাত্র ১টি অর্থাৎ এককভাবে ৩২টি আসন পেয়েছে বিজেপি।

বিজেপির খারাপ করার পেছনে নানা ব্যাখ্যা রয়েছে—যেমন পূর্ববর্তী মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লবকুমার দেবের প্রশাসনিক গাফিলতি ও বিশৃঙ্খলতা থেকে গভীর দুর্নীতি ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। বিপ্লবকে নিয়ে নানা বিতর্কের কারণে নির্বাচনের আগে মনে হয়েছিল, বাম-কংগ্রেস জোটের জেতার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনাকে তারা ভোটে পরিণত করতে পারেনি।

অন্যদিকে সিপিআইএমের ভোট ২০১৮ সালে ৪২ শতাংশ থেকে কমে ২৪ শতাংশে ঠেকেছে। বামফ্রন্টের ভোট ৪৪ শতাংশ থেকে কমে ২৬ দশমিক ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আপাতদৃষ্টে ২০২৩ সালে ত্রিপুরা রাজ্যে ২০১৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে বলে মনে করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জয়ন্ত ভট্টাচার্য।

পশ্চিমবঙ্গে সেবার বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের মধ্যে আসন সমঝোতা হয়েছিল। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, ২০১১ সালের তুলনায় সিপিআইএমের ভোট ১০ শতাংশ কমে গেছে। অন্যদিকে কংগ্রেসের ভোট বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ।

ত্রিপুরায়ও দেখা যাচ্ছে, বাম দলগুলোর ভোট কমলেও কংগ্রেসের ভোট বেড়েছে। কংগ্রেসের ভোট ১ দশমিক ৮০ (২০১৮) থেকে বেড়ে সাড়ে ৮ শতাংশ হয়েছে। পাঁচ বছর আগে রাজ্য বিধানসভায় কংগ্রেস কোনো আসনই পায়নি, এবার জিতেছে তিনটি আসনে। পশ্চিমবঙ্গের মতোই ত্রিপুরা থেকে একটা ধারণা করা যেতে পরে, বামদের ভোট কিছুটা কংগ্রেসে গেলেও কংগ্রেসের ভোট বামদের ঝুলিতে না যায়নি, গেছে বিজেপিতে।

জোট কতটা কাজ করেছে

সাংবাদিক জয়ন্ত ভট্টাচার্য বলছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে এই জোট সমীক্ষা কাজ না করার পরও আবার কেন ত্রিপুরায় একই নমুনায় জোট করা হলো, তা নিয়ে দলের ভেতরে প্রশ্ন উঠবেই।

জয়ন্তের বক্তব্যের সঙ্গে ত্রিপুরার আরেক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সম্পাদক প্রদীপ দত্ত ভৌমিকও মোটামুটি একমত। তিনি বলেন, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, এই ভোটে জোট কাজ করেনি। আসন ধরে ধরে বিশ্লেষণ করলে আরও নির্দিষ্টভাবে বলা যাবে, দুই দল একের ভোট অন্যকে ‘ট্রান্সফার’ করতে পেরেছে কি না।

নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে বামফ্রন্টের সাংগঠনিক দুর্বলতা, বাস্তব অবস্থার ভিত্তিতে পরিস্থিতি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া, সেই সিদ্ধান্তকে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা, টাকাপয়সার অভাব—এ সবই বিপদে ফেলেছে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসকে। অবশ্য অস্বীকার করার উপায় নেই, ভারতের রাজনীতিতে এই কথাগুলো বলা সহজ, কিন্তু কার্যক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা কঠিন কাজই বটে। বিশেষত বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস—দুই পক্ষই যখন কেন্দ্র ও রাজ্য কোথাওই ক্ষমতায় নেই।

তবে ভোট ‘ট্রান্সফার’ হয়নি, কংগ্রেস ও বামফ্রন্টের নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা এই বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন। তাঁদের বক্তব্য ভিন্ন। তাঁরা মোটামুটি মনে করেন, ভোট ‘ট্রান্সফার’ হয়েছে, তবে যতটা মসৃণভাবে হওয়া উচিত ছিল, ততটা হয়তো হয়নি।

প্রচারে আসেননি রাহুল গান্ধী

বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের নেতা–কর্মীরা বরং ওই ‘অনুপস্থিত’ ফ্যাক্টরের ওপরে জোর দিলেন। রাহুল গান্ধী ত্রিপুরায় প্রচারে আসেননি। এতে বাম-কংগ্রেস জোটকে ‘অনৈতিক’ জোট বলে চিহ্নিত করতে বিজেপির সুবিধা হয়েছে। এমনকি কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব একটা বিবৃতি দিয়েও জোটকে সমর্থন দিতে বলেননি।

ত্রিপুরার একটি বামপন্থী সংবাদপত্রের এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বললেন, এটা সবাই জানেন, কংগ্রেস মানে গান্ধী পরিবার। কিন্তু তাঁরা যখন শেষ পর্যন্ত এলেন না বা একটা বিবৃতিও দিলেন না, তখন স্বাভাবিকভাবেই সেটা বিজেপির সুবিধা করে দিল।

জানুয়ারির শেষে ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ শেষ হওয়ার পরে কিছু সময় বাদ দিয়ে একটা বড় সময় ছুটি কাটিয়েছেন রাহুল গান্ধী। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি, ঠিক ত্রিপুরা নির্বাচনের সময়ে তিনি টুইটারে ছবি দিয়েছিলেন। ছবিতে দেখা গিয়েছিল, তিনি কাশ্মীরের গুলমার্গের রাস্তায় বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে বরফ নিয়ে খেলছেন। এসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে গোটা ভারতে ছড়িয়ে দিয়েছিল বিজেপি। ছবি ছড়িয়েছিল নির্বাচনী রাজ্য ত্রিপুরায়ও।

আর নির্বাচনের ফল বেরোনোর সময় রাহুল রয়েছেন যুক্তরাজ্যে। প্রচারমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, তিনি সেখানে ভারতের গণতন্ত্র নিয়ে ভাষণ দিচ্ছেন। কিন্তু উত্তর-পূর্ব ভারতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যখন চলছিল, তখন তিনি সেখানে পা রাখেননি—এই আক্ষেপ তাঁর দলের নেতা–কর্মীদের মধ্যেও আছে।

ত্রিপুরা রাজ্য কংগ্রেসের এক শীর্ষ নেতা বললেন, রাহুল গান্ধী নির্বাচনে প্রচার চালানোর পরও জোট হেরে গেলে তাঁকেই দোষারোপ করা হতো। বলা হতো, তিনি ত্রিপুরায় যথেষ্ট সময় দেননি বা অন্য কিছু। ফলে এ অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়।

তবে রাজ্য কংগ্রেসের নেতৃত্বের একাংশের বক্তব্য অন্য রকম। যেমন আরেক নেতা বললেন, নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনের ঠিক আগে পরপর দুবার এসেছেন এবং আগেও এসেছেন। অমিত শাহসহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার রাজ্যে এসেছেন এবং থেকেছেন, প্রচার করেছেন এবং সংগঠনের কাজ দেখেছেন। বামফ্রন্টের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশও রাজ্যে প্রচার করেছেন। কিন্তু রাহুল গান্ধী আসেননি। আপনি যতই ব্যাখ্যা দেন না কেন, শেষ পর্যন্ত এ কথাটাই একটা তথ্য হয়ে থাকবে।

কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ত্রিপুরায় সম্পূর্ণ অপরিচিত কেন্দ্রীয় নেতা মুকুল ওয়াসনিক বা অলকা লাম্বাদের মতো অল্প বয়সী নেত্রীদের রাজ্যে পাঠিয়ে রাহুল গান্ধী স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, উত্তর-পূর্ব ভারতে নির্বাচনের মূল্য তাঁর ও কংগ্রেসের কাছে নেই।

অর্থাৎ, অনুপস্থিত থেকেও ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্ব ভারতের তিন রাজ্যেই একটি দলের মধ্যেই নির্বাচনী ইস্যু হয়ে গেছেন সাম্প্রতিক সময়ে গান্ধী পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা।

তিপ্রা মথার ব্যাপক প্রচার

ত্রিপুরা রাজপরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও রাহুলের বন্ধু প্রদ্যোত দেববর্মণ ইস্যু হয়ে গেছেন সারাক্ষণ উপস্থিত থেকে। অসুস্থ শরীরে তিনি প্রায় সারা রাজ্য চষে বেড়িয়েছেন, প্রচার চালিয়েছেন। এখন বলা হচ্ছে, তাঁর এই প্রবল প্রচার ও রাজ্যের ৬০টি আসনের মধ্যে ৪২টিতে প্রার্থী দেওয়ার কারণেই জিতে গেছে বিজেপি।

ত্রিপুরায় ৬০ আসনের মধ্যে ২০টি তফসিলি উপজাতি ও ১০টি তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত। বাকি ৩০ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত। তিপ্রা মথার দল যে ১৩ আসন পেয়েছে, তার মধ্যে ১২টিতে তাঁর প্রার্থীরা উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত আসন জয়ী হয়েছেন।

ত্রিপুরার রাজনীতির ওপর গভীর দৃষ্টি রাখেন, এমন ব্যক্তিরা বলছেন, ৪০ আসনে প্রদ্যোত দেববর্মণ প্রার্থী না দিলে সেখানে বিজেপিবিরোধী ভোট (অর্থাৎ জোটের ভোট) কাটত না। অনুপ্রজাতিদের জন্য যেসব আসন রয়েছে, সেখানেও ১০-৩০ শতাংশ উপজাতি ভোট রয়েছে। তাঁরাই বাম–কংগ্রেস জোটকে ভোট না দিয়ে তিপ্রা মথাকে ভোট দিয়েছেন। দেখা যাচ্ছে, যে ব্যবধানে বাম-কংগ্রেস জোট হেরেছে, কমবেশি ১৫টি আসনে তার থেকে বেশি ভোট পেয়েছে তিপ্রা।

জয়ন্ত ভট্টাচার্য বলছেন, সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, উপজাতি সমাজের মধ্যে সিপিআইএমের বেশ ভোট রয়েছে। সংরক্ষিত আসনে এই ভোট তিপ্রা মথা পেয়েছেন। সেখানে সিপিআইএমের উপজাতীয় ভোটও তাঁদের ঝুলিতে গেছে। কিন্তু অনুপ্রজাতি অঞ্চলে উপজাতিদের যে ভোট ছিল, সেটা সিপিআইএমে না গিয়ে তিপ্রা মথায় যাওয়ার কারণে বিপদে পড়েছে জোট। এতে সুবিধা হয়েছে বিজেপির।

জয়ন্ত ভট্টাচার্য একটি উদাহরণও দিয়েছেন। বলেছেন, একেবারে দক্ষিণ ত্রিপুরার সাবরুম কেন্দ্রে সিপিআইএম দলের প্রার্থী রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী জয়। ওই কেন্দ্রে বেশ কয়েক হাজার উপজাতি ভোট রয়েছে। কিন্তু সেখানে প্রার্থী দেয়নি তিপ্রা মথা। ফলে ওই আসনের ৪০০ ভোটে জয়ী হয়েছেন চৌধুরী। বামফ্রন্ট নেতৃত্ব মনে হচ্ছে শুরুতে ভুল ধারণা করেছিল। নির্বাচনের আগে তারা ভেবেছিল, তিপ্রা মথা বিজেপির ভোট কাটবে। ফল ঘোষণার পর দেখা যাচ্ছে, তিপ্রা উল্টো বামফ্রন্টের ভোট কেটে বিজেপির সুবিধা করে দিয়েছে।

বহুদলীয় গণতন্ত্রে যেকোনো দলেরই যেকোনো আসনে প্রার্থী দেওয়ার অধিকার আছে। সুতরাং তিপ্রা মথা যেকোনো আসনে প্রার্থী দিতেই পারেন। তাঁর বিরুদ্ধে বলার কিছু নেই। তবে শুধু এটুকুই বলা যায়, যা নির্বাচনের আগে জিতেন্দ্র চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, তিপ্রা মথার সঙ্গে জোট হলে ভালোই হতো।

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরে চৌধুরীর এই বক্তব্যের গুরুত্ব আরও বেশি করে উপলব্ধি করছেন বাম-কংগ্রেস জোটের নেতা-সমর্থকেরা।

নির্বাচনে এককভাবে প্রয়োজনীয় আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। এ অবস্থায় আরও পাঁচ বছর বিধানসভায় বিরোধী বেঞ্চে বসতে হবে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের সদস্যদের।

২০২৪ সালের পরবর্তী পর্যায়ে ভারতে নরেন্দ্র মোদি হাওয়া এবং ত্রিপুরায় বিজেপির বিপরীতে দাঁড়িয়ে লড়াই করা যে সহজ হবে না, তা বোঝেন বাম–কংগ্রেসের নেতারা। নির্বাচনোত্তর আগরতলায় দাঁড়িয়ে তাঁরা স্বীকার করেন, বিজেপির বিশৃঙ্খলতা ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে যে সুযোগ তাদের সামনে এসেছিল, তা ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে না–ও আসতে পারে। কারণ, বিজেপির মতো দল অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের পরিবর্তন করবে।

ধরে নেওয়া যায়, সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা তাঁর পূর্বসূরি বিপ্লব দেবের ভুলের পুনরাবৃত্তি করবেন না। সে ক্ষেত্রে অন্যান্য রাজ্যের মতো ত্রিপুরায়ও বিরোধীদের কাজ আগামী দিনে আরও কঠিন হবে। ইতিমধ্যেই ত্রিপুরায় বিরোধীদের ব্যাপক মারধর শুরু হয়েছে।

এ অবস্থায় লড়াইয়ে টিকে থাকতে, বামফ্রন্ট কী নীতি গ্রহণ করবে, সেদিকে নজর থাকবে গোটা দেশের, বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের। এই রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর এক যুগ পরও এখনো পায়ের নিচের মাটি খুঁজে পায়নি সিপিআইএম ও বামফ্রন্ট।