পশ্চিমবঙ্গে কি বিজেপি ক্ষমতায় আসছে, কী বলছে বুথফেরত জরিপ

নরেন্দ্র মোদি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ফাইল ছবি

বুথফেরত সমীক্ষার ফল সত্যি হলে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে বিজেপি। আজ বুধবার প্রকাশিত কয়েকটি সংস্থার মধ্যে মাত্র দুটি তৃণমূল কংগ্রেসকে এগিয়ে রেখেছে। ছয়টি সংস্থা মত দিয়েছে বিজেপির পক্ষে। কয়েকটি সংস্থা জানিয়েছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার তারা তাদের সমীক্ষার ফল জানাবে। তবে প্রতিটি সমীক্ষাতেই রয়েছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত। ফলে চতুর্থবারের মতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নেবেন নাকি প্রথমবার বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন হয়ে অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গের অধীশ্বর হবে, তা গণনা শেষ না হলে জানা যাবে না। ৪ মে পর্যন্ত সাসপেন্স জারি থাকছে।

যদিও সমীক্ষার ফল আসার আগেই বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী সরকার গঠনের ঘোষণা করে দিয়েছেন। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর হাসিমুখে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আঙুলে ‘ভি’ চিহ্ন দেখিয়ে দলের জয় ঘোষণা করেছেন।

জনমত পোলস ও পিপলস পালস তৃণমূল কংগ্রেসের জয় ঘোষণা করেছে। এদের মধ্যে তৃণমূলকে সবচেয়ে বেশি আসন দিয়েছে জনমত পোলস, ১৯৫-২০৫। তাদের মতে, বিজেপি পাবে ৮০-৯০ আসন। পিপলস পালসের সমীক্ষাতেও তৃণমূল পাচ্ছে ১৭৭-১৮৭ আসন। বিজেপি ৯৫-১১০।

তবে বাকি সংস্থাগুলোর সবাই এগিয়ে রেখেছে বিজেপিকে। চাণক্য বিজেপিকে দিয়েছে ১৫০-১৬০, তৃণমূলকে ১৩০-১৪০; ম্যাট্রিজ বিজেপিকে দিয়েছে ১৪৬-১৬১, তৃণমূলকে ১২৫-১৪০; পোল ডায়েরি বিজেপিকে দিয়েছে ১৪৭-১৭৯, তৃণমূল ৯৯-১২৭; প্রজা পোল স্ট্র্যাটিজিসের মতে বিজেপি পাবে ১৭৮-২০৮ আসন, তৃণমূল ৮৫-১১০। পি মার্ক সংস্থাও অনেক দিন ধরে ভোট সমীক্ষা চালিয়ে আসছে। তারা বিজেপিকে ১৫০-১৭৬ আসন দিয়েছে, তৃণমূলকে ১১৮-১৩৮।

সর্বশেষ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল ২১৩ আসন, বিজেপি থেমেছিল ৭৭-এ।

পাঁচ বছর আগের নির্বাচনে কংগ্রেস ও সিপিএম একটিও আসন জেতেনি। এবার প্রায় সবাই ওই দুই দলকে ২-৫টি আসন দিচ্ছে।

এসব সমীক্ষার গড় হিসাব কষে এনডিটিভি পোল অব পোলস যা দেখাচ্ছে, তাতে পশ্চিমবঙ্গে ত্রিশঙ্কু বিধানসভা হতে চলেছে। অর্থাৎ কোনো দলই নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা পাচ্ছে না। হিসাবটি এ রকম, তৃণমূল পাচ্ছে ১৪৬, বিজেপি ১৪০, কংগ্রেস ২, সিপিএম ১ ও অন্যান্য ৫টি আসন।

আসাম নিয়ে অবশ্য কোনো সংস্থাই সংশয় প্রকাশ করেনি। সব সমীক্ষক সংস্থাই বলেছে আসামে বিজেপি আরেকবার ক্ষমতায় আসছে। কেউ কেউ মনে করছে, বিজেপি ১০০ আসন পর্যন্ত জিততে পারে। কংগ্রেসের আসন ১৮ থেকে ৩৪–এর মধ্যে থাকবে। আসাম বিধানসভার মোট আসন ১২৬। পাঁচ বছর আগেও বিজেপি রাজ্যে জয়ী হয়েছিল।

একইভাবে কেরালা রাজ্যেও পালাবদল নিয়ে প্রায় সবাই নিশ্চিত। সেখানে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ ক্ষমতা ছিনিয়ে নিতে চলেছে সিপিএম নেতৃত্বাধীন এলডিএফের কাছ থেকে।

তামিলনাড়ু নিয়েও সমীক্ষক দলগুলোর মধ্যে তেমন একটা পার্থক্য দেখা যায়নি। প্রায় সবাই একমত, ডিএমকে-কংগ্রেস জোট সেখানে আরও একবার ক্ষমতায় আসছে। একমাত্র ব্যতিক্রম অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া। এ সংস্থার সমীক্ষায় জয়ী হয়েছে সদ্য দল গড়ে ভোটে দাঁড়ানো তামিল অভিনেতা বিজয়ের দল টিভিকে। তাদের মতে টিভিকে ৯৮-১২০টি আসন পেতে পারে। ডিএমকে সেখানে পাবে ৯২-১১০টি আসন।

টিভিকে এই ভোটে ডিএমকে, এআইএডিএমকে অথবা বিজেপি কারও সঙ্গেই জোট বাঁধেনি। অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার সমীক্ষা সত্য প্রমাণিত হলে তামিলনাড়ুর রাজনীতি অন্য প্রবাহে বইবে।

তামিলনাড়ুর লাগোয়া পদুচেরিতে ক্ষমতাসীন ছিল এনআর কংগ্রেস। ৩০ আসনবিশিষ্ট বিধানসভায় কংগ্রেসকে হারিয়ে আবার ক্ষমতায় ফিরছে তারা।